আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

গণতন্ত্রের জয় হয়েছে

মালদ্বীপের নির্বাচন

| সম্পাদকীয়

বিশ্বে যখন গণতন্ত্র বিবিধভাবে সংকটে রয়েছে, সে অবস্থায় মালদ্বীপের সাম্প্রতিক নির্বাচনে গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে এ বার্তাও দিয়েছে যে, গণতন্ত্রের বিকল্প হিসেবে ভাবার কিছু এখনও আবির্র্ভূত হয়নি। এ নির্বাচনে জয় পেয়েছেন বিরোধী দলের প্রার্থী ইব্রাহিম মোহাম্মদ সালিহ। অনেকেই এ জয়কে অপ্রত্যাশিত হিসেবে গণ্য করেছেন, আর এ রকম ভাবনা অমূলক কিছু নয়। যারা মালদ্বীপের রাজনীতি সম্পর্কে অবহিত, তারা জানেন, এ দেশটিতে চলছে কর্তৃত্ববাদী শাসন। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের ৫ বছরের শাসনামলে বিরোধী দলের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। তার প্রতিপক্ষের অনেকে এখন কারাগারে। এমনকি তিনি দেশটির সুপ্রিমকোর্টের ওপর প্রভাব ও হস্তক্ষেপ করতেও দ্বিধা করেননি। স্বভাবতই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন আরেক মেয়াদে জয় পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। ক্ষমতাসীনদের এমন দাপটের মাঝেও বিরোধী প্রার্থী সালিহের বিজয় মালদ্বীপে নতুন সূর্যোদয়ের মতো মনে হতে পারে। দেশটির এ গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রতি সবার সমর্থন জ্ঞাপন আবশ্যক।  
মালদ্বীপ বাংলাদেশের নিকট প্রতিবেশী। ভারত মহাসাগরের এ দ্বীপ রাষ্ট্রটি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক জোট সার্কের সদস্য। অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি এ দেশ বিশ্বের সবচেয়ে নিচু দেশ। স্বাভাবিকভাবেই দেশটি রয়েছে চরমভাবে জলবায়ুর ঝুঁকিতে। বিগত বছরগুলোয় মালদ্বীপের রাজনীতি ছিল নানা ঘটনায় সমস্যাসংকুল। ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিক নির্বাচন হওয়ার আগ পর্যন্ত তিন দশক দেশটিতে স্বৈরশাসন চালান মামুন আবদুল গাইয়ুম। ওই নির্বাচনে মোহাম্মদ নাশিদ জয়ী হয়েছিলেন। নাশিদকে ২০১২ সালে উৎখাত করেন ইয়ামিন। দুস্তর পথ পাড়ি দিয়ে ভোটের অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে মালদ্বীপবাসী কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিপক্ষে তাদের রায় দিয়েছেন। নির্বাচনে জয় পাওয়া সালিহ মালদ্বীপের অন্যতম প্রবীণ রাজনীতিক। দেশটিতে গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য তিনি বছরের পর বছর ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন। এবার নির্বাচনে তিনি বিরোধী জোট থেকে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হন। অন্যদিকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন এরই মধ্যে পরাজয় স্বীকার করে  দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন। 
মালদ্বীপের এ নির্বাচন দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই; বিশ্বের জন্যও একটি বার্তা। মাত্র ৪ লাখ অধিবাসীর দেশ মালদ্বীপকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবের সঙ্গে লড়াই করে চলতে হয়। অস্থির রাজনীতিও এর দীর্ঘদিনের সঙ্গী। জনগণ ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় স্বস্তির পথ তৈরি করে দিয়েছে। আশা করা যায়, মালদ্বীপের আগামী দিনগুলো হবে শান্তিময়। এক্ষেত্রে দেশটির জনগণকে যেমন সচেতন থাকতে হবে, তেমনি প্রতিবেশী দেশগুলোর সহযোগিতারও প্রয়োজন হবে। হ