আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ

চারজনের নামে মামলা

বরিশাল ব্যুরো
| শেষ পাতা

বরিশালে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে তার জমি বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে। ভয়ংকর এ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে নগরীর চকবাজারের প্রসিদ্ধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মৌসুমী এন্টারপ্রাইজের মালিক ওসমান হারুনের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে মৃতের ছেলে মোশতাক হোসেন রোববার বিকালে বরিশাল বিশেষ আদালতে ওসমান হারুনসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বিচারক মো. এনায়েত হোসেন অভিযোগ তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন। 

মোশতাক হোসেন বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন ব্র্যাক ব্যাংকের বরিশাল শাখার সহযোগী ব্যবস্থাপক মামুন শরীফ, মৌসুমী এন্টারপ্রাইজের মালিক ওসমান হারুন ও তার ভাই মুসা আরিফ এবং সদর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার আবু বক্কর সিদ্দিক।

মামলায় মোশতাক হোসেন অভিযোগ করেছেন, তার বড় ভাই সিরাজুল হকের সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী প্রতিবেশী ওসমান হারুনের সুসম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্কের সুবাদে ব্যাংক থেকে ঋণ তোলার জন্য তার বাবা শামসুল হকের কাছ থেকে ২০১২ সালের ৫ জুলাই আমানতগঞ্জ এলাকার এক খ- জমির আমমোক্তারনামা নেন ব্যবসায়ী ওসমান হারুন। পরে ওই জমি ব্যাংকে বন্ধক রেখে ১৫ লাখ টাকা ঋণ নেন তিনি (হারুন)। ঋণ পরিশোধের আগেই ২০১৩ সালের ১১ আগস্ট শামসুল হক মৃত্যুবরণ করেন। ২০১৪ সালের ৯ এপ্রিল ঋণ পরিশোধ হলে নিয়মানুযায়ী আমমোক্তারনামা বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু ব্যবসায়ী ওসমান হারুন শামসুল হকের মৃত্যুর তথ্য গোপন রেখে ২০১৪ সালের ৬ এপ্রিল আবারও ২২ লাখ টাকা ঋণ তোলেন।এবার আমমোক্তারনামা তৈরির জন্য কোনো এক ব্যক্তিকে সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দাঁড় করিয়ে শামসুল হক পরিচয়ে স্বাক্ষর জাল করা হয়। ঋণের টাকা পরিশোধ না হলে ব্যাংক বন্ধকী জমি নিলামে ডাকে। ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি সংবাদপত্রে নিলাম বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে সাড়ে ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের জমি ২৫ লাখ টাকায় নিলামে কেনেন ওসমান হারুনের ভাই মুসা আরিফ। মোশতাক হোসেন মামলায় অভিযোগ করেন, এসব প্রতারণা তাদের অজ্ঞাতেই হয়েছে। ৮ মে মুসা আরিফ নিলাম ক্রয়সূত্রে মালিকানা দাবি করে জমি দখল করতে গেলে তারা প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারেন।