আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

অলিখিত ‘সেমিফাইনালে’ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৩৭ রানে জয়ী

ফাইনালে বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার
| প্রথম পাতা

পাকিস্তানের বিপক্ষে ‘সেমিফাইনালে’ বুধবার বাংলাদেশের টপঅর্ডার মাত্র ৫ ওভারেই গুঁড়িয়ে গেলে ত্রাতার ভূমিকায় আবির্ভূত হন মুশফিক। ঝকঝকে ইনিংসটি ৯৯ রানে থামলে এশিয়া কাপে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত হন তিনি ষ ক্রিকইনফো

এশিয়া কাপের ইতিহাসে তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ। ২০১২ সালে ঘরের মাঠে প্রথমবার। ২০১৬ সালে টি- টোয়েন্টি ফরম্যাটের এশিয়া কাপে দ্বিতীয়বার। সেবারও স্বাগতিক ছিল বাংলাদেশ। তবে এবার দেশের বাইরে ওয়ানডেতে নিজেদের বড় দল হয়ে ওঠার প্রমাণ রাখল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। চলতি এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠার পথে পাকিস্তানকে ৩৭ রানে অনায়াসে হারিয়ে দিল বাংলাদেশ। সুবাদে তৃতীয়বারের মতো এশিয়া কাপ শিরোপায় একহাত রাখলেন টাইগাররা। ২০১৬ সালের পর টানা দ্বিতীয়বার ভারতের বিপক্ষে শিরোপা লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ। ‘সুপার ফোর’ পর্বের শেষ ম্যাচটি হয়ে উঠে অলিখিত সেমিফাইনাল। তাতে টস জিতে আগে ব্যাট করে ২৩৯ রানে অল আউট হয় বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম টুর্নামেন্টে আরও একবার ব্যাট হাতে বাংলাদেশের ত্রাতা হয়ে উঠলেন। অবশ্য মাত্র ১ 

রানের জন্য সেঞ্চুরি করতে না পারার আক্ষেপে পড়তে হয় তাকে। ক্যারিয়ারের সপ্তম ওয়ানডে সেঞ্চুরির খুব কাছে থেকেও ৯৯ রানে বিদায় নেন মুশফিক। ২৪০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে যায় পাকিস্তান। ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে তারা। সেই ধাক্কা সামলে পুরো ম্যাচেই আর দাঁড়াতে পারেনি সরফরাজ আহমেদের দল। বাংলাদেশ বোলারদের চতুর বোলিংয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ৯ উইকেটে ২০২ রানে থেমে যায় পাকিস্তান। কৃতিত্বটা অনেকটাই মোস্তাফিজুর রহমানের। ইনজুরির কারণে দীর্ঘদিন নিজেকে খুঁজে ফেরা মোস্তাফিজ এ টুর্নামেন্ট দিয়েই ফিরলেন যেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওভারে শ্বাসরুদ্ধকর নাটকীয়তার জেতান তিনি। এবার আর নাটকীয়তায় প্রয়োজন হয়নি। স্বরূপে ফেরা কাটার মাস্টার শুরু থেকেই পাকিস্তানকে ব্যাকফুটে ঠেলে ৪৩ রানে তুলে নেন ৪ উইকেট। 
এশিয়া কাপ মুশফিকুর রহিমের পয়মন্ত টুর্নামেন্ট। এ আসরের আগে এশিয়া কাপে বাংলাদেশের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ার ছিলেন তিনি। ২০১৪ এশিয়া কাপে ফতুল্লায় ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরিটি করেছিলেন। এরপর এ আসরের প্রথম ম্যাচেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অসাধারণ সেঞ্চুরি হাঁকান মুশফিক। ১৪৪ রানের দল জেতানো ইনিংসটি ছিল তার ক্যারিয়ার সেরা। সুবাদে এশিয়া কাপে ২ সেঞ্চুরি হয়ে যায় মুশফিকের। গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে একই টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি ও এশিয়া কাপে তৃতীয় সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও আক্ষেপে শেষ হয় মুশফিকের। ‘নার্ভাস নাইনটির’ সবচেয়ে দুঃখজনক সংখ্যা ৯৯ এ থামেন এ ব্যাটসম্যান। মাত্র ১ রানের জন্য বঞ্চিত হন ক্যারিয়ারের সপ্তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি থেকে। ১১৬ বলে ৯ চারে ৯৯ রান করে ফিরেন মুশফিক। তবে এই ইনিংসেই ম্যাচ সেরার পুরস্কার ওঠে মুশফিকের হাতে। ম্যাচে সিরিজে দ্বিতীয়বারের মতো মোহাম্মদ মিথুনকে নিয়ে ইনিংস মেরামত করেন মুশফিক। ৬০ রান করা মিথুনকে নিয়ে ১৪৪ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে সম্মানজনক স্কোরের পথে পৌঁছে দেন এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। শেষ পর্যন্ত সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৩৯ রানের পুঁজি গড়ে বাংলাদেশ। 
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ১২ রানেই ৩ উইকেট হারাতে হয় বাংলাদেশকে। যথারীতি এ সিরিজের পুরানো চিত্র টপঅর্ডার দুর্বলতা। মাত্র ১২ রানেই বিদায় নেন তিন ব্যাটসম্যান। টুর্নামেন্টে প্রথম সুযোগ পেয়ে ব্যর্থ সৌম্য, সেই সঙ্গে লিটন দাশ ও মুমিনুলও রান পাননি। এরপরই শ্রীলঙ্কা ম্যাচের পুনরাবৃত্তি যেন। ইনিংস মেরামতের কাজ শুরু করেন মুশফিক ও মিথুন। ধীরগতিতে খেলেও রানের প্রয়োজনীয়তা মিটিয়ে ফেলেন একসময়। তাই ৩৩ ওভারেই ১৫০ রানের কোটা অতিক্রম করে বাংলাদেশ। তবে সেখানেই ছন্দপতন। ৮৪ বলে ৬০ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে বিদায় নেন মিথুন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটা তার দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি। মিথুন বিদায়ের পর চোখ ছিল মুশফিকের দিকে। কখন তার আরেকটি সেঞ্চুরি হবেÑ তার অপেক্ষায় ছিল সবাই। কিন্তু সেঞ্চুরির হাতছোঁয়া দূরত্বে থেকে একরাশ হতাশা নিয়ে ফেরেন ৯৯ রানে। দুইশোর তিন রান আগে (১৯৭) মুশফিক বিদায়ের পর দ্রুত রান তোলায় মনোযোগী হন বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা। গেল ম্যাচের হাফ সেঞ্চুরিয়ান ইমরুল ব্যর্থ হলেও মাহমুদউল্লাহ ৩১ বলে ৩৫, মিরাজ ১১ বলে ১২ ও মাশরাফি ১৩ বলে ১৩ রান করলে লড়াইয়ের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন জুনায়েদ খান। ২টি করে শাহিন শাহ আফ্রিদি ও হাসান আলি। 
রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের মতোই টপঅর্ডার ব্যর্থতায় পড়ে পাকিস্তান। ১৮ রনে ৩ উইকেট হারানোর পর শোয়েব মালিক ও ইমাম উল হক কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। ৩০ রান করা শোয়েব মালিককে রুবেল ফেরালে জয়ের পথ তৈরি করে বাংলাদেশ। মালিকের ফ্লিক শটে বাম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন মাশরাফি। লেগ স্পিনার শাদাব খান ইমামকে যথেষ্ট সঙ্গ দিতে পারেননি। এ ম্যাচে তৃতীয় সীমার হিসেবে খেলতে নামা সৌম্য ফেরান শাদাবকে। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে আসিফ আলিকে নিয়ে শেষ চেষ্টা করেন ইমাম। ৭১ রানের জুটি গড়ে জয়ের স্বপ্ন দেখান পাকিস্তানকে। তবে মিরাজ আসিফকে ৩১ রানে ফেরালে পাকিস্তানের আশা অনেকটাই শেষ হয়ে যায়। ২ রান বাদে একপ্রান্ত আগলে রাখা ইমাম ফিরে গেলে পাকিস্তান ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায়। ১০৫ বলে ৮৩ রান করেন ইমাম। শেষদিকে লোয়ার অর্ডাররা দলকে জেতানোর জন্য যথেষ্ট ছিলেন না। তাই ২০১২ সালে পাকিস্তানের কাছে ফাইনালে হারের প্রতিশোধ নিল বাংলাদেশ।