আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

প্রতিদিন আমদানি দেড় হাজার মণ

বরিশালের মোকাম ইলিশে সয়লাব

খান রফিক, বরিশাল
| শেষ পাতা

ইলিশের মৌসুম শেষ হয়ে আসছে। এমন সময় ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ। নগরীর মোকামে ইলিশের আমদানি বেড়েছে। নদ-নদীতে ইলিশ বেশি ধরা পড়ায় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকের কর্মব্যস্ততাও বেড়েছে। এক সপ্তাহ ধরে নগরীর পোর্ট রোড মোকামে প্রতিদিন ইলিশের গড় আমদানি দেড় হাজার মণ। এক সপ্তাহ আগেও আমদানির পরিমাণ ছিল প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার মণ। তবে ইলিশের আমদানি বাড়লেও এর পরিমাণ গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক কম বলে ব্যবসায়ীরা জানান। সাধারণ ক্রেতারা অবশ্য দাবি করছেন, বিপুল পরিমাণ ইলিশ আমদানির তুলনায় এর দাম ততটা কমেনি।

বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস বলেন, এক সপ্তাহ ধরে নগরীর পোর্ট রোড মোকামে ইলিশ আমদানি অনেক বেড়েছে। এখন প্রতিদিন দেড় হাজার মণ ইলিশ আসছে মোকামে। ফলে দামও অনেকটা কমেছে। বুধবার মোকামে ইলিশের দর ছিল প্রতি মণ স্থানীয় নদ-নদীর এলসি সাইজ (৭০০-৯০০ গ্রাম ওজন) ২২ থেকে ২৪ হাজার টাকা ও সাগরের এলসি সাইজের মণ ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। সে হিসেবে পাইকারি বাজারে এলসি সাইজ ইলিশের কেজি বিক্রি হয়েছে নদ-নদীর ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং সাগরের এলসি সাইজ ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। ৫০০ গ্রাম কিম্বা তার চেয়ে কম ওজনের ইলিশের মণ ছিল ১৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ এ সাইজের ইলিশের কেজি পাইকারি বাজারে বিক্রি হয়েছে ৪০০ টাকা। পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। 

আমদানি বেশি হওয়ায় মোকামের দৃশ্যপটও বদলে গেছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে পোর্ট রোড মোকামে গিয়ে দেখা গেছে, দূরদূরান্ত থেকে আসা ট্রলার থেকে ইলিশ নামাতে ব্যস্ত শ্রমিকরা। সাইজ অনুযায়ী ওই ইলিশ আলাদা আলাদা স্তূপ করে দাম হাকানো হচ্ছে। অবশ্য ক্রেতার ভিড়ও উপচে পড়া। কথা হয় মোকামে ইলিশ কিনতে আসা মজিবর রহমান নামে এক শিক্ষকের সঙ্গে। তিনি জানান, ইলিশ উঠেছে প্রচুর। কিন্তু দেখা যাচ্ছে ট্রাক ভরে তা বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দাম অনেক কমেছে। কিন্তু যে পরিমাণ ইলিশ উঠেছে সে তুলনায় দাম কমেনি। একাধিক ক্রেতা জানান, বরিশাল মোকামে একটি ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট রয়েছে। ওই সিন্ডিকেট ইলিশের দাম কমতে দিচ্ছে না।
মোকামের লিয়া মৎস্য আড়তের মালিক নাসির উদ্দিন মিয়া বলেন, ইলিশের মৌসুম এখন শেষ পর্যায়ে। মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করতে ২২ দিনের জন্য ইলিশ নিধনে নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে ৭ অক্টোবর থেকে। এবার মৌসুমের শুরুতে আকাল থাকলেও এক সপ্তাহ ধরে পোর্ট রোড মোকামে পর্যাপ্ত ইলিশের আমদানি হচ্ছে বলে এ ব্যবসায়ী জানান। এদিকে নগরীর অলিগলিতে দেখা গেছে, ভ্রাম্যমাণ মাছ বিক্রেতারা পাইকারি অপেক্ষা ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দরে ইলিশ বিক্রি করছেন।
এ ব্যাপারে বরিশাল মৎস্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অজিত দাস জানান, এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজার মণ ইলিশ আসছে। এর আগে ১ হাজার মনের বেশি আমদানি হতো না। তিনি আরও জানান, সাগরের ইলিশের পাশাপাশি স্থানীয় নদ-নদীতেও প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে প্রতি মণে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা করে দামও কমেছে। ইলিশ আমদানি অপেক্ষা এর বর্তমান দাম সহনীয় ও গ্রহণযোগ্য কিনাÑ এ বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।