আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সংবর্ধনা

পোশাকের ন্যায্যমূল্য ও জিএসপি সুবিধা চায় বিজিএমইএ

নিজস্ব প্রতিবেদক
| শেষ পাতা

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এদেশের তৈরি পোশাকের ন্যায্যমূল্য এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার বাজার সুবিধা (জিএসপি) চেয়েছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। আর এক্ষেত্রে দেশটির রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটকে জোর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে পোশাক খাতের মালিকদের এ সংগঠন। মঙ্গলবার ঢাকার কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত বার্নিকাটের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান এবং সহ-সভাপতি (অর্থ) মোহাম্মদ নাসিরসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, গেল আট বছরে সরকার ঘোষিত মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে তিন ধাপে পোশাক খাতের নিম্নতম মজুরি ৩৮১ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে কারখানার পরিচালন ব্যয়ও। আবার ক্রেতাদের চাপে পোশাক শিল্পে কর্মপরিবেশ উন্নীত করতে গিয়েও প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়েছে। কিন্তু চার বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাকের মূল্য তো বাড়েইনি, উল্টো কমেছে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ।

প্রায় চার বছর ধরে বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা বার্নিকাটকে এ দেশের অন্যতম বন্ধু আখ্যা দিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বার্নিকাট যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গিয়ে এদেশের শ্রমিক ভাইবোনেরা যেন মানসম্মত জীবন যাপন করতে পারেন, তার জন্য সেদেশের ক্রেতাদের অনুরোধ জানাবেন, ক্রেতারা যেন এদেশের পোশাকের জন্য ন্যায্যমূল্য দেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়েও এখনও পায়নি বাংলাদেশ। জিএসপি সুবিধা পুনর্বহালের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যেসব শর্ত দিয়েছিল, সেগুলোর সবক’টিই বাংলাদেশ পূরণ করেছে। তাই বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য যেন জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল করা হয়, তার জন্য বার্নিকাটের মাধ্যমে মার্কিন সরকারের কাছে অনুরোধ জানান তিনি।

পোশাক শিল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, গেল চার বছরে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প খাত কীভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তা আপনি নিজ চোখে দেখেছেন। বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এখন সবচেয়ে নিরাপদ ও স্বচ্ছ শিল্প খাত। কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বে এখনও এ শিল্প নিয়ে কিছু ভুল ও নেতিবাচক ধারণা রয়ে গেছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গিয়ে এ দেশের শিল্প পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবেন বলে আশা রাখছি।
এ সময় বার্নিকাট বলেন, পোশাক শিল্পের মাধ্যমে এ দেশের লাখো শ্রমিক দারিদ্র্যের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে। অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের সহায়তায় বাংলাদেশের কারখানাগুলোয় কর্মপরিবেশ এখন অনেক উন্নত ও সন্তোষজনক। বাংলাদেশের কারখানাগুলো এখন বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ কারখানাগুলোর মধ্যে পড়ে। পরিবর্তনের এ সময়ের বড় অংশ এ দেশে থাকার কারণে স্বচক্ষে দেখার সুযোগ হয়েছে। এটা ছিল খুবই ব্যয়বহুল ও কঠিন কাজ। তবে আত্মতৃপ্তিতে না থেকে এর সুফল বহুদিন ধরে রাখতে হবে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।
তবে পোশাক খাতের অগ্রগতির প্রশংসার পাশাপাশি শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় শ্রম অধিকারের বিষয়ে অগ্রগতি শ্লথ ছিল। ক্রেতারা পণ্য ক্রয়ের বিষয়ে শ্রম অধিকারের বিষয়টি বেশি বিবেচনায় নেন। এজন্য শ্রম অধিকারের বিষয়টি বাস্তবায়নে দেরি করলে বাংলাদেশের সুনাম নষ্ট হবে, বিদেশি ক্রেতাদের অন্যত্র ঝুঁকে পড়ার হুমকিও বাড়বে। তাই আন্তর্জাতিক শ্রমনীতিগুলো মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। বিষয়টি নিয়ে কালক্ষেপণ করলে কোনো লাভ হবে না। বরং আইনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে তা কার্যকর করলে বিদেশের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উন্নয়নের চিত্র নিজ দেশে তুলে ধরার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দেন মার্শা বার্নিকাট। অনুষ্ঠানে বার্নিকাটের হাতে সেলাই মেশিনের আদলে তৈরি একটি সোনালি রঙের ক্রেস্ট উপহার দেয় বিজিএমইএ।