আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

মিয়ানমার থেকে আসছে ইয়াবা

সীমান্তে আরও নজরদারি চাই

| সম্পাদকীয়

মরণনেশা ইয়াবায় ছেয়ে গেছে দেশ। ইয়াবার আগ্রাসন যেন দমানোই যাচ্ছে না। র‌্যাব-পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কঠোর অভিযানের মাঝেও নানা কৌশলে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চোরাচালান আনা হচ্ছে বাংলাদেশে। অন্তত চার থেকে পাঁচটি পন্থায় মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চোরাচালান আসছে। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তার বরাতে আলোকিত বাংলাদেশে প্রকাশ, বর্তমানে ইয়াবার চালান আনতে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো হচ্ছে। এ হুন্ডির টাকার বেশিরভাগই ঢুকছে দুবাই হয়ে। এছাড়া বিকাশের মাধ্যমে, নিত্যপণ্যসহ অন্যান্য বৈধ ব্যবসার আড়ালে এবং সীমান্তবর্তী কিছু স্থানে দুই দেশের স্থানীয়দের যাতায়াতের মাধ্যমে ইয়াবার চোরাচালান বাংলাদেশে ঢুকছে। এ পঞ্চপন্থার বাইরে আরও একাধিক কৌশলে ইয়াবার চালান আসতে পারে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের রয়েছে ২৫০ কিলোমিটার সীমান্ত। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয়ের তথ্য মতে, দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশিরভাগ দেশে ইয়াবা সরবরাহকারী দেশ এ মিয়ানমার। 
বাংলাদেশে প্রথমদিকে অভিজাত শ্রেণির কিশোর ও তরুণ ছেলেমেয়েদের মধ্যেই ইয়াবার নেশা চালু ছিল। বিশেষ করে ঢাকা শহরের ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল-কলেজে পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে। কিন্তু দ্রুত ইয়াবা স্মার্টনেস, ফ্যাশন ও আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে ওঠে। অল্প বয়সি মডেল, চলচ্চিত্রের নায়ক-নায়িকা, গায়ক-গায়িকা, ড্যান্সার এবং তারকা জগতের অনেকেই ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়েন। বোঝাই যাচ্ছে, ইয়াবা সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করে চলেছে দেশের তরুণ সমাজকে। ফলে পরিস্থিতি এমন হয়ে উঠেছে যে, এই মরণনেশায় অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যাচ্ছে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত ইয়াবা সেবন করলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, নিদ্রাহীনতা, ক্ষুধামান্দ্য এবং মস্তিষ্ক বিকৃতি দেখা যেতে পারে। ইয়াবা গ্রহণের কারণে ফুসফুস, বৃক্কের সমস্যা ছাড়াও অনিয়মিত ও দ্রুতগতির হৃদস্পন্দনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত হারে ইয়াবা গ্রহণ উচ্চ শারীরিক তাপমাত্রার কারণ হতে পারে। স্মরণশক্তি কমে যায়, সিদ্ধান্তহীনতা শুরু হয় এবং কারও কারও ক্ষেত্রে সিজোফ্রেনিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। নানা ধরনের অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পায়, এমনকি অনেকে আত্মহত্যাও করে থাকে। 
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের কক্সবাজার অংশে পুলিশের কঠোর নজরদারি রয়েছে। ইয়াবার চোরাচালান প্রতিরোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়। এ লক্ষ্যে পুলিশ-বিজিবিসহ অন্যান্য সংস্থা মিলে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে ইয়াবার চালান বন্ধে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চলছে। কিন্তু এত প্রচেষ্টার পরও কেন ইয়াবার চোরাচালান ও প্রসার বন্ধ করা যাচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশে সুস্থ ও মেধাবী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার স্বার্থে সীমান্ত এলাকা দিয়ে ইয়াবাসহ সব ধরনের নেশাদ্রব্য প্রবেশ বন্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সফল হবেÑ এটাই প্রত্যাশা।