আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

অলিখিত সেমিফাইনাল আজ

পাকিস্তান বাধা পেরোতে চান টাইগাররা

আহসান হাবিব সম্রাট
| প্রথম পাতা

এই ম্যাচটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে খেলা অসম্ভব কিছু নয়

বাংলাদেশের কোচ
স্টিভস রোডস

আগের ম্যাচেই শেষ ওভারের নাটকীয়তায় আফগানিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালের স্বপ্ন টিকিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ। তৃতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে যেতে মাশরাফি বাহিনীর সামনে একটাই বাধাÑ পাকিস্তান। আবুধাবিতে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সুপার ফোর পর্বের শেষ ম্যাচটি এশিয়া কাপের অলিখিত সেমিফাইনালে পরিণত হয়েছে। আজকের ম্যাচে যে দলই জিতবে, শুক্রবার ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ হবে তারা। বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৫টায় শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ‘বাঁচা-মরার’ লড়াইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে অবতীর্ণ হবে টাইগার দল। 

টুর্নামেন্টের সুপার ফোরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত। আর বাংলাদেশ ও পাকিস্তান প্রত্যেকেই একটি করে জয় পেয়েছে। উভয় দলই শেষ ওভারের নাটকীয়তায় হারিয়েছে আফগানিস্তানকে। শোয়েব মালিকের ব্যাটে চড়ে পাকিস্তান ৩ উইকেটে জয় পায়। আর কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ ‘ম্যাজিকে’ ৩ রানের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। হারায় টুর্নামেন্টে এখনও নিজেদের সেরাটা মেলে ধরতে পারেনি বাংলাদেশ-পাকিস্তানের কেউই। ব্যাটিং সমস্যা দারুণ ভোগাচ্ছে বাংলাদেশকে। চোটের কারণে ওপেনার তামিম ইকবাল টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ওপেনিংয়ে সমস্যা যায়নি টাইগার দলের। টুর্নামেন্টে টানা তিন ম্যাচেই ব্যর্থ ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত। তিন ম্যাচে এখনও ২ অঙ্কের রান ছুঁতে পারেননি একবারও। লিটন দাস আগের তিন ম্যাচে ব্যর্থ হলেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৪১ রানের ইনিংস উপহার দেন। তিনে নামা মোহাম্মদ মিঠুন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুর্দান্ত একটি ফিফটি খেললেও পরের তিন ম্যাচে করেছেন মাত্র ১২ রান। বড় ইনিংস খেলতে পারছেন না সাকিব আল হাসানও। তবে ছন্দে আছেন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের জয় পাওয়া ম্যাচ দুটিতে ম্যাচ সেরাও হয়েছেন তারা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৪৪ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেন মুশফিক। আর আফগানিস্তানের বিপক্ষে সবশেষ ম্যাচে ৭৪ রানের ইনিংস উপহার দেন মাহমুদউল্লাহ। তবে বাংলাদেশের জন্য আশার বিষয় হচ্ছে দলে ইমরুল ও সৌম্যের অন্তর্ভুক্তি। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে আগের ম্যাচে অপরাজিত ৭২ রানের ইনিংস খেলেছেন ইমরুল। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে নতুন রেকর্ডেরও ভাগিদার। আর সৌম্য সরকার এশিয়া কাপের দলে সুযোগ না পেলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে সবশেষ সিরিজে অপরাজিত ১২৭ রানের অসাধারণ একটি ইনিংস খেলেছিলেন। শান্তর ধারাবাহিক ব্যর্থতায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ওপেনিংয়ে দেখা যেতে পারে সৌম্যকে। অন্যদিকে পাকিস্তানের মূল সমস্যা বোলিং বিভাগ। ভারতের বিপক্ষে সবশেষ ম্যাচে পাকিস্তানের ছয়বোলারের কেউই উইকেট শিকার করতে পারেননি। গোটা টুর্নামেন্টেই এখনও উইকেট নিতে পারেননি পাকিস্তানের পেস আক্রমণে নেতৃত্ব দেওয়া মোহাম্মদ আমির! ছন্দে নেই হাসান আলিও। টুর্নামেন্টে চার ম্যাচে নিয়েছেন ৩ উইকেট; হংকের বিপক্ষে দুটিসহ। আরেক পেসার উসমান খান শেষ দুই ম্যাচে কোনো উইকেট ঝুলিতে পুরতে পারেননি। অন্যদিকে ব্যাটিংয়ে সুবিধা করতে পারছে না পাকিস্তান। গোটা আসরে শুধু শোয়েব মালিক ছাড়া ধারাবাহিক নন কোনো ব্যাটসম্যানই। দুই দলের ৩৫ মুখোমুখিতে ৩১টিতে পাকিস্তান জিতলেও শেষ তিন লড়াইয়ে জিতেছে টাইগার দল। তাই পাকিস্তানের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাসী হলেও নির্ভার থাকতে পারছে না বাংলাদেশ। গতকাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে কারণটা পরিষ্কার করেই জানালেন বাংলাদেশ কোচ স্টিভস রোডস। তিনি বলেন, ‘ হ্যাঁ, এ ম্যাচটি আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। পাকিস্তান নিজেদের দিনে যে কোনো কিছু করে ফেলতে পারে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তারা দুর্দান্ত খেলেছে। যদিও সেই মানে তারা এখানে খেলতে পারছে না। তবে পাকিস্তানকে নিয়ে কোনো কিছুই বল যায় না। তারা খুবই শক্তিশালী দল। নির্দিষ্ট দিনে যে কোনো কিছু করে ফেলতে পারে। তবে আমার মনে হয় পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে খেলা অসম্ভব কিছু নয়।’ 
আবুধাবি ভেন্যু হিসেবে বাংলাদেশের জন্য খানিকটা অপরিচিত হলেও পাকিস্তানের অন্যতম হোমগ্রাউন্ড। সেদিক থেকে খানিকটা এগিয়ে থাকবে পাকিস্তান। সে কারণেই হয়তো বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়ে একটি বেশিই আশাবাদী পাকিস্তান কোচ মিকি আর্থার। ভারতের বিপক্ষে আসরে দুই মুখোমুখিতে হারলেও নিজেদের ফাইনালেই দেখছেন তিনি, ‘পাকিস্তান তাদের সুপার ফোরের সবশেষ ম্যাচ জিতবে। বাংলাদেশ হারবে। ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে আমরাই খেলব।’ শুধু ফাইনালে খেলাই নয়, ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জয়েরও স্বপ্ন দেখছেন পাকিস্তান কোচ। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘ভারতের বিপক্ষে আমরা হেরেছি। ফাইনালে সুযোগ থাকছে, সেই ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জেতার। আমরা ভারতের বিপক্ষে প্রতিশোধ চাই। আর সেটার বড় মঞ্চ অপেক্ষা করছে এশিয়া কাপের ফাইনাল। আমার কোচিং ক্যারিয়ারে গেল  ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে পরাজয়টাই সব থেকে বাজে ব্যাপার হয়ে গেছে।’ তবে পাকিস্তান কোচের বক্তব্যকে টাইগার দল যে মোটেই পাত্তা দেবে না, সেটা নিশ্চিত। দুই দেশের সবশেষ সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। আর শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাহমুদউল্লাহ, ইমরুল ও মোস্তাফিজদের বীরত্বে যেভাবে দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে এনেছে বাংলাদেশ, সেটা পাকিস্তানের বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচে বাড়তি প্রেরণা জোগাবেই মাশরাফি বাহিনীকে।