আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধে ধস, পদ¥াপাড়ে আতঙ্ক

রাজশাহী ব্যুরো
| শেষ পাতা

পদ্মা নদীর পানি এক সপ্তাহ ধরেই কমছে। কিন্তু পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহীর নদী পাড়ের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মাঝে রাজশাহী নগরীর শ্রীরামপুর এলাকায় শহররক্ষা বাঁধে ধস নেমেছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে উঠেছে পদ্মাপাড়ের মানুষ। শ্রীরামপুরে বাঁধটির নির্মাণ কাজ শেষ হয় মার্চে। কিন্তু বছর না ঘুরতেই এতে ধস নামায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। এদিকে ধস ঠেকাতে এখন জরুরিভাবে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলছে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তবে এতে কতটুকু ধস ঠেকানো যাবে, তা নিয়ে সংশয়ে স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার দুপুরে শ্রীরামপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শহররক্ষা বাঁধের টি-গ্রোয়েন এলাকায় পুলিশ লাইনের সামনের অংশে ধস নেমেছে। পাড়ের মাঝমাঝি অংশ থেকে সিসি ব্লক বসানো এ বাঁধের ধস ঠেকাতে নিচের অংশে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। মাত্র ৯ মাস আগে এ ব্লকগুলো বসানো হয়েছিল। এখন সেগুলো নদীর পানিতে নামতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজের কারণে এ ধস নেমেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, এ এলাকায় ছোট ছোট নারিকেল গাছ ছিল। কয়েক বছর আগে ভাঙনের কবলে পড়ে সেগুলো নদীতে ভেসে গেছে। পুলিশ লাইন ক্রমাগত ঝুঁকির মুখে পড়ায় বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত শুষ্ক মৌসুমে কোটি টাকা ব্যয়ে শহররক্ষা বাঁধের এ এলাকায় সিসি ব্লক বসানো হয়। কিন্তু কাজের মান খারাপ হওয়ায় এক বছর না যেতেই আবারও নদীপাড়ে ধস নেমেছে। পানি কমায় সিসি ব্লক এখন খুলে পড়ছে।

শ্রীরামপুর এলাকায় সরেজমিন দেখা গেছে, নদীর পানি কমতে থাকায় ব্লকে ধস নামার পাশাপাশি ভাঙনও দেখা দিয়েছে। ব্লক দিয়ে বাঁধানো অংশের সামান্য আগে এবং টি-গ্রোয়েনের উত্তরে নদীর পাড়ে এ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় বাঁধ ও নদী পাড়ে দর্শনার্থীদের না দাঁড়ানোর জন্য বিপদ সংকেতসূচক লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৫ সালের বন্যার সময় থেকেই টি-বাঁধের এই এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছিল। এ কারণে জিওব্যাগ ফেলে বাঁধটি অস্থায়ীভাবে রক্ষা করা হয়। স্থায়ী সমাধানে গত বছর ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ব্লক দিয়ে পাড় বাঁধাই করা হয়। গত বছর কাজটি শুরু হয়ে এ বছর মার্চে শেষ হয়। তখন কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন স্থানীয়রা। তবে তা আমলে নেয়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পাউবো।
বাঁধটিতে ধস নামা নিয়ে জানতে চাইলে পাউবোর রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান বলেন, কাজ ভালোভাবেই হয়েছিল। কিন্তু পানি কমলে ভাঙন বা ধস দেখা দেয়। এটা স্বাভাবিক। বাঁধের এ অংশ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটা দুর্ঘটনা বলা যেতে পারে। তবে এ নিয়ে আশঙ্কার কিছু নেই। ভাঙন প্রতিরোধে তারা সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।