আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বঙ্গোপসাগরে নিহত ৮ জেলের পরিবারে শোকের মাতম

বাগেরহাট প্রতিনিধি
| প্রথম পাতা

বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে ফিশিং ট্রলার ডুবে সলিল সমাধি হওয়া বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার আট জেলের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। বৃহস্পতিবার ভোররাতে সুন্দরবন উপকূলে ১ নম্বর ফেয়ারওয়ে বয়ার কাছে ঝড়ের কবলে পড়ে এফবি মারিয়া-১ নামের ট্রলারটি ডুবে যায়। ওই ট্রলারে ছিলেন শরণখোলার ছোমেদ ফরাজির তিন ছেলে শহিদুল ফরাজি (৩৫), আনোয়ার ফরাজি (৪৫) ও কামরুল ফরাজী (৪২)সহ ১৭ জেলে। এদের মধ্যে ৯ জেলেকে ভারতীয় জেলেরা উদ্ধার করার পর তারা রোববার বিকালে বাড়ি ফিরেছেন। বাকি আট জেলের বঙ্গোপসাগরে সলিল সমাধি হয়েছে। বেঁচে যাওয়া ৯ জনের মধ্যে এফবি মারিয়া-১ নামের ট্রলার মালিক শরণখোলা উপজেলার রাজৈর গ্রামের শহিদুল ফরাজি এবং প্রধান মাঝি নিজে বাঁচতে পারলেও আপন দুই সহোদর আনোয়ার ফরাজি (৪৫) ও কামরুল ফরাজিকে (৪২) হারিয়ে তিনি এখন বাড়িতে ফিরে সঙ্গাহীন রয়েছেন। বৃদ্ধ বাবা ছোমেদ ফরাজী তার দুই সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ। তাকে সান্ত¦না দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না কেউ।
ট্রলারডুবিতে নিহত অন্য জেলেরা হলেন, শরণখোলা উপজেলার রাজৈর গ্রামের আশরাফুল গাজী, শহিদুল হাওলাদার, ডাবলু হাওলাদার, রাজাপুর  গ্রামের মোদাচ্ছের হাওলাদার, নলবুনিয়া গ্রামের রিয়াজ হাওলাদার এবং উত্তর তাফালবাড়ি গ্রামের আলমগীর হোসেন। 
ট্রলার মাঝি কবির জানান, ঝড়ের কবলে পড়ে ভারতের ওই এলাকায় ভেসে যাওয়া শরণখোলার বিলাশ রায় কালুর এফবি সাগর-১ ট্রলারে তাদের ৯ জনকে শনিবার সকালে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে একটি ট্রলারে উঠিয়ে দেন ভারতের ট্রলারের মাঝি রবীন দাস। এ সময় তাদের আশ্রয়ে থাকা ভোলার চরফেশন উপজেলার নূরাবাদ এলাকার আরও ১৪ জেলেকে শরণখোলার তহিদুল তালুকদারের এফবি আজমীর শরিফ-১ নামের একটি ট্রলারে উঠিয়ে দেওয়া হয়। 
এফবি সাগর ট্রলারের মালিক বিলাশ রায় কালু জানান, তার এবং তহিদুল তালুকদারের ট্রলার দুটি ঝড়ের কবলে পড়ে ভারতের কেতুয়া এলাকায় চলে যায়। সেখান থেকে মারিয়া-১ ট্রলারের ৯ জেলে ও চরফ্যাশনের ১৪ জেলেকে তাদের ট্রলারে নিয়ে আসে। এসব জেলেদের সবাই কমবেশি অসুস্থ বলে জানান তিনি ।