আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সচিবালয়ের আশপাশে মিলবে নিরাপদ খাবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
| নগর মহানগর

রাজধানীর আবদুল গণি রোডে খাদ্য অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে পথ খাবার বিক্রেতাকে ভ্যান গাড়ি ও তৈজসপত্র হস্তান্তর করেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ষ আলোকিত বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সচিবালয়ের আশপাশে তিন পয়েন্টে ভ্যানে পাওয়া যাবে নিরাপদ পথ খাবার। এজন্য তিনজন পথ খাবার বিক্রেতাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের হাতে ভ্যানগাড়ি ও তৈজসপত্র তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আবদুল গণি রোডে খাদ্য অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এগুলো হস্তান্তর করেন। ভ্যান ছাড়াও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে প্রত্যেক বিক্রেতাকে ২৭ ধরনের তৈজসপত্র দেওয়া হয়েছে। কামাল হোসেন জিরো পয়েন্ট, বাদশা শরীফ ওসমানী উদ্যানের গেট ও আবদুল খালেক সচিবালয় লিঙ্ক রোডে (প্রেসক্লাবের দিকে) ভ্যানে করে এসব পথ খাবার বিক্রি করবেন। এসব ভ্যানে মৌসুম ভেদে বিভিন্ন ধরনের ফল, পিঠা, হালিমসহ বিভিন্ন পথ খাবার বিক্রি করা হবে বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, ভ্যান ও তৈজসপত্র মিলে ৭০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। দোকানদারদের কাছ থেকে তিন কিস্তিতে ১০ শতাংশ হারে সাড়ে ৭ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। বিক্রেতারা নিরাপদ খাদ্য পরিবেশন করছে কি-না, তা তদারকি করা হবে বলেও জানান কর্মকর্তারা। পথ খাবার বিক্রেতা কামাল হোসেন বলেন, ট্রেনিং নেওয়ার পর বুঝতাছি, আগে কত ভুল আছিলো। এখন আমার আর হেই ভুল অইব না। বাদশা শরীফ বলেন, ট্রেনিং নিয়া অনেক কিছু শিখছি। এগুলা আগে জানলে ভালো অইত। আমি এহন ফল ও পানি নিরাপদ রাখার নিয়ম জানি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার তিন বছরের মধ্যে আমরা নিরাপদ পথ খাবারের জন্য তিনটি ভ্যান সরবরাহ করতে যাচ্ছি। যারা এ ভ্যানগুলোয় খাবার বিক্রি করবেন, আমরা তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আশা করি, তারা ভ্যানের মাধ্যমে নিরাপদ পথ খাবার পরিবেশন করবেন। তিনি বলেন, আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পর এখন মানুষকে নিরাপদ খাদ্য দিতে চাই। নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। এজন্য আমরা কাজ করছি। উৎপাদন থেকে শুরু করে প্যাকেটজাত পর্যন্ত আমরা নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা দিতে চাই। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা বিদেশে গিয়ে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে পথ খাবার গ্রহণ করি। অথচ বাংলাদেশে পথ খাবার গ্রহণে আমাদের ভীতি ও শঙ্কা কাজ করে। এ ভীতি ও শঙ্কাটা আমরা দূর করতে চাই। ঢাকা শহরে যত পথ খাবারের দোকান আছে, আমরা ভবিষ্যতে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব। তাদের সচেতনতার জন্য আমরা প্রশিক্ষণ দেব। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জানান, আগামী মাসে বড় একটি কর্মশালা রয়েছে। সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগসহ অন্যরা সেই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করবে। পথ খাবার যারা বিক্রি করেন তাদের কীভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, এ কর্মশালার মাধ্যমে সবাই একটা মতৈক্যে পৌঁছাবেন। হোটেল শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা তাদের সচেতন করছি। সচেতনতা সৃষ্টি না করে শাস্তি দেওয়া যায় না। সচেতনতা সৃষ্টির পর যদি তারা সঠিকভাবে কাজ না করেন, অনিরাপদ খাবার পরিবেশন করেন; তখন আমরা তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করব। শুধু অভিযান পরিচালনা করে লাভ হবে না। ঘরেও সবাইকে সচেতন হতে হবে। গৃহকর্মীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, তা না হলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন কামরুল ইসলাম। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন খাদ্য সচিব শাহাবুদ্দিন আহমদ ও খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আরিফুর রহমান অপু।