আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
| শেষ পাতা

আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস। জনসাধারণের মধ্যে পর্যটন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এ বছরও জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএনডব্লিউটিও) উদ্যোগে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। ১৯৮০ সাল থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালন করা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো ‘পর্যটনের বিকাশে তথ্য-প্রযুক্তি’।

দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। বাণীতে তিনি বলেন, অবকাঠামো ও জ্বালানি থেকে শুরু করে পরিবহন এবং স্বাস্থ্যবিধি পর্যন্ত বহু খাতের বিস্তৃতি লাভ করায় এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখায় টেকসই উন্নয়নের এজেন্ডা ২০৩০ অর্জনের ক্ষেত্রে পর্যটন গুরুত্বপূর্ণ একটি খাতে পরিণত হয়েছে। পর্যটন একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক উপলব্ধিকে এগিয়ে নিতে এবং মানুষে মানুষে যোগাযোগ সৃষ্টিতে কেন্দ্রীয়ভাবে ভূমিকা পালন করছে। এ সত্ত্বেও পর্যটনের সম্ভবনাকে পুরোপুরি উপলব্ধির জন্য প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের প্রয়োজন রয়েছে। এর সুবিধাগুলো আতিথেয়তা দানকারী সম্প্রদায় পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে। সরকার এ ক্ষেত্রে নব উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের যোগাযোগ ঘটিয়ে উদ্ভাবন, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান এবং একটি প্রকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক পর্যটন খাত সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়েই ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণে সমাজ ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক গতি এসেছে। এসব প্রযুক্তি আমাদের বৈশ্বিক পর্যায়ে সংযুক্ত করেছে, সবচেয়ে অরক্ষিতদেরও ক্ষমতায়নে ভূমিকা রেখেছে এবং টেকসই উন্নয়নে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতায় পরিণত হয়েছে। 
আমাদের চ্যালেঞ্জ হলো, ঝুঁকিগুলো প্রতিহত করার পাশাপাশি এ শক্তিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানো। বিশ্ব পর্যটন দিবসে, আমি সব সরকারের প্রতি ডিজিটাল প্রযুক্তিকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানাই, যাতে এটি আমাদের ভ্রমণের উপায়গুলোয় রূপান্তর ঘটায়, পর্যাটনের কারণে পরিবেশের ওপর সৃষ্ট চাপ কমায় এবং সবার জন্যই তা লাভজনক হয়ে ওঠে।
এছাড়া প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশ পর্যটন সংস্থা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। পর্যটনের ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উপযোগিতাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া এ দিবসের লক্ষ্য। দিবস উপলক্ষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য দূরীকরণে পর্যটন শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই বর্তমান সরকার পর্যটন শিল্পের বিকাশের প্রতি গুরুত্বরোপ করেছে। তিনি বলেন, জাতীয় শিল্পনীতি-২০১০ এ পর্যটন শিল্পকে অগ্রাধিকারমূলক খাত হিসেবে চিহ্নিতকরণ, জাতীয় পর্যটন নীতিমালা-২০১০ প্রণয়ন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রতিষ্ঠা, পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ, প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর উন্নয়ন, সড়ক, রেল ও বিমান পরিবহন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণ, মেরিন ড্রাইভের সম্প্রসারণ এবং কক্সবাজারের টেকনাফে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। 
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে মন্ত্রণালয়, বিটিভি, বিপিসি ও বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। পর্যটন শিল্পের বিকাশে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিপাদ্যে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আজ রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে শুরু হবে ‘ট্যুরিজম ফেস্ট ২০১৮’। তিন দিনের এ আয়োজন চলবে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। উৎসবস্থলে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করবে। বিকাল সাড়ে ৩টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল। উৎসবের দ্বিতীয় দিন ২৮ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টায় দিবস উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক। ২৯ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টায় উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।