আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনে পর্যটক নিষিদ্ধের সুপারিশ

খুলনা ব্যুরো
| প্রথম পাতা

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আঁধার সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে পদক্ষেপ নিয়েছে বনবিভাগ। বন্যপ্রাণীর বংশবিস্তারে প্রজনন মৌসুম জুন থেকে আগস্ট এ তিন মাসে সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধের সুপারিশ করা হয়েছে। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ থেকে খুলনা অঞ্চলের প্রধান বন সংরক্ষক (সিএফ) বরাবর প্রেরিত এ প্রস্তাবটি সুপারিশ করে অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আগামী পর্যটক মৌসুমের আগেই এ সম্পর্কিত নির্দেশনা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মূলত পর্যটন অপারেটর ও ট্রাভেলস ট্যুরস কোম্পানিগুলোর আইনবিরোধী কার্যকলাপের কারণেই সুন্দরবনের অভ্যন্তরে বন্যপ্রাণী প্রজনন মৌসুমে পর্যটক প্রবেশ রোধের চিন্তা করে বনবিভাগ।

সূত্র মতে, বিশ্বের একমাত্র ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট নয়নাভিরাম সুন্দরবন রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা ও প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনে 
ষ ১ম পৃষ্ঠার পর
মায়া হরিণসহ অন্তত ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণির আবাসস্থল। দুর্লভ সব প্রাণির বংশ বিস্তার নির্বিঘœ করতে প্রজনন মৌসুমে পর্যটক নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ (বাগেরহাট) থেকে খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষকের মাধ্যমে প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) বরাবর প্রস্তাব পাঠানো হয় জুনে। বন্যপ্রাণির অবাধ বিচরণ ও বংশ বিস্তারের লক্ষ্যে বন বিভাগের সদর দপ্তরে পাঠানো এ প্রস্তাবটি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ বিভাগ।
বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. মদিনুল আহসান বলেন, প্রাণি প্রজনন সময়কালটা স্পর্শকাতর মুহূর্ত। বংশবিস্তার ও প্রাণি সুরক্ষায় ওই সময়টা নিরাপদ হওয়া জরুরি। এ জন্য বন্যপ্রাণি প্রজনন মৌসুমের তিন মাস সুন্দরবন অভ্যন্তরে গণপ্রবেশ না করাই উত্তম।
প্রস্তাবকারী পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বাংলাদেশ অংশে রয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা ও মায়া হরিণ, বিলুপ্ত প্রায় ইরাবতীসহ বিভিন্ন প্রজাতির ডলফিন, লোনা পানির কুমির, বন্য শূকর, উদ বিড়ালসহ ৩৭৫ প্রজাতির প্রাণি। 
২০০৪, ২০০৭, ২০১১ ও ২০১৫ সালের জরিপে দেখা গেছে, সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও হরিণসহ বন্যপ্রাণির আধিক্য এলাকাগুলোতেই পর্যটকরা ভ্রমণে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। জুন থেকে আগস্ট এ তিন মাস সুন্দরবনের টাইগার ও হরিণসহ বন্যপ্রাণির প্রজনন মৌসুম। পর্যটকদের কারণে বন্যপ্রাণির অবাধ বিচরণ ও প্রজননে বাধার সৃষ্টির ফলে বংশবিস্তারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ অবস্থায় প্রজনন মৌসুমের তিন মাস পর্যটন নিষিদ্ধ করার একটি প্রস্তাব খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মো. আমির হোসাইন চৌধুরীর কাছে জুন মাসে পাঠানো হয়।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মো. আমির হোসাইন চৌধুরী বলেন, বন্যপ্রাণি প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবন অভ্যন্তরে পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণার প্রস্তাবটি বন অধিদপ্তরে প্রেরণ করেছি। সুন্দরবন ও বন্যপ্রাণি সংরক্ষণের স্বার্থে বিষয়টির পজেটিভ সুপারিশ করেছি। আগামী পর্যটন মৌসুমের  আগেই মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা আসবে বলে আশা করছি।