আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠিত

সরকারি চাকরিজীবীরা ৫ শতাংশ সুদে গৃহঋণ পাবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
| অর্থ-বাণিজ্য

সরকারি চাকরিজীবীদের ৫ শতাংশ সুদে গৃহঋণ দিতে রাষ্ট্রায়ত্ত চার বাণিজ্যিক ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে সরকার। চার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি হলো সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের (বিএইচবিএফসি)। মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট ও সামষ্টিক অর্থনীতি) জাফর উদ্দিন এবং বাস্তবায়নকারী পাঁচ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেন। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গৃহঋণ, আবাসন, ব্যাংক সুদের হার নিয়ে কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের গৃহঋণ দেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে সরকারি চাকরি শেষে যাতে এসব কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা একটি আবাসনের সুবিধা পান। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা। এর মধ্যে বাসস্থান অন্যতম। এছাড়াও শিক্ষাসহ অন্যান্য চাহিদা নিশ্চিত করার কাজ হচ্ছে। আমাদের এ উদ্যোগ সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য। শুধুমাত্র আপার লেভেলের কর্মকর্তাদের জন্য নয়।
তিনি বলেন, এ চুক্তির ফলে এ চারটি ব্যাংক থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫ শতাংশ সুদহারে ঋণ নিতে পারবেন। তবে এ মুহূর্তে শতভাগ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এ সুবিধা পাবেন না। যে কয়টি মন্ত্রণালয় শতভাগ অনলাইন অটোমেশনের আওতায় এসেছে, সেসব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই শুধু এ সুবিধা পাবেন। এ মুহূর্তে পাঁচটি মন্ত্রণালয় শতভাগ অটোমেশনের আওতায় এসেছে বলেও জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ ঋণ দেব, এটি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। আগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতঙ্কে থাকতেন যে, অবসরে যাওয়ার পর তারা কোথায় থাকবেন। সরকারের এ উদ্যোগের ফলে সেই আতঙ্ক অনেকাংশে কেটে যাচ্ছে।
এ সময় তিনি আবাসন খাতের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, দেশের অনেক উন্নতির পরেও আবাসন ক্ষেত্রে আমরা এখনও অনেক পিছিয়ে আছি। শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর মাধ্যমে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু আবাসনে আমরা অনেক পিছিয়ে। বর্তমানে দেশে ৬০ শতাংশ মানুষের আবাসন আছে। বাকিরা যে যার মতো করে কোনোরকম কষ্ট করে থাকেন। এখন আবাসনে একটু গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, তবে আমরা যখন দেশের অভ্যন্তরে প্লেনে করে ঢাকায় আসি, তখন দেখি সিলভার রিভিউ দেখা যায়। সব জায়গায় সিলভার সিআই সিট দেখা যায়। এতে বোঝা যায় আমাদের যে উন্নয়নটা হয়েছে সেটা সর্বব্যাপীই হয়েছে। সেটা শুধু শহরে হয়েছে তা নয়, গ্রামেও উন্নতি হয়েছে।
অনেক ব্যাংক এখনও ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে আনেনি স্বীকার করেন মন্ত্রী বলেন, অনেক ব্যাংক ঋণে সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে (৯ শতাংশ) আনতে পারেনি। তবে আশা করছি, শিগগির তারা তা বাস্তবায়ন করবে। হয়তো কয়েক মাস সময় লাগবে। এটা করা খুবই সহজ। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো প্রফিট একটু কম করলেই হয়।
গৃহঋণ সম্পর্কে অর্থ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব আবদুর রউফ তালুকদার বলেন, সবাইকে একসঙ্গে আনা যাবে না, ফেইজ বাই ফেইজ হবে, দুই বছরের মধ্যে হবে। মন্ত্রণালয়গুলো অটোমেশন প্রক্রিয়ার মধ্যে আসলে খুব দ্রুত হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সরকারের ব্যবস্থাপনায় ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে গৃহঋণ পাওয়ার জন্য ১ অক্টোবর থেকে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। সরকারি চাকরিজীবীরা বর্তমানে ১০ শতাংশ সুদে গৃহঋণ নিতে পারেন। আবার বেতন কাঠামো অনুযায়ী যে ঋণ তারা পান, তা দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে আবাসনের মালিক হওয়ার সুযোগ তাদের হয় না। নবীন কর্মীরাও যেন একটি ফ্ল্যাট বা বাড়ির মালিক হতে পারেন সেজন্যই নীতিমালা করা হয়েছে। সর্বনিম্ন ২০ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত গৃহ নির্মাণ ঋণ নিতে পারবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। ঋণের জন্য ব্যাংক গড়ে ১০ শতাংশ হারে সুদ নেবে, তবে ঋণগ্রহীতাকে দিতে হবে ৫ শতাংশ। বাকিটা সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি হিসেবে পরিশোধ করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা ‘সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং-ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালা-২০১৮’-এ বলা হয়েছে, চাকরি স্থায়ী হওয়ার পাঁচ বছর পর থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা এ ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন। আর আবেদনের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৫৬ বছর। ঋণ পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ সময় হবে ২০ বছর।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, বাড়ি (আবাসিক) নির্মাণের জন্য একক ঋণ, জমি ক্রয়সহ বাড়ি (আবাসিক) নির্মাণের জন্য গ্রুপভিত্তিক ঋণ, জমিসহ তৈরি বাড়ি কেনার জন্য একক ঋণ এবং ফ্ল্যাট কেনার জন্য ঋণ এ গৃহ নির্মাণ ঋণের আওতায় আসবে। সরকারি চাকরিতে স্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্তরাই কেবল এ ঋণের আবেদন করতে পারবেন। রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি, পৃথক বা বিশেষ আইন দ্বারা সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা এ ঋণ পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন না।
ব্যক্তিগত জমির ওপর বাড়ি তৈরি করতে চাইলে ঋণের আবেদনপত্রের সঙ্গে জমির মূল মালিকানা দলিল জমা দিতে হবে। মালিকানা পরম্পরার তথ্যও দিতে হবে। সরকারি প্লট বা সরকার থেকে ইজারা নেওয়া জমিতেও বাড়ি তৈরি করা যাবে। সেক্ষেত্রে ঋণ আবেদনের সঙ্গে প্লটের বরাদ্দপত্রের প্রমাণপত্র এবং অন্যান্য দলিল জমা দিতে হবে। ডেভেলপারকে দিয়ে বাড়ি তৈরি করালে জমির মালিক এবং ডেভেলপারের সঙ্গে নিবন্ধন করা ফ্ল্যাট বণ্টনের চুক্তিপত্র, অনুমোদিত নকশা, ফ্ল্যাট নির্মাণস্থলের মাটি পরীক্ষার প্রতিবেদন, সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ধারিত ছকে ইমারতের কাঠামো নকশা ও ভারবহন সনদ জমা দিতে হবে।
গৃহ নির্মাণ ঋণের ক্ষেত্রে প্রথম কিস্তির ঋণের অর্থ পাওয়ার এক বছর পর এবং ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে ঋণের টাকা পাওয়ার ছয় মাস পর ঋণ গ্রহীতার মাসিক কিস্তি পরিশোধ শুরু হবে।