আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

‘মায়ের পাশেই মৃত শিশুর লাশ ভাসতে দেখেছি’

আলোকিত ডেস্ক
| আন্তর্জাতিক

যুদ্ধ-সহিংসতা ও দরিদ্রতা থেকে বাঁচতে কয়েক বছর ধরেই লাখ লাখ মানুষ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। এভাবে বিপদসংকুল পথ পাড়ি দিতে গিয়ে অভিবাসন প্রত্যাশীবোঝাই নৌকাডুবির ঘটনাও একটি নিয়মিত দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। উত্তাল সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে এ পর্যন্ত ডুবে মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন বহু অভিবাসন প্রত্যাশী। অনেকে আবার উদ্ধারকারী সংস্থা কিংবা কোস্টগার্ডদের সহায়তায় বেঁচে ফিরেছেন। সম্প্রতি এমনই একটি নৌকাডুবির ঘটনায় লিবিয়ার কোস্টগার্ডের উদ্ধারকারী একটি জাহাজের দিকে সাঁতার কেটে আসছিলেন কয়েকজন। তাদের সাহস জোগাচ্ছিলেন জাহাজে থাকা কোস্টগার্ডের সদস্যরা। এ যাত্রায় তিনজন বেঁচে গেছেন। একজনকে অজ্ঞান অবস্থায় জাহাজে তুলে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দিতে হয়েছে। সাগরে অভিযান চালিয়ে অভিবাসন প্রত্যাশীদের উদ্ধার করতে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখে পড়ছেন কোস্টগার্ড সদস্যরা। লিবিয়ার কোস্টগার্ডের হেড অব অপারেশন্স কর্নেল আবু আবদেল বারি বলেন, তারা কঠিন সময় পার করছেন। তিনি বলেন, আমরা ভয়াবহ সব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। চোখের সামনে অভিবাসন প্রত্যাশীদের নৌকা ডুবে যাচ্ছে। এমনও দেখেছি মায়ের পাশেই তার মৃত শিশুর লাশ ভাসছে।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) কড়াকড়ির কারণে কাছাকাছি সময়ে সাগরপথে ইউরোপে যাওয়া অভিবাসন প্রত্যাশীর সংখ্যা কমেছে। অথচ সাগরে নৌকা ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা বলছে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত এমন অভিবাসন প্রত্যশীদের প্রতি ১৮ জনের অন্তত একজন সাগরে ডুবে মারা গেছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন, যা ২০১৭ সালে ছিল প্রতি ৪২ জনে একজন। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথ যেন আগের থেকে আরও অনেক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ সাগরপথে আসা এসব অভিবাসন প্রত্যাশীকে সহায়তা দিয়ে থাকে এমন উদ্ধারকারী সংস্থার ওপর ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করছে ইইউ। এমনকি এমন সংস্থার জাহাজের নিবন্ধন পর্যন্ত বাতিল করা হচ্ছে। লিবিয়ার কোস্টগার্ড বলছে, এসব উদ্ধারকারী সংস্থার কার্যক্রম অভিবাসন প্রত্যশীদের বরং উৎসাহিত করে। কর্নেল আবু আবদেল বারি বলেন, তাদের উদ্দেশ্য পাচারকারীদের ঠেকানো। তিনি বলেন, যেসব অভিবাসন প্রত্যাশী একটা ভালো জীবনের খোঁজে আছেন, আমরা তো তাদের বিরুদ্ধে কিছু করছি না। আমরা কাজ করছি পাচারকারীদের বিরুদ্ধে। যারা অর্থকড়ি নিয়ে এসব লোকজনকে ভয়াবহ বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। এসব মানুষ পরে বাঁচল না মরে গেল, সে নিয়ে পাচারকারীদের কোনো মাথাব্যথা নেই। যেসব অভিবাসন প্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়, তাদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টারে। জাতিসংঘ বলছে, সেখানে ভয়াবহ পরিবেশে এসব অভিবাসন প্রত্যাশীকে আটকে রাখা হচ্ছে। অভিবাসন প্রত্যাশীদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, তাদের আটকে রেখে মারধর করা হয়েছে। কিছু অভিবাসন প্রত্যাশী জানান, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের সময় কেন্দ্রের রক্ষীরা ত্রিপোলিতে তাদের রেখে পালিয়ে গেছেন। তাদের একজন বলেন, কোনো রকম খাবার বা নিরাপত্তা ছাড়াই ওরা আমাদের রেখে চলে গেছেন। সেখানে এভাবে আমরা ২২ দিন ছিলাম। আর উদ্ধার হওয়ার পর যারা আটক হন, তাদের অনেকের ইউরোপ যাত্রা সেখানেই শেষ হয়ে যায়। তাদের অনেকেই মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরলেও সব খুইয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে নিয়ে আবার দেশেই ফিরে যেতে বাধ্য হন। বিবিসি বাংলা