আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের পাশে থাকা উচিত বিশ্বের

রোহিঙ্গা সংকট

আলোকিত ডেস্ক
| প্রথম পাতা

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত বাংলাদেশের পাশে থাকা এবং অব্যাহতভাবে সহযোগিতা আরও বাড়ানো। মঙ্গলবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ 

আহ্বান জানান জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কনো। ‘দ্য ওয়ার্ল্ড মাস্ট সাপোর্ট মিয়ানমার অ্যান্ড বাংলাদেশ’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে আশ্রয় শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য সহযোগিতা বাড়ানোর জন্যও বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
প্রতিবেদনে তারো কনো বলেন, ‘গত নভেম্বরে আমি কক্সবাজারে শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করি। সেখানে রাখাইন রাজ্য থেকে আসা ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। পরে জানুয়ারিতে (চলতি বছরের) আমি রাখাইনের উত্তরাঞ্চল পরিদর্শন করি। এ দুই সফর আমার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে, যা আমাকে রাখাইন (রোহিঙ্গা) ইস্যুটিকে জাপানের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে প্রাধান্যমূলক বিষয় হিসেবে রাখতে বাধ্য করেছে।’ তিনি বলেন, ‘গত আগস্টে আমি মিয়ানমার ও বাংলাদেশে দ্বিতীয়বারের মতো যাই এবং (রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে) একটা উপায় বের করতে দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করি।’ তারো কনো বলেন, ‘শরণার্থী সমস্যার সমাধান দুই দেশকেই বের করতে হবে।’ প্রতিবেদনে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার ও বাংলাদেশ উভয় দেশই রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন চায়। আমাদের উচিত তাদের সেই চেষ্টাকে সহায়তা করা এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আস্থা ও সহযোগিতা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখা।’
কক্সবাজারে শরণার্থী ক্যাম্পের উন্নয়ন জরুরি উল্লেখ করে তারো কনো বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তার মাত্র ৩৮ শতাংশ সরবরাহ করছেন দাতারা। তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজনের জন্য রোহিঙ্গদের বোঝা দিন দিন ভারি হওয়া সত্ত্বেও তারা তাদের ভূমি, খাবার ও পানি রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করছেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত বাংলাদেশকে সমর্থন করা এবং ঘাটতি পূরণের জন্য সহযোগিতা আরও বাড়ানো। তিনি বলেন, তথাপি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হলো রোহিঙ্গাদের যথাশিগগির সম্ভব রাখাইনে তাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওই অভিযানে বহু রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়। তাদের ঘরদোর পুড়িয়ে দেওয়া হয়। হত্যা-ধর্ষণ-নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হন ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে তাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।