আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

১৪ অক্টোবর মেলা শুরু : ভারতের প্রশংসা পুরোপুরি ডিজিটাল মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা

ইভিএম রপ্তানির পরিকল্পনা

আরিফুল ইসলাম
| প্রথম পাতা

বিদেশ থেকে যন্ত্র আমদানি করে দেশীয় জনবল দিয়ে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রস্তুত করে বিদেশে রপ্তানির পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি। এদিকে ১৪ ও ১৫ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হচ্ছে ইভিএম প্রদর্শনী মেলা। আর বাংলাদেশের ইভিএম দেখে ভারত প্রশংসা করেছে বলেও জানিয়েছে সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটি। 

জাতীয় পরিচয়পত্র ও নিবন্ধন অণুবিভাগের (এনআইডি) মহাপরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ইভিএম মেশিনের যন্ত্রপাতি আমদানি করবে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি। এরপর ওই ফ্যাক্টরি যন্ত্রগুলোকে সেট করে নির্বাচন কমিশনের কাছে হস্তান্তর করবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিংগার প্রিন্ট আনা হচ্ছে। অ্যাপল কোম্পানির কাছ থেকে ইভিএমের মনিটর আমদানি করা হচ্ছে। এছাড়া আরও অনেক দেশ থেকে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আমদানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের চাহিদা মিটিয়ে পরবর্তী সময়ে আমরা বিদেশে রপ্তানি করব ইভিএম। আমাদের ইভিএমের সিকিউরিটি দেখে ফেমবোসা সম্মেলনে ভারতসহ অনেক দেশ প্রশংসা করেছে। মহাপরিচালক বলেন, ইভিএমে কোনো ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক কানেকটিভিটি নেই। সুতরাং, এখানে পৃথিবীর কোনো হ্যাকার হ্যাক করতে পারবে না। ইসির ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) দ্বারা এটা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে যে ইভিএম ব্যবহার করা হয় সেখানে কিন্তু ফিংগার প্রিন্টের সিস্টেম নেই। এমনকি আইরিশ নেই। কিন্তু আমরা এখানে আইরিশ সংযুক্ত করার চেষ্টা করছি। এছাড়া আরও অনেক সুবিধা আমাদের ইভিএমে থাকছে, যা অন্য দেশের ব্যবহৃত ইভিএমে নেই। নির্বাচন কমিশনার শাহাদত হোসেন চৌধুরী আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, আমাদের ইভিএমে অনেক সিকিউরিটি আছে। চাইলে কেউ হ্যাক করতে পারবে না। এসব ইভিএম ১০ বছর বিভিন্ন নির্বাচনে ব্যবহার করা যাবে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, হতে পারে। তবে এখনও কমিশনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সংসদ নির্বাচন ছাড়াও আমাদের অনেক নির্বাচন রয়েছে, সেগুলোতেও এ মেশিন ব্যবহার করা হবে। 
এদিকে ভোট কেন্দ্র থেকে রিটার্নিং অফিসারের কাছে ফল পাঠানোর প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের যান্ত্রিক বা ইন্টারনেটের ব্যবহার না থাকায় ইভিএমের মাধ্যমে ভোটাভুটিকে পুরোপুরি ডিজিটাল বলা যায় না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবিএম আলিম আল ইসলাম বলেন, ভোট কেন্দ্র থেকে রিটার্নিং অফিসারের কাছে যদি ফল কাগজের মাধ্যমে পাঠানো হয়, তাহলে পুরো সিস্টেমকে তো ডিজিটাল বলা যায় না। তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ডিজিটাল ইনভলমেন্ট (সংযোগ) আছে, আরেক জায়গায় (কেন্দ্র থেকে রিটার্নিং অফিসারের কাছে ফল পাঠানো) ট্রেডিশনালই (সাধারণভাবে) ব্যবহার করছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সুরাইয়া পারভীন বলেন, ভোটকক্ষ থেকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা যদি নির্বাচন কমিশনের ইন্টারনাল সার্ভারে তথ্য দিতে পারতেন, তাহলে ইভিএমের পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল বলা যেত। মাঝখানে (ফল প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কাছ থেকে রিটার্নিং অফিসারের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত) তো আবার এটা কার্ড কপির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে তো ইভিএম পুরো ডিজিটাল থাকছে না। 
ইভিএম প্রদর্শনী মেলা শুরু ১৪ অক্টোবর : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনাকে সামনে রেখে ১৪ ও ১৫ অক্টোবর প্রদর্শনী আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রদর্শনী মেলা বাস্তবায়ন ও সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুই দিনব্যাপী প্রদর্শনী মেলায় লোকসমাগম ঘটাতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে কমিটি। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অণু বিভাগের (এনআইডি) মহাপরিচালকে (ডিজি) এ প্রদর্শনী মেলার সার্বিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মেলায় আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের। তবে ইসির মূল অংশীজন রাজনৈতিক দলকে সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না।
প্রথম দিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। দ্বিতীয় দিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সভায় বড় বড় কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি দিয়ে শিক্ষার্থীদের মেলায় অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া ঢাকা মহানগরীর থানা নির্বাচন অফিসগুলো সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ১০ থেকে ১৫ জনের বিভিন্ন বয়সি ভোটারের একটি করে গ্রুপকে মেলায় আনার জন্য বলা হয়েছে।
জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইভিএম সংযোজনসহ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনীর প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে সেটি পাস হওয়ার অপেক্ষায়। সংবিধানে ইভিএম সংযোজন হওয়ার আগেই জাতীয় নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোয় ইভিএম ব্যবহার করতে একটি প্রকল্প পাস হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটি পাস হয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়। প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) কাছ থেকে এ মেশিন কিনবে ইসি। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে দেড় লাখ ইভিএম মেশিন কেনার প্রকল্প পাস হয়।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, প্রস্তাবিত প্রকল্পের প্রথম ধাপের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২৯ কোটি ৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে মোটর যানবাহনে ব্যয় ৩ কোটি ৩২ লাখ ২০ হাজার টাকা, ইভিএম কিনতে ৩ হাজার ৫১৫ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার টাকা (প্রতিটি ইভিএমের দাম পড়বে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৩ দশমিক ৬৭ টাকা), অফিস সরঞ্জামাদিতে আট লাখ ৮০ হাজার টাকা, কম্পিউটার সফটওয়্যারে ৫০ কোটি ৯০ লাখ টাকা, আসবাবপত্র ক্রয়ে ৭৫ কোটি ৩৩ লাখ, মূল্য সংযোজন করে (ভ্যাট) ৫০ লাখ এবং অপ্রত্যাশিত ব্যয় ৪১ কোটি ৭৫ লাখ ৫৯ হাজার টাকা ব্যয় হবে।