আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

এডিপি বরাদ্দ ভাগাভাগি

রংপুরে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অবরুদ্ধ

রংপুর ব্যুরো
| শেষ পাতা

এডিপি বরাদ্দের ভাগাভাগির ঘটনায় রংপুর জেলা পরিষদ উত্তপ্ত। নারী সদস্য পারভীন আক্তারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ছাফিয়া খানমকে অবরুদ্ধ করে রাখেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে ছাফিয়া খানম নিজ কার্যালয়ে গেলে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীসহ জেলা পরিষদের কয়েকজন সদস্য তার কক্ষে তালা লাগিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় ছাফিয়া খানম অফিস কক্ষের সামনে প্রায় ১ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে অফিস কক্ষের তালা খুলে দেওয়া হয়। বিষয়টি সমাধানের জন্য এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজুর নেতৃত্বে উভয়পক্ষের বৈঠক চলছিল।

এর আগে সোমবার বিকালে রংপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ছাফিয়া খানমের হাতে নারী সদস্য পারভীন আক্তার লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ উঠেছে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের একটি প্রকল্পের সংশোধনী আনার বিষয়ে কথা বলতে বিকাল ৫টার দিকে চেয়ারম্যানের কক্ষে যান সংরক্ষিত ১নং ওয়ার্ডের নারী সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পারভীন আক্তার। কথা বলার এক পর্যায়ে ছাফিয়া খানম পারভীনকে মারতে উদ্যত হন। এ সময় পারভীনও তার দিকে তেড়ে গেলে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও অশালীন ভাষায় গালাগালের ঘটনা ঘটে। জেলা পরিষদের সদস্য আবুল কাশেমসহ অন্যরা উভয়কে নিবৃত করার চেষ্টা করেন। 

ঘটনার পর চেয়ারম্যান অফিস থেকে বেরিয়ে গেলেও ওই কক্ষেই অবস্থান করেন সদস্য পারভীন আক্তার। পরে খবর পেয়ে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নাছিমা জামান ববি, পারভীন আক্তারের স্বামী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর রহমান সোহেলসহ বেশ কিছু গণমাধ্যম কর্মী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পারভীন আক্তার অভিযোগ তোলেন, রংপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছাফিয়া খানম তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে ফেলেছেন এবং অশালীন ভাষায় গালাগাল করেছেন। এ নিয়ে সোমবার রাতেই পারভীন আক্তার কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এদিকে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই জেলা পরিষদ কার্যালয়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দুপুর ১টার দিকে পারভীন আক্তার জেলা পরিষদের কয়েকজন সদস্য, মহিলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরই দুপুর সোয়া ১টার দিকে  চেয়ারম্যান ছাফিয়া খানম সেখানে উপস্থিত হলে উত্তেজনা দেখা দেয়। পারভীন আক্তার চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে তার সমর্থকদের নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তালা লাগানোর ফলে অফিস রুমে ঢুকতে না পেরে দরজার সামনে অবস্থান নেন ছাফিয়া খানম। এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা তাকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় গালাগাল দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরাও হিমসিম খান। পরে ২টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফিসহ নেতারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে সংবাদকর্মী ও দলীয় নেতাকর্মীদের বাইরে থাকার আহ্বান জানিয়ে চেয়ারম্যানের কক্ষে উভয়পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা। বিকাল সাড়ে ৫টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠক চলছিল বলে জানান রেজাউল করিম রাজু। কোতোয়ালি থানার এসআই ফেরদৌস আহম্মেদ জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। উভয়পক্ষকে নিয়ে বৈঠক চলছে।