আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

পরবর্তী শুনানি ২ অক্টোবর

বাবু সোনা হত্যা মামলা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বদলি

রংপুর ব্যুরো
| শেষ পাতা

রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনা হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আমলে নিয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ দিয়েছেন বিচারক। বুধবার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা ইয়াসমীন মুক্তা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। সেই সঙ্গে তিনি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ২ অক্টোবর নির্ধারণ করেন। 

এর আগে সকাল ৯টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এ মামলার অভিযুক্ত দুই আসামি নিহত বাবু সোনার স্ত্রী সিগ্ধা সরকার দীপা এবং তার প্রেমিক কামরু ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়। হত্যাকা-ের ঘটনায় দীপা ও কামরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে গেল ১৩ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা ইয়াসমীন মুক্তার আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন রংপুরের কোতোয়ালি থানার এসআই আল-আমিন। মামলার বিবরণে জানা যায়, নগরীর তাজহাট উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সিগ্ধা সরকার দীপার সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে একই স্কুলের শিক্ষক কামরুল ইসলামের। মূলত পরকীয়া, পারিবারিক অশান্তি ও বাবু সোনার অর্থ-সম্পত্তি আত্মসাতের আশায় তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন দীপা এবং কামরুল। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে দুজনেই হত্যাকা-ের দায় স্বীকার করেছেন। 
প্রসঙ্গত, ২৯ মার্চ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাবু সোনাকে ভাত ও দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ান স্ত্রী দীপা। ঘটনার ২ ঘণ্টা আগে থেকেই বাবু সোনার শোয়ার ঘরের পাশে অবস্থান নেন কামরুল ইসলাম। ওষুধ খাওয়ানোর পর বাবু সোনা অচেতন হয়ে পড়লে কামরুল ঘরে ঢুকে নিপাকে নিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করেন। বাবু সোনা নিখোঁজের পর ৩১ মার্চ কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি ও পরের দিন রোববার থানায় মামলা করেন তার ছোট ভাই সুশান্ত ভৌমিক সুবল। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় বাবু সোনার স্ত্রী দীপাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব-১৩ আটক করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি এ হত্যাকা-ের দায় স্বীকার করেন এবং মরদেহের অবস্থান সম্পর্কে জানান।