আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বিএনপিকে বিকল্প ধারার শর্ত

জাতীয় ঐক্যে জামায়াত সংকট

দীপক দেব
| প্রথম পাতা

স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক রাখলে বিএনপির সঙ্গে জাতীয় ঐক্য
হবে না ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী

আনুষ্ঠানিকভাবে গাঁটছড়া বাঁধার আগেই ‘জামায়াত সংকট’ দেখা দিয়েছে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায়। এ প্রক্রিয়ার প্রধান শক্তি হিসেবে বিএনপিকে বিবেচনা করা হয়; কিন্তু সেই দলটিকে তার জোট শরিক জামায়াতে ইসলামীকে ছেড়ে আসার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। আর এ শর্ত দিয়েছে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার অন্যতম উদ্যোক্তা যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর দল বিকল্প ধারা। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে সম্পর্ক রাখলে বিএনপির সঙ্গে জাতীয় ঐক্য হবে না। এ ঐক্যে আসতে হলে দলটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াত ছাড়ার ঘোষণা দিতে হবে। তবে বিকল্প ধারার এ শর্তের সঙ্গে ঐক্য প্রক্রিয়ার অন্য কারও কারও মতপার্থক্য রয়েছে বলে জানা গেছে।

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারসহ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি আদায়ে রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি জাতীয় ঐক্য গঠনের জন্য কাজ করে আসছিল। এর পাশাপাশি গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও বিকল্প ধারার সভাপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টও একই প্রক্রিয়া নিয়ে নিজেদের মতো করে ছোট-বড় বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলে। এ অবস্থায় জাতীয় ঐক্য গঠনের আগে যৌথ ঘোষণাও দেন এই দুই নেতা। বিএনপিকে এ জোটে আনার বিষয়ে বহু দিন ধরে নিজেদের মধ্যে কথা বলার পাশাপাশি দলটির নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেন তারা। এখানে বিএনপির থিঙ্কট্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী প্রধান ভূমিকা পালন করলেও বিএনপি নেতারা প্রকাশ্যে আসেন ২২ সেপ্টেম্বর মহানগর নাট্যমঞ্চে নাগরিক সমাবেশে। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা এ সমাবেশের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে দাবি বাস্তবায়নে বাধ্য করতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কথা বলেন। এরপর থেকেই রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে। তবে সমাবেশে বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি ইসলামী ঐক্যজোটের দুই-একজন নেতাকে দেখা যায়। কিন্তু ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের শর্তে ওই মঞ্চে জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা উপস্থিত ছিলেন না। জামায়াত ছাড়াও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিয়ে নাগরিক সংলাপে যোগ দেওয়া ও ২০ দলীয় জোটের শরিক ধর্মভিত্তিক দলের এক নেতাকে সঙ্গে নিয়ে আসা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় যুক্তফ্রন্ট তথা বিকল্প ধারার পক্ষ থেকে। 
জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামী ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে শুরু থেকেই মতপার্থক্য রয়েছে বিএনপি ও বিকল্প ধারার মধ্যে। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার জন্য জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ছাড়ার শর্ত দিয়েছে বিকল্প ধারা। একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাড়িতে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সর্বশেষ  বৈঠকেও বিএনপির প্রতিনিধিকে এই শর্ত জানিয়ে দেওয়া হয়। বৈঠকে বিএনপি শীর্ষ পর্যায়ের কোনো নেতা উপস্থিত ছিলেন না। তবে, এই পর্যবেক্ষক হিসেবে ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও জাফরুল্লাহ চৌধুরী। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে বিএনপি ২৯ সেপ্টেম্বর তাদের জনসভায় বার্তা দেবে। মূলত এ কারণে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে লিয়াজুঁ কমিটি গঠনের বিষয়টি পেছানো হয়। 
জানতে চাইলে শর্তের বিষয়টি স্বীকার করে বিকল্প ধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, এখানে অমাদের অবস্থান পরিষ্কারÑ কোন স্বাধীনতা বিরোধী দল বা ব্যক্তিকে এ ঐক্য প্রক্রিয়াতে রাখা যাবে না। এটা আমাদের যৌথ ঘোষণাতে আছে। তাই এটা আমাদের নতুন কোনো শর্ত নয়। তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে আমাদের ঐক্য গড়তে আপত্তি নেই। কিন্তু বিএনপি এক হাতে জামায়াত ধরে রাখবে আরেক হাতে আমাদের ধরে রাখবেÑ সেটা হতে পারে না। কারণ এর মানে আমরাও পরোক্ষভাবে জামায়াতের সঙ্গে রাজনীতি করলাম। বিএনপি এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেবে বলেও মনে করেন তিনি। 
যদিও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত মাহমুদুর রহমান মান্না আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, এটা মাহী বি চৌধুরীর নিজস্ব অবস্থান। তিনি বলেন, আমরাও স্বাধীনতাবিরোধী কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঐক্য করতে চাই না। এখানে আমাদের ঐক্যটা হচ্ছে বিএনপির সঙ্গে। অন্যদের সঙ্গে নয়। বিএনপির সঙ্গে কারা আছে সেটা আমাদের কাছে বিবেচ্য বিষয় নয়।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে রেখে বিএনপির জাতীয় ঐক্যে আসার বিষয়টি নিয়ে ড. কামাল হোসেনের দল গণফোরামের মধ্যেও আলোচনা সমালোচনা আছে। এসব বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার গণফোরামের এক নেতার বাসায় একটি অংশ বৈঠকও করেছেন বলে জানা গেছে।