আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

দেশে ফিরেছেন সাকিব

স্পোর্টস রিপোর্টার
| খেলা

অনেক চেষ্টা করা হলেও খেলার মতো অবস্থায় ছিল না সাকিব। বাড়তি যে হাড়ের কারণে সমস্যা হচ্ছিল, সেটি আরও বেড়েছে। অনেক লিকুইড জমা হয়েছে। ব্যাটই ধরতে পারছে না।

পাকিস্তানে বিপক্ষে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি সাকিব। সেই ইনজুরিতেই দেশে ফিরতে হলো তাকে। বুধবার বিকালেই দুবাই থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন এই অলরাউন্ডার। দেশে ফেরার পর সিদ্ধান্ত হবে অস্ত্রোপচারের ব্যাপারে। মেলবোর্ন কিংবা নিউইয়র্কে হবে তার আঙুলের অস্ত্রোপচার। সাকিবের আঙুলে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন ছিল আরও আগেই। কিন্তু দলের প্রয়োজনের কথা ভেবে ব্যথানাশক নিয়ে খেলানো হচ্ছিল তাকে এশিয়া কাপে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সুপার ফোরের শেষ ম্যাচের আগে আঙুলের অবস্থার অবনতি হওয়ায় খেলতে পারেননি ম্যাচটিতে। তার দেশে রওনা হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থানীয় সময় বিকাল ৪টার ফ্লাইটে সাকিব দেশে রওনা হন। মেলবোর্নেই অস্ত্রোপচার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে নিউইয়র্কেও হতে পারে। যেখানেই হোক, আগামী শনি বা রোববার অস্ত্রোপচারের জন্য যেতে পারেন সাকিব। 

এর আগে এশিয়া কাপের সুপার ফোর পর্বের শেষ ম্যাচে খেলতে নামার আগে এমন দুঃসংবাদে হতাশ হয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ম্যাচের ঘণ্টা দুয়েক আগে পুরো দল অনুশীলন করলেও সাকিব সেখানে ছিলেন না। তখনই দেখা দিয়েছিল আশঙ্কা। যদিও ম্যাচের আগের দিন পর্যন্ত প্রধান কোচ স্টিভ রোডস এবং অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ইতিবাচক কথাই বলেছিলেন সাকিবের বিষয়ে। কিন্তু টসের ঠিক আগেও খোলাসা করা হয়নি সাকিব খেলবেন কিনা। টসের সময় দুঃসংবাদটা পেয়েছিল বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশের টিম ম্যানেজার সূত্রমতে জানা যায়, গেল কয়েক দিনে দুইবার ডাক্তারের কাছে গেছেন সাকিব। সবশেষ রিপোর্টে জানা যায়, তার বাঁ হাতের আঙুল ফুলে আছে। বাঁ হাতে সে ব্যাটই ধরতে পারছে না। যে কারণে তাকে বিশ্রাম দিতে হয়েছে। আঙুলের চোটে অনেক দিন ধরেই ভোগাচ্ছে সাকিবকে। এশিয়া কাপের আগে অস্ত্রোপচার করানোর কথাও ছিল। কিন্তু এশিয়া কাপে খেলার জন্য তিনি অস্ত্রোপচার না করিয়ে ইনজেকশন নিয়ে খেলছিলেন। তবে গতকাল আর পারলেন না মাঠে নামতে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর থেকে ফিরেই আঙুলের অস্ত্রপচার করানোর কথা ছিল সাকিবের। কিন্তু নিজে থেকেই জানান এশিয়া কাপে খেলার কথা। আর এ কারণেই, ‘আরও একটি টুর্নামেন্ট না হয় এভাবেই (ইনজুরি নিয়ে) খেললাম’ বলেছিলেন সাকিব। সেই চোট নিয়ে খেলতে গিয়ে এবার বিপদে পড়তে যাচ্ছেন সাকিব। টুর্নামেন্টে মঙ্গলবারের আগ পর্যন্ত ব্যথানাশক নিয়ে সামলে নিচ্ছিলেন নিজেকে। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আঙুলের এমন অবস্থা যে, ব্যাটই ধরতেই পারছেন না। ফাইনালের ওঠার ম্যাচে তাই সাকিব আল হাসানকে পেল না বাংলাদেশ।
আগের ম্যাচের একাদশ থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে পরিবর্তন আনা হয় তিনটি। তবে সবচেয়ে বড় খবর সাকিবের না থাকা। বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার জানালেন, অনেক চেষ্টা করা হলেও খেলার মতো অবস্থায় ছিল না সাকিব। বাড়তি যে হাড়ের কারণে সমস্যা হচ্ছিল, সেটি আরও বেড়েছে। অনেক লিকুইড জমা হয়েছে। ব্যাটই ধরতে পারছে না। সাকিব না থাকা সবসময়ই দলের জন্য বড় ধাক্কা। দলের সমন্বয়ে গড়বড় হয় যথেষ্টই। এবার যেমন তার জায়গায় একাদশে নেওয়া হয়েছে মুমিনুল হককে। একাদশে তাই একজন বিশেষজ্ঞ স্পিনারও কম থেকে যাচ্ছে।
একাদশের বাকি দুটি পরিবর্তনই প্রত্যাশিত। তিন ম্যাচে সুযোগ পেয়ে উল্লেখযোগ্য কিছু করতে না পারা নাজমুল হোসেন শান্ত হারিয়েছেন জায়গা। গত অক্টোবরের পর প্রথম ওয়ানডে খেলছেন সৌম্য সরকার। ক্যারিয়ারে একমাত্র সেঞ্চুরিটি এ বাঁ-হাতি ওপেনার করেছিলেন পাকিস্তানের বিপক্ষেই, ২০১৫ সালে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একজন বাড়তি স্পিনার নিয়ে খেলেছিল দল। পাকিস্তানের বিপক্ষে আবার ফিরে আসতে হয়েছে তিন পেসারে। নাজমুল ইসলাম অপুর বদলে একাদশে ফিরেছেন রুবেল হোসেন।