আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

নির্বিঘœ ও নিরাপদ হোক

চিকিৎসাসেবা

| সম্পাদকীয়

স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বিপুল বিনিয়োগের সুফল এরই মধ্যে জনগণ পেতে শুরু করেছে। শুধু শহর নয়, প্রত্যন্ত এলাকায়ও এখন অনায়াসে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যাচ্ছে। এক্ষেত্রে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো প্রভূত ভূমিকা রাখছে। এতদসত্ত্বেও কিছু কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার ঘটনা প্রায়ই মিডিয়ার সূত্রে আমরা অবহিত হই। বিশেষ করে জনবল সংকট এবং অদক্ষতার কারণে স্বাস্থ্যসেবায় অহরহ বিঘœ ঘটছে। আলোকিত বাংলাদেশে প্রকাশ, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের পদসংখ্যা ২১ হলেও বাস্তবে কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন। এখানে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো চিকিৎসক না থাকায় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধ হয়ে আছে। অধিকন্তু প্রয়োজনীয় জনবল সংকটে উপজেলার ৪ লাখ লোকের স্বাস্থ্যসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। জানা যায়, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বেশ কয়েক বছর আগে ৩০ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে চিকিৎসক সংকটে। একটু অনুসন্ধান চালালে দেখা যাবে, অনেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সরকারের অনেক পদক্ষেপই যথাযথভাবে বাস্তবে রূপায়িত হচ্ছে না।
চিকিৎসা সংকটের পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোয় ক্ষেত্রবিশেষে অব্যবস্থাপনা ও অদক্ষতা লক্ষ করা যায়। এ কারণে অনেক সময় মারাত্মক অঘটন ঘটে থাকে। আলোকিত বাংলাদেশের আরেকটি খবরে বলা হয়, নার্স-আয়ার কা-ে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক প্রসূতির গর্ভের সন্তানের দেহ মাথা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জানা যায়, চিকিৎসক না থাকায় একপর্যায়ে ওই হাসপাতালের দুই নার্স ও এক আয়া মিলে প্রসূতির সন্তান প্রসব করাতে গিয়ে এরূপ ঘটনার অবতারণা করেন। প্রশ্ন হলো, নার্স-আয়া এখতিয়ার-বহির্র্ভূত কর্মকা-ে কেন নিজেদের জড়াতে গেলেন? আবার প্রয়োজনীয় সময়ে কেনই বা চিকিৎসকের দেখা পাওয়া গেল না? উপরোল্লিখিত দুটো ঘটনা এটাই প্রমাণ করে, মানসম্পন্ন চিকিৎসা দেওয়ার অবস্থায় এখনও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে নিশ্চিত করা সম্পন্ন হয়নি। কারণ এ ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়; এ ধরনের ঘটনার নজির আরও রয়েছে।
দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবায় বিপুল বিনিয়োগ হচ্ছে। বাড়ছে স্বাস্থ্য শিক্ষার পরিধি এবং স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো সাধারণ মানুষের কাছে অতি জনপ্রিয়, তারা গভীর আস্থা নিয়ে এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। সরকারও কমপ্লেক্সগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ এবং চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহের মাধ্যমে সদিচ্ছার প্রমাণ রেখে যাচ্ছে। এরপরও কেন জনভোগান্তি লক্ষ করা যায়, তা তলিয়ে দেখা জরুরি। বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ বিধায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এদিকে মনোনিবেশ করবেÑ এটাই সবার প্রত্যাশা।