আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

দুদকে তলব

ফারমার্স ব্যাংকের ছয় কর্মকর্তার হাজিরা আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
| শেষ পাতা

ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধান পর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হচ্ছেন ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) একেএম শামীমসহ ব্যাংকের ছয় কর্মকর্তা। অপর পাঁচজন হলেন ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ অফিসার উম্মে সালমা সুলতানা, অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিউদ্দিন আসকারী আহমেদ, সাবেক ম্যানেজার অপারেশন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুতফুল হক, হেড অব বিজনেস ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট গাজী সালাউদ্দিন এবং ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়। আজ রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাদের হাজিরা ধার্য রয়েছে। তাদের তলব করে মঙ্গলবার নোটিশ পাঠান দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন। 

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেনের বিষয়ে সাক্ষী হিসেবে বা অন্য কোনোভাবে ফারমার্স ব্যাংকের এ কর্মকর্তাদের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। একই বিষয়ে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সাবেক পিএস রঞ্জিতের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা এবং মো. শাহজাহানকে ৬ মে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন দুদক কর্মকর্তারা। ওই দুজনকে দেওয়া নোটিশে সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নাম না থাকলেও ‘রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়া’র অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে উল্লেখ করা হয়। 
দুদক সূত্র জানায়, আড়াই বছরে সুপ্রিমকোর্টের সোনালী ব্যাংক শাখায় সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে সাড়ে ৫ কোটি টাকারও বেশি। ওই সময় বেতন ছাড়াও ২৬ বার বিভিন্ন পরিমাণে টাকা জমা হয়েছে। এর মধ্যে গেল বছর ৮ নভেম্বর ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা ও মো. শাহজাহানের অ্যাকাউন্ট থেকে ৪ কোটি টাকার পে-অর্ডার সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নামে ইস্যু করা হয়। পরদিন ৯ নভেম্বর দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে ২ কোটি করে ৪ কোটি টাকা সুপ্রিমকোর্টের সোনালী ব্যাংক শাখায় সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। এ লেনদেনের বিষয়টি অস্বাভাবিক বিবেচনায় নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। 
এদিকে নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা ও মো. শাহজাহানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গেল বছর ৬ নভেম্বর ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখায় দুটি ঋণ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। দুটি অ্যাকাউন্টের তথ্য ফর্মে তাদের বর্তমান ঠিকানা হিসেবে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর সড়কের ৫১ নম্বর বাড়ি উল্লেখ করা হয়েছে। এ বাড়িটি ছিল সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার। তিনি তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) রঞ্জিত রায়ের স্ত্রী শ্রান্তি রায়ের নামে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (আম মোক্তারনামা) লিখে দেন। রঞ্জির রায় বর্তমানে সিঙ্গাপুর প্রবাসী। সিঙ্গাপুর যাওয়ার আগে তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার উত্তরার বাড়িতেই থাকতেন। রঞ্জিতের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী এলাকায়। নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা এবং মো. শাহজাহানের গ্রামের বাড়িও টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী।