আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

জিডিপির ৬.৭ শতাংশ ক্ষতির আশঙ্কা

জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকিতে ১৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রথম পাতা

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের ১৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষ, যা দেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ৮৩ শতাংশ। ঝুঁকি মোকাবিলায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ২০৫০ সাল নাগাদ জলবায়ুজনিত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ জিডিপির (মোট দেশেজ উৎপাদন) ৬ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক।

বুধবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের ‘সাউথ এশিয়া হটস্পটস : দ্য ইমপ্যাক্ট অব টেমপারেচার প্রিসিপিটেশন চেঞ্জেস অন লিভিং স্ট্যান্ডার্স’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সংস্থাটি এ তথ্য তুলে ধরে। প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ শেফার, কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান, সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক ড. সুলতান আহমেদ প্রমুখ। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের মুখ্য অর্থনীতিবিদ মুথুরা মানি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ 

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও অতিবর্ষণের ঝুঁকিতে রয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এর নেতিবাচক প্রভাবে ১৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে এ ঝুঁকি মোট জনসংখ্যার অর্ধেক। প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনের ঝুঁকি মোকাবিলার বিষয়গুলো যদি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হয় তাহলে ২০৫০ সাল নাগাদ তাপমাত্রা ২ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে বাড়তে পারে। এখন যা প্রতি বছর এক থেকে দেড় শতাংশ হারে বাড়ছে। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া ও অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে এ দেশের কৃষি, স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতা ক্ষতির মুখে পড়ছে। এতে প্রতি বছর আর্থিক ক্ষতিতে পড়ছে দেশ। এ অবস্থায় ২০৫০ নাগাদ এ ক্ষতিতে জিডিপির ৬ দশমিক ৭ শতাংশ হারাবে বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু মোকাবিলায় আমরা ভালো করছি, অন্যদের তুলনায় অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছি। তবে জলবায়ু মোকাবিলায় কম সুদে আরও ঋণ দরকার। বর্তমান সরকার অনেক ভালো কাজ করছে। এক্ষেত্রে সরকার কিছু ঋণের ব্যবস্থাও করেছে। আশা করছি শেখ হাসিনা সরকার আরও একবার ক্ষমতায় আসবে। এক্ষেত্রে আমাদের ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার যে ভিশন আছে তা পূরণ করা সহজ হবে।
ঝুুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার কারণে কিছু এলাকা ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাবে অভিবাসনের চাপ পড়বে অন্যান্য এলাকায়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ১৬ দশমিক ২০ শতাংশ এলাকা, ৬৬ দশমিক ২০ শতাংশ এলাকা মাঝারি ঝুঁকিতে এবং সাড়ে ১২ শতাংশ এলাকায় মৃদু বা কম ঝুঁকি রয়েছে। সব মিলিয়ে মাত্র ৫ দশমিক ১০ শতাংশ এলাকা ঝুঁকির বাইরে আছে। প্রতিবেদনে ২০৫০ সাল নাগাদ সম্ভাব্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিভাগটির কক্সবাজার ও বান্দরবান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিতে পড়তে পারে। এ দুটি জেলাসহ চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও নোয়াখালীর এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা মান ১৮ শতাংশ নিচে নেমে যেতে পারে। অঞ্চলভিত্তিক ঝুঁকিতে এরপরই রয়েছে বরিশাল ও ঢাকা বিভাগ। এছাড়া রাজশাহী ও ময়মনসিংহ মাঝারি ঝুঁকিতে এবং সিলেট, রংপুর বিভাগ মৃদু ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।
বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ বলেন, সারা বিশ্ব বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা উন্নয়ন ও দারিদ্র্যবিমোচনের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে পরবর্তী দশকে এ দেশের উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়া মধ্য এলকায়ও ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। এটা মোকাবিলায় বাংলাদেশের উচিত কৃষির বাইরে অন্য খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সক্ষমতাও বাড়ানো। এক্ষেত্রে জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত ক্ষতি পুষিয়ে আনতে বিশ্বব্যাংক সর্বদাই বাংলাদেশের পাশে থাকবে।
জলবায়ু পরিবর্তনে সম্ভাব্য ক্ষতির প্রভাব মোকাবিলায় কৃষি খাতের বাইরে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির তাগিদ দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেহেতু জলবায়ুর সবচেয়ে বেশি ক্ষতির স্বীকার হবে কৃষি খাত। তাই কৃষি খাতের বাইরে ১৫ শতাংশ বাড়তি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলে জলবায়ু পরিবর্তনে জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ৬ দশমিক ৭০ শতাংশ থেকে ১ দশমিক ৪০ শতাংশে নেমে আসবে। কৃষি খাতের বাইরে ৩০ শতাংশ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জীবনযাত্রার মান না কমে উল্টো বাড়বে।