আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

অর্থের বিনিময়ে অনেক স্থাপনা রক্ষার অভিযোগ

শওকত আলী, চাঁদপুর
| দেশ

চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের চাঁদপুর স্টেশন থেকে মৈশাদী পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকার রেললাইনের দুই পাশে পাঁচ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। শনি ও রোববার দুই দিন এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার লাকসাম কাচারির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত কানুনগো আবু সাঈদ। শনিবার চাঁদপুর স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে রেলওয়ের এস্টেট বিভাগ। রোববার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শহরের ছায়াবানী এলাকা থেকে শুরু করে মৈশাদী রেলস্টেশন পর্যন্ত তিন শতাধিক ছোট-বড় স্থাপনাসহ পাঁচ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন লাকসামের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) আবু তাহের। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, উচ্ছেদকালে শহরের বকুলতলা ও রেলওয়ে কোর্টস্টেশন এলাকায় অদৃশ্য কারণে উচ্ছেদ করা হয়নি। এ উচ্ছেদ অভিযানকালে রেলওয়ের কানুনগো আবু সাঈদের সঙ্গে সমঝোতার কারণে অনেক অবৈধ স্থাপনা তালিকায় থাকার পরও রক্ষা পেয়েছে বলে অনেকের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে। চাঁদপুরের সচেতন মহলের দাবি, কোর্টস্টেশন এলাকার রেললাইনের দুই পাশের শত শত অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বকুলতলা এলাকার রেললাইনের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা প্রয়োজন। এ দুটি স্থানের অবৈধ দোকানপাটের কারণে প্রায় সময় এখানে দুর্ঘটনা ঘটছে। জানা যায়, রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা কিসিঞ্জার চাকমার নির্দেশে চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের রেললাইনের দুই পাশে শত শত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য চট্টগ্রামে বিভাগীয় উচ্চপর্যায়ে এক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সে মোতাবেক শনি ও রোববার চাঁদপুর থেকে মৈশাদী পর্যন্ত রেললাইনের দুই পাশে কয়েকশ’ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার পক্ষে লাকসামের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) আবু তাহের ও কানুনগো আবু সাঈদ। অভিযানে সহযোগিতায় ছিলেন এসএসএই/ওয়ে লিয়াকত আলী মজুমদার, স্টেশন মাস্টার জাফর আলম, সহকারী স্টেশন মাস্টার শোহেব শিকদার, এসএই/কার্য চাঁদপুর আবুল কালাম আজাদ। এ সময় রেলওয়ে থানার ওসি সারোয়ার আলম, নিরাপত্তা ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম, খোরশেদ আলমসহ রেলওয়ে পুলিশের সদস্য ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে চাঁদপুরে ভূমির দায়িত্বে থাকা লাকসাম কাচারির কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত কানুনগো আবু সাঈদ জানান, অবৈধ স্থাপনার তালিকা অনুযায়ী উচ্ছেদ করা হয়েছে। এখানে কোনো ধরনের সমঝোতা হয়নি। একটি মহল ব্যক্তিসুবিধা ভোগ করতে না পারায় মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে। কোর্টস্টেশন এলাকার রেললাইনের দুই পাশের অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বকুলতলা এলাকার রেললাইনের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা অচিরেই উচ্ছেদ করার তালিকা হচ্ছে। সে মোতাবেক উচ্ছেদ করা হবে।