আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক

বেঙ্গালুরুর রাস্তায় ১০ ফুট উঁচু বিষাক্ত ফেনা!

আলোকিত ডেস্ক
| শেষ পাতা

দেখলে মনে হবে পেঁজা তুলা। হিমবাহ বললেও ভ্রম হতে পারে। রাতভর বৃষ্টির পর দক্ষিণ-পূর্ব বেঙ্গালুরুর বেলান্দুর লেকের অবস্থা এখন এমনই। তবে হিমবাহ বা পেঁজা তুলোÑ দুটির কোনোটিই নয়। বরং বিষাক্ত সাদা ফেনা ও বুদবুদে ঢেকে গেছে লেকটি। অতিরিক্ত দূষণ আর রাতভর বৃষ্টির জেরেই এ অবস্থা। মঙ্গলবার আনন্দবাজার পত্রিকা এ খবর জানায়।

বেঙ্গালুরুতে বেশক’টি দূষিত লেক আছে। এর মধ্যে বেলান্দুর অন্যতম। বর্জ্য পদার্থ, নর্দমার নোংরা জল সব এসে পড়ে তাতে। সোমবার রাতভর বৃষ্টি হয়েছে সেখানে। লেকটির ৯০০ একর এলাকা ওই বিষাক্ত ফেনা ও বুদবুদে ঢেকে গেছে। কোথাও কোথাও আবার ফেনার স্তর ১০ ফুট পুরু। লেক ছাড়িয়ে রাস্তার ওপর উঠে এসেছে ফেনার এ স্তর। বাতাসেও উড়ে বেড়াচ্ছে। তাতে থমকে গেছে জনজীবন। ঝাঁঝালো গন্ধ এড়াতে বাড়ির বাইরে বেরোনো বন্ধ রেখেছেন স্থানীয়রা। তবে এখনই রেহাই নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। কারণ, আগামী চার দিন একনাগাড়ে বৃষ্টি হতে পারে।
গত দুই দশক ধরে এভাবেই চলছে বেঙ্গালুরুতে। তবে পরিস্থিতি চরমে উঠেছে গত বছর থেকে। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে বেলান্দুর লেকে আচমকাই আগুন জ্বলতে শুরু করে। তার জেরে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। এ বছর জানুয়ারি মাসেও একই ঘটনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ৫ হাজার সেনা নামানো হয়। দীর্ঘ সাত ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভাতে সক্ষম হন তারা। চলতি বছরের জুন মাসে এ নিয়ে এক দফা শুনানি করে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল। তাতে বলা হয়, বেলান্দুর লেক দেশের বৃহত্তম সেপটিক ট্যাঙ্কে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনিক উদাসীনতাই এর জন্য দায়ী। তারপরও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। কারণ জুলাই মাসেই বেলান্দুর লেকের নোংরা জল গিয়ে পড়ে কোলার জেলার ১৪০০ কোটি টাকার সেচ প্রকল্পে। সেখানেও দূষণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।