আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সেতু উদ্বোধনের আগেই সড়কে ধস

নিম্নমানের কাজের অভিযোগ মির্জাপুরবাসীর

রঞ্জন কৃষ্ণ পন্ডিত, টাঙ্গাইল
| দেশ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের পারদীঘি এলাকায় ঝিনাই নদীর ওপর নবনির্মিত একটি সেতু উদ্বোধনের আগেই এর সংযোগ সড়কে ধস নেমেছে। জনগুরুত্বপূর্ণ সেতুটি আগামী নভেম্বর মাসে উদ্বোধনের কথা ছিল। কিন্তু উদ্বোধনের আগেই সংযোগ সড়ক ধসে পড়ায় তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তদারকির অভাব ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নি¤œমানের কাজের ফলে এমন অবস্থা হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। স্থানীয়দের উদ্যোগে ধসে পড়া সংযোগ সড়কের স্থানে প্রথমে বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হলেও পরবর্তী সময় ইউপি চেয়ারম্যানের উদ্যোগে কাঠের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে ওই সাঁকোর ওপর দিয়ে এলাকাবাসী ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার পারদিঘি খেয়াঘাটে ৯৯ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭ দশমিক ৩০ মিটার প্রস্থের একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৫ কোটি ২২ লাখ ৭১ হাজার টাকা। টাঙ্গাইলের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সেতুটি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। পরবর্তীকালে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওরিয়েন্ট ট্রেডকে ২০১৪ সালের ২৫ নভেম্বর কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর নির্ধারিত সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুর কাজ শেষ করতে না পারায় দুই দফায় সময় বৃদ্ধি করে। সর্বশেষ গত ১৫ জুন সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ঠিকাদার জুলাই মাসের শেষের দিকে সেতুটির মূল কাজ শেষ করে। এরপর সেতুর দুইপাশে গাইড ওয়াল (দেয়াল) নির্মাণের পর সেতুর কাছে নদীর তলদেশ থেকে খনন যন্ত্র (ড্রেজার) দিয়ে বালু উত্তোলন করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বর্ষার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সেতুটির উত্তর পাশের সংযোগ সড়কটি ধসে যায়। স্থানীয় লোকজন ধসে যাওয়া স্থানের পূর্বপাশে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল শুরু করেন। এলাকাবাসীর সুবিধার্থে কোরবানির ঈদের আগে ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রউফ নিজ উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মজবুত সাঁকো নির্মাণ করে দেন। নদীর ভাঙনে সেই সাঁকোটি এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে পারদিঘি গ্রামবাসী জানান। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস সামাদ বলেন, সুতানরি ও পারদিঘি গ্রামের প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। তারা ফতেপুর উচ্চবিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছে। এসব শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করছে। যে কোনো সময় সাঁকোটি পড়ে গিয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ ব্যাপারে ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রউফ জানান, এই এলাকা দিয়ে উপজেলার ফতেপুর ও মহেড়া ইউনিয়নের লোকজনসহ পার্শ্ববর্তী বাসাইল ও সখিপুর উপজেলার কয়েকটি গ্রামের লোকজন চলাচল করেন। জনগুরুত্বপূর্ণ সেতুটি আগামী নভেম্বর মাসে উদ্বোধনের কথা ছিল। কিন্তু উদ্বোধনের আগেই সংযোগ সড়ক ধসে পড়ায় তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এ প্রসঙ্গে মির্জাপুর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সেতুটির কাজ আগের ডিজাইন মোতাবেক শেষ হয়েছে। নদী ভাঙনের কারণে সেতুটির উত্তর পাশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গাইড ওয়ালের পাশ থেকে সংযোগ সড়কের মাটি সরে গেছে। সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ করতে পুনরায় ডিজাইন করে এলজিইডি ঢাকার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। নতুন ডিজাইন অনুমোদন হয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলেও তিনি জানান।