আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

চাঁদপুর মৎস্য আড়ত

ইলিশের পাশাপাশি রপ্তানি হচ্ছে ডিমও

শওকত আলী, চাঁদপুর
| সুসংবাদ প্রতিদিন

ইলিশের রাজধানীখ্যাত চাঁদপুর মৎস্য আড়ত থেকে দেশ-বিদেশে রুপালি ইলিশ রপ্তানির পাশাপাশি প্রতিদিন ডিমও রপ্তানি হচ্ছে। ইলিশের ডিম প্রক্রিয়াজাত করে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম পাঠাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এ ডিম দেশ ছাড়িয়ে ভারত হয়ে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে বলে জানালেন মাছঘাটের কয়েক ব্যবসায়ী। এতে করে ব্যবসায়ীরা বেশি লাভবান হচ্ছেন। সরকার বাংলাদেশ থেকে সরাসরি রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় ইলিশের এসব ডিম ভারত হয়ে বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

সোমবার চাঁদপুরের মৎস্য আড়তগুলোয় গিয়ে দেখা গেছে, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ মণে মণে ক্রয় করে সে ইলিশ থেকে ডিম খুলে প্লাস্টিকের ছোট আকারের বক্সে করে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করছেন। তারা শত শত প্লাস্টিক বক্সে ইলিশের ডিম বেঁধে বড় কর্কসিটের মধ্যে একত্রিত করছেন। এরপর বরফজাত করে ট্রাকে করে চালান করা হয় ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামে। ইলিশের ডিম খুলে ফেলার পর ওই ইলিশ স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। এছাড়া ডিম খুলে ফেলা ইলিশকে লোনা ইলিশে রূপান্তিত করে তা সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। অনেক ব্যবসায়ী এসব লোনা ইলিশ মাটির নিচে অথবা মাটির মটকায় রাহি করে রাখেন। পরে তারা সে ইলিশ বৈশাখ মাসে চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে থাকেন।

চাঁদপুর মাছঘাটের ভাই ভাই আড়তের ব্যবসায়ী আবদুল আজিজ জানান, বড় সাইজের ইলিশের কেজি আড়াই হাজার টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশের ডিম। স্থানীয় ক্রেতারা ইলিশের ডিম না কিনলেও বিদেশে এর চাহিদা অনেক। তবে সরকার সরাসরি বিদেশে রপ্তানি বন্ধ রাখায় প্রথমে চট্টগ্রামে এ ডিম পাঠানো হয়। সেখানকার ব্যবসায়ীরা তা বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী জানান, শুধু ইলিশের ডিম নয়, ইলিশও চাঁদপুর থেকে সড়কপথে চট্টগ্রাম যাওয়ার সময় সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে চলে যায়। ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি বড় সিন্ডিকেট এ কাজ করে। চাঁদপুর মৎস্য আড়তে বর্তমানে বিপুল পরিমাণ ইলিশ এলেও তাদের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট দামেই তা বিক্রি হয়। এ কারণে সাধারণ মানুষ কম দামে ইলিশ কিনতে পারেন না। আর এজন্য অনেকেই সরকারি তত্ত্বাবধানে চাঁদপুরে মৎস্য বিপণন সেন্টার করার জন্য মতামত দিয়েছেন।
চাঁদপুর মৎস্য আড়ত থেকে ইলিশের ডিম রপ্তানি করে একমাত্র মেসার্স এএমএস ট্রেডার্স। বিদেশে ইলিশের ডিম রপ্তানি করা হয় কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাব দিতে রাজি নন ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। তবে তারা বলেন, আমরা চট্টগ্রামে পাঠাই। সেখান থেকে কোথায় পাঠানো হয়, তা বলতে পারব না।
মৎস্যজীবী নেতা তছলিম বেপারি জানান, মৎস্যঘাটের একাধিক ব্যবসায়ী প্রতি বছর ইলিশের ডিম বক্স করে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামে মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় পাঠান। সেখান থেকে এসব ডিম তাদের নির্ধারিত দেশের সঙ্গে কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে দেশি ও বিদেশি মোকামে পাঠানো হয়।