আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বগুড়া-৩

আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে

ফেরদৌসুর রহমান, বগুড়া
| শেষ পাতা

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মতো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও প্রচারণায় সরব হয়ে উঠেছেন বগুড়া-৩ সংসদীয় আসনে। আদমদীঘি ও দুপচাঁচিয়া এ দুটি উপজেলা নিয়ে বগুড়া-৩ সংসদীয় আসন গঠিত। জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে ২০১৮ সালে এ আসনের ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭৮; এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৭ হাজার ১২৫ ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৪৯ হাজার ২৫৩ জন।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের সরব প্রচারণায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আঁচ করতে পারছে জনসাধারণ। এরই মধ্যে বড় দুই দলের একাধিক নেতা এলাকায় সময় দিতে শুরু করেছেন। মনোনয়ন নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে মাঠ গোছাতে শুরু করেছেন তারা। বিভিন্ন সামাজিক কাজ, দলীয় সভা-সমাবেশ, হাটবাজারে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন, বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন স্পটে ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার লাগাচ্ছেন। এতে নির্বাচনি হাওয়া অনুভব করছেন ভোটাররা। এসব নেতা এলাকার পাশাপাশি কেন্দ্রেও নিয়মিত লবিং-গ্রুপিং করছেন। দলের মনোনয়ন পেতে তারা দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। ওপরের নেতাদের চোখে পড়ার জন্য মাঠে নামার দৃশ্য বিভিন্নভাবে উপলব্ধি করানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। 
জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম তালুকদার সরকারি সব বরাদ্দের কাজ বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, আমার আসনে মসজিদ-মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাটসহ শতভাগ উন্নয়ন কার্যক্রম করেছি যা বিগত সময় হয়নি, তাই এবারও আমি মনোনয়ন পাব বলে আশা করি। আওয়ামী জোটের নেতাদের মুখে তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি সব অভিযোগ মিথ্যা-বানোয়াট বলে দাবি করেন।   
এ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকার শীর্ষে থাকা  আদমদীঘি উপজেলা সভাপতি আনছার আলী মৃধা ২৫ জুলাই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার  মৃত্যুতে দলের পক্ষে কে মনোনয়ন পাবেন তার হিসাব-নিকাশ নতুন করে শুরু হয়েছে। দল কাকে মনোনয়ন দেবে সে বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে বলে জানান স্থানীয় নেতারা। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে যার বেশি জনপ্রিয়তা এবং সংগঠনকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে?
সে দৌড়ে এখন পর্যন্ত মাঠে আছেন আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম খান রাজু। এ বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই আমি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, আমি শতভাগ আশাবাদী দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। এ বিষয়ে রাজু জানান, এজন্য তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সংগঠিত করছেন, দলীয় সব প্রোগ্রাম শতভাগ বাস্তবায়নসহ এলাকার উন্নয়নে তিনি সোচ্চার, তিনি মানুষের বিপদ-আপদে পাশে দাঁড়ান। রাজু আদমদীঘি ইউনিয়ন পরিষদে পর পর পাঁচবার নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগে যোগদানের পরপরই উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তারপর থেকে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে অক্লান্ত পরিশ্রম করে দল গুছিয়ে নিয়েছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। বিগত সময় এ উপজেলায় জামায়াত-শিবিরের কার্যক্রম বন্ধ করতে তিনি দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। তার নেতৃত্বের কারণে এখানে জামায়াত-বিএনপির রাজনীতি শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে তিনি ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন। এছাড়া তিনি প্রতিটি দলীয় কর্মসূচি যথাযথভাবে নেতাকর্মীদের নিয়ে পালন করেন।
দুপচাঁচিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান খান সেলিম বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশেই আমি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তৃণমূল কর্মীদের সংগঠিত করে দলের অনুষ্ঠান, জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক, কর্মীদের বিপদে পাশে থাকাসহ নানা সামাজিক কর্মকা- অব্যাহত রেখেছি; এজন্য দলীয় মনোনয়ন পাব বলে আশা করি।  
অ্যাডভোকেট তবিবর রহমান তবি ছিলেন ৭০ দশকে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের তুখোড় নেতা। বগুড়া বারের সাবেক যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। আইন পেশায় থাকার ফলে এলাকাবাসীকে আইন বিষয়ে সহায়তা প্রদান করে আসছেন। ধর্মীয় অনুষ্ঠান, দলীয় প্রোগ্রাম, উঠান বৈঠকসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। তিনি আশা করেন দলীয় মনোনয়ন তিনিই পাবেন। এছাড়াও নৌকার প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে জেলা সহ-সভাপতি সোলায়মান আলী মাস্টারের। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তিনি বিএনপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। 
জাতীয় শ্রমিক লীগের আদমদীঘি উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম রাজাও মনোনয়ন প্রত্যাশী। রাজা গেল পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। স্বল্প ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। তিনি শ্রমিক লীগের নেতা হলেও মূল দলকে সহযোগিতা করতে প্রতিটি প্রোগ্রামে যথাযথ সহযোগিতা ও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামের ছেলে। রাজা দলের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানসহ সেবামূলক সংগঠনের নেতৃত্বে আছেন। স্বেচ্ছায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কাজকর্ম এবং অসহায় জনগোষ্ঠীকে প্রতিনিয়ত আর্থিক সহযোগিতা করে আসছেন। তিনি আশা করছেন আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাবেন। 
সান্তাহার পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য মো. জাহিদুর বারীও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। এ লক্ষ্যে তিনি পোস্টার-ফেস্টুন টাঙিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে দোয়া চাচ্ছেন। তিনি একজন সৎ ব্যবসায়ী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তিনি জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে আদমদীঘি উপজেলা থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজকর্ম নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। মসজিদ, মাদ্রাসা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ এলাকার ধর্মীয় কাজগুলো তিনি গুরুত্ব দিয়ে করছেন। তার আশা আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হলে নির্বাচিত হয়ে এলাকার মানুষের উন্নয়নসহ দুখি-দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারবেন। আসাদুর রহমান খন্দকার লাইজু ও অজয় রায় নামে আওয়ামী লীগের দুই নেতা মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। সংগঠনের তৃণমূল কর্মীদের সংগঠিত করে দলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণসহ অনেক কর্মকা- তারা করেছেন, তাই তারা দুজনই মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।