আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

রক্ষা পেল ১৭১ প্রাণ

চট্টগ্রামে ইউএস-বাংলা বিমানের জরুরি অবতরণ

চট্টগ্রাম ব্যুরো
| শেষ পাতা

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বুধবার দুর্ঘটনাকবলিত ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ ষ আলোকিত বাংলাদেশ

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান। সামনের চাকা না খোলায় বিমানটিকে জরুরি অবতরণ করতে হয়। এতে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে ১৭১টি প্রাণ। বুধবার দুপুর ১টায় এ ঘটনা ঘটে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বোয়িং ৭৩৭ এইটকিউএইট বিমানটি ঢাকা  থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে যান্ত্রিক ত্রুটিতে পড়ে। সেখান থেকে দ্রুত কাছের বিমানবন্দর শাহআমানতে জরুরি অবতরণ করে। বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সারওয়ারই জাহান আলোকিত বাংলাদেশকে জানান, বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। নিরাপদেই বিমানটি অবতরণ করেছে। ইউএস-বাংলার মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম জানান, যাত্রীদের অক্ষত অবস্থায় নামানো সম্ভব হয়েছে। সম্ভবত উড়োজাহাজটির সামনের অংশে  কোনো একটি ত্রুটি ধরা পড়ায় তা দ্রুত অবতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা থেকে বিএস-১৪১ ফ্লাইটটি কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেয়। সেটি দুপুর সাড়ে ১২টায় কক্সবাজার পৌঁছার কথা ছিল। তবে পথেই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখতে পান পাইলট। তিনি দেখেন, সামনের চাকা খোলেনি। এরপর পাইলট নিয়ন্ত্রণ কক্ষের পরামর্শে ফ্লাইটটি নিয়ে আসেন চট্টগ্রামের আকাশে। সেখানে কিছুক্ষণ চক্কর দেন তিনি। পরে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে শাহ আমানতে জরুরি অবতরণ করে। বিমানটিতে ১৭১ জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৬৪ জন যাত্রী এবং সাতজন ক্রু ছিলেন। যাত্রীদের ১১ জন শিশু। 
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক জসীমউদ্দিন জানান, জরুরি অবতরণের আগেই ফায়ার সার্ভিস বিমানবন্দরে অবস্থান নেয়। সব ধরনের প্রস্তুতি ছিল আমাদের। বিমানটি অবতরণের সময় ধারণ করা একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সামনের চাকা ছাড়াই সোজাভাবে চলতে থাকে এটি। শেষ মুহূর্তে গিয়ে সামনের অংশ লেগে যায় রানওয়েতে। প্রচ- ঘর্ষণে এসময় ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। এরপরই এটি রানওয়েতে থেমে যায়। দ্রুত ফ্লাইটের কাছে ছুটে যান উদ্ধারকারীরা।
মৃত্যু আতঙ্ক : এক যাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমাদের তখন ইয়া নফসি ইয়া নফসি অবস্থা। মনে হয়, দুর্ঘটনায় বাঁচব না। ফ্লাইটের আসনে যে যার ভেস্ট পরে মাথা নিচু করে রয়েছি। এরপর ফ্লাইটটি যখন রানওয়েতে নামল টের পাচ্ছিলাম, ঘর্ষণে সবকিছু ভেঙে যাচ্ছে। তীব্র পোড়া গন্ধ নাকে এসে লাগল। ফ্লাইটের ককপিট থেকে আমাদের বলা হয়নি ফ্লাইটের কোনো সমস্যা রয়েছে। তারা কেবল বলছিলেন, রানওয়েতে সমস্যা বলেই কক্সবাজারে ফ্লাইটটি নামানো যাচ্ছে না। এটি চট্টগ্রামে অবতরণ করানো হচ্ছে। ওই যাত্রী আরও জানান, প্রায় আধাঘণ্টা ধরে কক্সবাজারের আকাশে ফ্লাইটটি যখন চক্কর খাচ্ছিল তখন যাত্রীরা এক পর্যায়ে অস্থির হয়ে ওঠেন। যাত্রীরা বিষয়টি জানতে চাইলে ককপিট থেকে জানানো হয়, রানওয়েতে সমস্যা থাকার কারণে ফ্লাইট অবতরণে দেরি হচ্ছে। এক পর্যায়ে ঘোষণা দেওয়া হয়, কক্সবাজারের রানওয়েতে সমস্যা থাকায় ফ্লাইটটি চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হবে। এরপর চট্টগ্রামের আকাশেও কয়েকবার চক্কর  দেওয়ার পর ঘোষণা আসে, সবাই যেন লাইফভেস্ট পরে নেয় এবং মাথা নিচু করে রাখে। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ালেও সবাই সে অবস্থান নিয়ে নেয়। এরপর হঠাৎ ঘর্ষণের শব্দ আসতে থাকে। বোঝা যায়, উড়োজাহাজটি চাকার ওপর ল্যান্ড করতে পারেনি। ঘর্ষণে মনে হচ্ছিল সবকিছু ভেঙে যাচ্ছে। এক পর্যায়ে পোড়া গন্ধও এসে নাকে লাগে। তবে এ পর্যায়ে উড়োজাহাজটির গতি থেমে গেলে দ্রুত র‌্যাফটগুলো (ইমার্জেন্সি এক্সিট) খুলে দেওয়া হয়। এরপর যাত্রীরা একে একে নেমে আসে।
ইউএস-বাংলার মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম বলেন, সামনের চাকা না  খোলার কারণেই এ জরুরি অবতরণ। পাইলটের দক্ষতার কারণেই যাত্রীদের অক্ষত রেখে উড়োজাহাজটি থেকে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। নগরীর পতেঙ্গা থানার ওসি উৎপল কান্তি বড়ুয়া জানান, একজন যাত্রী পায়ে সামান্য আঘাত পেয়েছেন। বাকি যাত্রীরা সুস্থ আছেন। তবে তারা আতঙ্কিত। যাত্রীদের নিরাপদে টার্মিনাল ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় মোট সাত যাত্রী আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। 
বিমানবন্দরের একটি সূত্র জানায়, বিমানটি চালাচ্ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত  স্কোয়াড্রন লিডার জাকারিয়া। তার সঙ্গে একজন সহপাইলটও ছিলেন। কক্সবাজারে পৌঁছে যখন বিমানটির চাকা খুলছিল না তখন আকাশে বারবার চক্কর দিয়ে তিনি এর জ্বালানি প্রায় শেষ করেন। ফলে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করতে পারে উড়োজাহাজটি। সূত্রটি জানায়, অতিরিক্ত ফুয়েল নিয়ে জরুরি অবতরণ করলে উড়োজাহাজটিতে আগুন ধরে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
শাহ আমানতে বিমান ওঠানামা শুরু : প্রায় ৫ ঘণ্টা বন্ধ থাকায় শাহ আমানত বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা ফের চালু হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টার পর বিমান ওঠানামা শুরু হয়। বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সারওয়ারই জাহান আলোকিত বাংলাদেশকে জানান, বিমান ওঠানামায় এখন কোনো সমস্যা নেই। ইউএস বাংলার দুর্ঘটনা কবলিত ফ্লাইটটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।