আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

ম্যান্ডেলা শান্তি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের এগিয়ে আসতে হবে

আলোকিত ডেস্ক
| প্রথম পাতা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সদর দপ্তরের জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে সোমবার বিকালে নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তি সম্মেলনে বক্তব্য দেন ষ পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক সব বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সন্ত্রাসবাদের মতো ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরের জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে সোমবার বিকালে অনুষ্ঠিত নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শান্তি এখনও সুদূর পরাহত, ভবিষ্যৎ শান্তিপূর্ণ বিশ্ব নিশ্চিত করতে অবশ্যই আন্তর্জাতিক সব বিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিষ্পত্তি করতে হবে এবং বিদ্যমান সব সংঘাতের অবসান ঘটাতে হবে।’

দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা, রাজনৈতিক নেতা এবং মানবহিতৈষী বিশ্বব্যক্তিত্ব নেলসন ম্যান্ডেলার শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ শান্তি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ম্যান্ডেলা ১৯৯৪ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাসীদের অর্থায়ন, তাদের অস্ত্র সরবরাহের উৎস বন্ধ এবং তাদের আশ্রয়দান বন্ধের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের মতো ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অবশ্যই বিশ্বনেতাদের এগিয়ে আসতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে, অভিযোজন সক্ষমতা অর্জন করতে হবে এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে মানবাধিকার রক্ষা করতে হবে। শান্তির সংস্কৃতি ও অহিংসা লালন করতে হবে।

তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো অর্জনে আমাদের সহযোগিতা জোরদার করতে হবে, সহনশীলতা বাড়াতে হবে , বৈচিত্র্যকে ধারণ করতে হবে, ধর্মীয় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে বৈষম্য ও শোষণ থেকে রক্ষা করতে হবে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নেলসন ম্যান্ডেলার মতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও আমাদের শোষণ, নির্যাতন থেকে মুক্তি ও স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করতে গিয়ে তারা দুজনই জীবনের বড় অংশ কারাগারে কাটিয়েছেন। 

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ : যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথবিষয়ক মন্ত্রী জেরেমি হান্ট সোমবার সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার চায় আগামী সাধারণ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং সব রাজনৈতিক দল এতে অংশ গ্রহণ করবে। বৈঠকের পরে পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। জেরেমি হান্ট বলেন, বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করছে যুক্তরাজ্য।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরাও চাই আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে এবং সব রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশ নেবে।
বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে আলোচনাকালে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, এই সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। মিয়ানমার তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। তবে, তারা চুক্তি অনুযায়ী কাজ করছে না। শেখ হাসিনা বলেন, যদি আমরা উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে পারি এবং তাদের দেশে ফেরার জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে পারি তাহলে রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ফিরবে। তবে তেমনটি ঘটছে না। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের ভাসানচর নামে একটি দ্বীপে স্থানান্তরে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। জেরেমি হান্ট অচিরেই বাংলাদেশ সফরে তার আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র চেম্বারের মধ্যাহ্নভোজ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের পারস্পরিক স্বার্থে ব্যবসা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন নিয়ে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে এ ব্যাপারে সরকারের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সামনে চতুর্থ শিল্প-বিপ্লবের চ্যালেঞ্জও রয়েছে। আমি আপনাদের বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি উভয়ের পারস্পরিক স্বার্থে আপনাদের ব্যবসা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন নিয়ে বাংলাদেশে আসুন। সোমবার যুক্তরাষ্ট্র চেম্বার্স অব কমার্সের উদ্যোগে গ্রান্ড হায়াত হোটেলে অনুষ্ঠিত এক মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।
‘অনুগ্রহ করে, আমাদের অংশীদারিত্বমূলক মুনাফা এবং উন্নয়নের যাত্রায় শরিক হোন। আমি এক্ষেত্রে আমার সরকারের পূর্ণ সাহায্য ও সহযোগিতার নিশ্চয়তা প্রদান করছি,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে সহজ বিনিয়োগ নীতি বিদ্যমান রয়েছে, যেখানে আকর্ষণীয় প্রণোদনা এবং সর্বোচ্চ মুনাফা লাভেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
যার মধ্যে রয়েছে বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কে আইন দ্বারা সুরক্ষা প্রদান, কর অবকাশের মতো প্রণোদনা, যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে স্বল্প শুল্ক, কাঁচামাল আমদানিতে আয়কর রেয়াত, টেমিট্যান্স অন রয়্যালটি, শতভাগ বৈদেশিক ইক্যুয়িটি এবং বিনা বাধায় লাভ এবং আসলসহ পুঁজি প্রত্যাবাসন সুবিধা, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স ফ্যাসিলিটি ফর এডুকেশনের ওপর অনুষ্ঠান : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা খাতের উন্নয়নে আরও বেশি বেসরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, শিক্ষা তহবিলে যে ঘাটতি রয়েছে গতানুগতিক আর্থিক সহায়তা তা পূরণে যথেষ্ট নয়।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে স্থানীয় সময় সোমবার বিকালে আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স ফ্যাসিলিটি ফর এডুকেশন’র ওপর একটি উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা একথা বলেন। তিনি বলেন, শিক্ষা তহবিলে যে ঘাটতি রয়েছে গতানুগতিক আর্থিক সহায়তা তা পূরণে যথেষ্ট নয়। এ খাতে অবশ্যই বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ত করতে হবে। জাতিসংঘের গ্লোবাল এডুকেশনবিষয়ক বিশেষ দূত গর্ডন ব্রাউন অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাকে একটি লাভজনক ব্যবসা হিসেবে না দেখে, জনসাধারণের জন্য শিক্ষার ব্যয় বহনযোগ্য করতে বেসরকারি খাতকে যথাযথভাবে শিক্ষায় বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ কর্মীরা মানসম্মত শিক্ষালাভ করলে বিনিয়োগকারীদের ব্যবসায় উন্নতিতে তা অবদান রাখবে। সূত্র : বাসস