আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বাংলাদেশ-পাকিস্তান

আজ অলিখিত সেমিফাইনাল

টপঅর্ডারদের রান খরা ভাবাচ্ছে মাশরাফিকে

স্পোর্টস রিপোর্টার
| প্রথম পাতা

চলতি এশিয়া কাপে আজ বাঁচা-মরার লড়াইয়ে বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল নিশ্চিত করতে হলে পাকিস্তানকে আজ হারাতেই হবে। এ সমীকরণ নিয়েই টানা দ্বিতীয় ম্যাচে মরণপণ লড়াইয়ে নামবেন মাশরাফি বিন মুর্তজারা। নতুন ফরম্যাটে হওয়া চলতি এশিয়া কাপের ‘সুপার ফোর’ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঠিক একই সমীকরণ নিয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। জিতলে এশিয়া কাপ স্বপ্ন টিকে থাকবে, হারলেই শেষ। এ অবস্থানে বাংলাদেশকে দুর্দান্ত জয় এনে দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ, ইমরুল ও মোস্তাফিজ। ব্যাট হাতে জয়ের ভিত গড়েন দুই ব্যাটসম্যান। আর শেষ ওভারে চরম উৎকণ্ঠায়ও সামলে দিয়েছেন মোস্তাফিজ। সুবাদে বারবার তীরে এসে তরী ডোবা বাংলাদেশ উতরে যায় বিশাল চ্যালেঞ্জ। সেই রকম চ্যালেঞ্জ নিয়েই আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে ‘সুপার ফোর’ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে নামছে বাংলাদেশ। এ পর্বে টানা দুই ম্যাচ জিতে সরাসরি ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত। বাকি তিন দলের মধ্যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একটি করে ম্যাচ জেতায় আজ এ দুই দলের লড়াই হয়ে উঠেছে অলিখিত সেমিফাইনাল। আজকের ম্যাচ জিতলেই তৃতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনাল নিশ্চিত হবে মাশরাফিদের। ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হওয়া এশিয়া কাপ ফাইনালের পর ভারতের সঙ্গে আরেকটি ধ্রুপদী লড়াইয়ের জন্য মাশরাফিদের দিকে তাকিয়ে থাকবে দেশের প্রতিটি ক্রিকেটপ্রেমী। দিনের অপর ম্যাচে মুখোমুখি হবে ভারত ও আফগানিস্তান। ভারতের সঙ্গে আজ তাদের ম্যাচটি শুধুই আনুষ্ঠানিকতা। তবে শক্তিশালী ভারতের সঙ্গে জিতলে এশিয়া কাপ সফলই হবে আফগানদের জন্য। টানা দুই ম্যাচে ভাগ্যের কাছে হেরে যাওয়া আফগানিস্তান আজ ভারতকে হারিয়ে সফল টুর্নামেন্ট শেষ করার লক্ষ্যে। আর ভারতের জন্য আজকের ম্যাচ ফাইনালের আগে অনুশীলনের উপলক্ষ। 
পাকিস্তানের সঙ্গে অতীত রেকর্ড খুব সুখকর নয় বাংলাদেশের জন্য। তবে সর্বশেষ তিন লড়াইয়ের হিসাব টানলে একচ্ছত্র আধিপত্য টাইগারদের। সর্বশেষ দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল ২০১৫ সালে বাংলাদেশের মাটিতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে। তিন ম্যাচ সিরিজের সবকটিতেই জিতেছিল বাংলাদেশ। এছাড়া ১৯৯৯ বিশ্বকাপের জয়টি বাদে মোট ৩৫ ম্যাচের ৩১ টিতেই জিতেছে পাকিস্তান। ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়া কাপের ফাইনালে কে হতে যাচ্ছে ভারতের প্রতিপক্ষ, এ নিয়ে পরিষ্কার সমীকরণ দাঁড়িয়েছে। ভারতের বিপক্ষে সুপার ফোর পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে হারায় ফাইনাল নিশ্চিত হয়নি পাকিস্তানের। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সুপার ফোর পর্বের মঙ্গলবারের ম্যাচে যারা জিতবে, তারাই টিকিট পাবে ২৮ তারিখের ফাইনালের। বর্তমানে ৪ পয়েন্টের পাশাপাশি +১.৩৩৩ নেট রান রেট নিয়ে সুপার ফোর পর্বের পয়েন্ট তালিকার সবার উপর নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে ভারত। সমান ২ পয়েন্ট নিয়ে এর পরের দুই অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে এ পর্বের প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারায় নেট রান রেটে কিছুটা পিছিয়ে মাশরাফিরা। বিপরীতে আফগানিস্তানের বিপক্ষের জয়ে বাংলাদেশের চেয়ে নেট রান রেটে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থেকে পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থান নিজেদের দখলে রেখেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের -০.৬৪৫ রান রেটের বিপরীতে -০.৫৫৬ নেট রান রেট পাকিস্তানের। 
রান রেটের হিসাবে পিছিয়ে থাকলেও পাকিস্তানের সঙ্গে আশান্বিত হওয়ার সব কারণ আছে বাংলাদেশের। গ্রুপ পর্বে আফগানিস্তান ও ‘সুপার ফোর’ এ ভারতের বিপক্ষে হওয়া ব্যাটিং ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠেছেন মাশরাফিরা। গেল ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে মিডলঅর্ডারে হাল ধরেন মাহমুদউল্লাহ ও ইমরুল। টানা ডট বলের যে চাপ সেটাও কাটিয়ে উঠেছিলেন ১২৮ রানের জুটিতে। টানা দুই ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় হারের পর বেশ চাপে পড়ে যান মাশরাফি। কিন্তু নিজেদের ওপর আস্থা রেখে বলেছিলেনÑ ফাইনালে যাওয়া সম্ভব। আফগানদের বিপক্ষে জয় দিয়ে সেই পথ তৈরি করেন মাশরাফিরা। এবার এ জয় থেকে আত্মবিশ্বাস নিয়ে আরও এগোনোর পালা। অবশ্য চিন্তার কারণও আছে বাংলাদেশের, যার প্রথম ও সবচেয়ে বড় কারণ ওপেনিং জুটি। পুরো টুর্নামেন্টেই বাংলাদেশের চিন্তার কারণ উদ্বোধনী জুটির ব্যর্থতা। এ ব্যর্থতার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে টপঅর্ডারদের রান খরা। বিশেষ করে দুই ওপেনারের পাশাপাশি মোহাম্মদ মিথুন ও সাকিব আল হাসানকে রানে ফিরতে হবে আজ। পাকিস্তানের বোলিং বিভাগ শক্তিশালী হলেও দেখে খেললে ভালো কিছু করা সম্ভব তা এক ম্যাচ আগেই করে দেখিয়েছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশের বোলিং লাইন পুরো টুর্নামেন্টেই ভালো করেছে। বিশেষ করে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এক ওভারে মাত্র ৮ রান ডিপেন্ড করা নজীরবিহীন। ম্যাচ শেষে তাই মাশরাফি প্রশংসায় ভাসিয়েছিলেন মুস্তাফিজকে, ‘মুস্তাফিজ জাদুকর। এমন কঠিন ম্যাচ আমরা আগেও হেরেছি। এক ওভারে ৮ থেকে ৯ রান করতে পারিনি। কিন্তু আজ ডিফেন্ড করে দেখালাম। এটা অবশ্যই মুস্তাফিজের জন্য সম্ভব হয়েছে। সে গোড়ালিতে ব্যথা নিয়েও বল করেছে। চেয়েছিলাম ওকে দিয়ে ১০ ওভার করাব। কিন্তু সম্ভব হয়নি। তবুও সে যা করেছে তা অবিশ্বাস্য।’ আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওভারে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সই করেছেন মোস্তাফিজ। তবে ব্যাটসম্যানরা যথেষ্ট রান তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিবারই চাপে পড়তে হচ্ছে বোলারদের। পাকিস্তানের বিপক্ষে আজ আগে ব্যাট পেলে ভালো স্কোর গড়তে হবে ব্যাটসম্যানদের। নয়তো আবারও আফগানিস্তান ম্যাচের মতো শেষদিকে এসে চাপ সামলাতে হবে বোলারদের।