আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

অর্থমন্ত্রীকে রেলমন্ত্রীর চিঠি

ছয় বিভাগে চলবে বুলেট ট্রেন

জাতীয় নির্বাচনের আগেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন : সময় লাগবে ২০ বছর

সজীব হোমরায়
| প্রথম পাতা

ঢাকা-চট্টগ্রামসহ ছয় বিভাগে হাইস্পিড (বুলেট) ট্রেন চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। রুটগুলো হলো ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-বরিশাল, ঢাকা-খুলনা। এছাড়া ঢাকা-দিনাজপুরেও চলবে বুলেট ট্রেন। তবে সবার আগে চলবে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে। এ রুটে হাইস্পিড রেলপথ নির্মাণ ও চালুকরণ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এছাড়া ২০৩৫ সালের মধ্যে সব লাইনই ডুয়েলগেজে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দ্রুতগতির ট্রেন ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারবে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে লেখা রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের এক চিঠিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে। 

ঢাকা-সিলেট রেলপথের সার্বিক 

অবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়ে রেলমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। এর জবাবে রেলমন্ত্রী শুধু ঢাকা-সিলেট নয়, পুরো রেলের মহাপরিকল্পনার কথা জানান। রেলমন্ত্রীর চিঠির তথ্য মতে, রেলওয়ের বিদ্যমান নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উপ-আঞ্চলিক রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে দেশের সব মিটারগেজ সেকশনকে পর্যায়ক্রমে ডুয়েলগেজে রূপান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের ঢাকা-আখাউড়া-লাকসাম সেকশনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হচ্ছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে সব লাইনই ডুয়েলগেজে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রেলের রুটগুলো ডুয়েলগেজে উন্নীত হলে কমপক্ষে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে রেল চলাচল করতে পারবে। এতে যাত্রীদের অনেক সময় সাশ্রয় হবে। আর বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ বছরের মধ্যে ঢাকার সঙ্গে পাঁচ রুটে হাইস্পিড রেল স্থাপন করতে পারলে অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে বিভাগীয় শহরগুলোতে যাতায়াত করা সম্ভব হবে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে। জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে এরই মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। চায়না রেলওয়ে ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো গ্রুপ কোম্পানি লিমেিটডকে কন্ট্রাক্ট নেগোসিয়েশন ও কমার্শিয়াল কন্ট্রাক্ট স্বাক্ষর হয়েছে। এজন্য জি-টু-জি ভিত্তিতে রেলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সম্মতিতে ৯ সদস্যের নেগোসিয়েশন কমিটি কাজ করছে। সেই কমিটিকে সহায়তা দিচ্ছে অন্য আরেকটি সাত সদস্যের কমিটি।
দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিরাপদ, আনন্দময় ভ্রমণের মাধ্যমে দূরত্ব কমিয়ে আনতে এই হাইস্পিড রেলপথ নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সূত্র জানায়, দেশের মানুষকে যাতায়াত ব্যবস্থায় স্বস্তি দিতে রেল খাত উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ প্রধান পাঁচটি রুটে হাইস্পিড রেল চালু করা হচ্ছে। সবার আগে এ রেল চালু হবে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে, যার কাজ বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদে শুরু হতে যাচ্ছে। ঢাকা থেকে কুমিল্লার লাকসাম হয়ে চট্টগ্রাম গিয়ে পৌঁছাবে এ রেলপথ। 
সূত্র আরও জানায়, এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, বিশদ ডিজাইন ও নির্মাণ কাজের জন্য এরই মধ্যে পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরামর্শক সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত এ প্রকল্পের কাজ শুরু করতে চায় সরকার। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যাত্রীরা মাত্র দুই ঘণ্টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছতে পারবেন। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের চুক্তির অংশ হিসেবে প্রকল্পটির নকশা তৈরির কাজ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বাকি রুটগুলোর কাজও ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানা গেছে।