আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সাফের দলে সাত বদল

স্পোর্টস রিপোর্টার
| খেলা

১ অক্টোবর সিলেটে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ লাওস; ৫ অক্টোবর ফিলিপাইন। স্বাগতিক হলেও খুব বেশি প্রত্যাশা করা যাচ্ছে না ব্রিটিশ কোচ জেমি ডের জাতীয় দলের কাছে! কারণ ঘরের মাঠে খেলা হলেও কেননা টুর্নামেন্টে আন্ডারডগ বাংলাদেশ! পাঁচ বিদেশি দলের মধ্যে বিশ্ব ফুটবলের ১০০তম ফিলিস্তিন; বাংলাদেশের কাছের দল লাওসও আছে ১৫ ধাপ ওপর। এমন সব দলের বিপক্ষে ভালো খেলা উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছু বলতে নারাজ জেমি ডে। তার মূল কথা, ‘এটা ভিন্ন টুর্নামেন্ট। সাফের চেয়েও শক্তিশালী দল খেলবে। তাদের বিপক্ষে ভালো খেলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
মাত্র কয়েক দিন আগে ঘরের মাঠে সাফে দারুণ খেলেও গ্রুপ পর্বে বাদ পড়ে বাংলাদেশ। তাই বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে দলে বড় পরিবর্তন এনেছেন কোচ জেমি ডে। সাফের দল ছিল ২০ জন; সাফ খেলা নাসির চৌধুরী, শাখাওয়াত রনি, সাদ উদ্দিন, ফয়সাল মাহমুদ, সুশান্ত ত্রিপুরা, সোহেল রানা ও শহীদুল আলম সোহেল বাদ পড়েছেন। অবশ্য প্রাথমিক দলে ডাক পাননি নেপালের বিপক্ষে হাস্যকর গোল হজম করা গোলরক্ষক সোহেল। বিকল্প ডাকা হয়েছিল রাসেল মাহমুদ লিটনকে, আছেন চূড়ান্ত দলে। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের দল ২৩ জনের। ফলে সাতজন বাদ, ঢুকেছেন ১০ জন। লিটন ছাড়া কামব্যাক হয়েছে ইয়াসিন খান, রহমত মিয়া, নাবির নেওয়াজ জীবন, তৌহিদুল আলম সবুজ, জাফর ইকবাল, মতিন মিয়া, মো. ইব্রাহিম ও রবিউল ইসলাম এবং নতুন মুখ শেখ জামালের জাবেদ খান।
রক্ষণের দুর্বলতা ঢাকতে দুই বছর পর অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ইয়াসিনকে ফেরানো হয়েছে। গেল বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের পর জাতীয় দলে নিষিদ্ধ ছিলেন তিনি; গত মৌসুমে হাঁটুর চোটে খুব বেশি ম্যাচ না খেললেও ফিরলেন স্বীয় গুণে। গেল মার্চে লাওসের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের দল ইয়াসিনকে ডেকেছিলেন কোচ অ্যান্ড্রু অর্ড। মার্চে লাওসের বিপক্ষে দারুণ খেলেছিলেন জাফর; জাকার্তা এশিয়াড দলেও ছিলেন।
সাফ দল থেকে বাদ দিতে ব্রিটিশ কোচ বলেছিলেন, তার চেয়ে ভালো বিকল্প আছে।’
এশিয়াড ও সাফ মিলিয়ে সাত ম্যাচে ছয় গোল করেছে জেমি ডে’র দল। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে শক্ত দলের বিপক্ষে গোল করার মতো পরীক্ষিত স্কোরার নেই দলে। তবে গোলের জন্য শুধু ফরোয়ার্ডদের ওপর নির্ভর করতে চান না কোচ; কাল অনুশীলন শেষে বলেন, ‘একটি গোল পাল্টে দেয় খেলার চিত্র। অবশ্যই আমরা গোল চাই, সেটা যে কোনো উপায়ে। কিন্তু শুধু ফরোয়ার্ডরা গোল করবে না, যে কেউ করতে পারে।’ যোগ করেন, ‘গত দুই টুর্নামেন্টে আমাদের রক্ষণ খুব ভালো খেলেছে; এখন আমাদের আক্রমণে জোর দিতে হবে। এটাও মনে রাখতে হবে যে, আক্রমণে শক্তি বাড়াতে গিয়ে যেন গোল না খাই। কারণ বড় দলগুলোর বিপক্ষে রক্ষণ শক্ত করে খেলাটা যৌক্তিক। গোলের জন্য আক্রমণে উঠলে প্রতিপক্ষ আমাদের ভুল কাজে লাগাতে চেষ্টা করবে।’ আগস্টে এশিয়াড, সেপ্টেম্বরে, অক্টোবরে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপÑ দুই মাসের মধ্যে তিনটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলছে বাংলাদেশ; যা দেশের ফুটবল ইতিহাসেই বিরল। তবে ভিন্ন পরিস্থিতি, ভিন্ন আবহাওয়ায় ভিন্ন ধাচের তিনটি টুর্নামেন্টে খেলে ছেলেরা আরও বেশি অভিজ্ঞ হচ্ছেÑ মনে করেন কোচ।
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের দল : আশরাফুল রানা, আনিসুর জিকু, রাসেল মাহমুদ লিটন, বিশ্বনাথ ঘোষ, টুটুল হোসেন বাদশা, তপু বর্মণ, ওয়ালি ফয়সাল, রহমত মিয়া, ইয়াসিন খান, মামুনুল মামুন, আতিকুর ফাহাদ, জামাল ভূঁইয়া, মাশুক মিয়া জনি, বিপলু আহমেদ, ইমন মাহমুদ, রবিউল হাসান, জাফর ইকবাল, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মাহবুবুর রহমান সুফিল, নাবীব নেওয়াজ জীবন, তৌহিদুল আলম সবুজ, মতিন মিয়া ও জাবেদ খান।