আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলা

টাঙ্গাইলের এমপি রানার জামিন নামঞ্জুর

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
| খবর
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার বাদীপক্ষের চতুর্থ ও পঞ্চম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সরকারদলীয় এমপি আমানুর রহমান খান রানার উপস্থিতিতে দুইজনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা অনুষ্ঠিত হয়। পরে আদালত ১৮ অক্টোবর এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করেন। এদিন এমপি রানার আইনজীবীরা জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। টাঙ্গাইল আদালত পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, দুপুরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাকসুদা খানমের আদালতে মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা অনুষ্ঠিত হয়। আদালতে মামলার বাদীপক্ষের চতুর্থ সাক্ষী সরোয়ার হোসেন সরু ও পঞ্চম সাক্ষী স্থানীয় কাউন্সিলর শফিকুল হক শামীম এ সাক্ষ্য দেন। পরে আদালত ১৮ অক্টোবর এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করেন। এ সময় গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে এ মামলার প্রধান আসামি এমপি আমানুর রহমান খান রানাসহ টাঙ্গাইল কারাগারে থাকা আরও তিন আসামি মোহাম্মদ আলী, আনিছুর রহমান রাজা ও সমিরকে আদালতে হাজির করা হয়। এছাড়া জামিনে থাকা আসামি নাসির উদ্দিন নুরু, মাসুদুর রহমান মাসুদ ও ফরিদ আহম্মেদ আদালতে হাজিরা দেন। দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর এমপি রানা ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এ আদালতেই আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বেশ কয়েক দফা উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালতে আবেদন করেও জামিন পাননি তিনি। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলাটি টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরবর্তী সময়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মামলার তদন্ত করে এবং ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি এমপি রানা ও তার তিন ভাইসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। তদন্ত চলাকালে ২০১৪ সালের ১১ আগস্ট এমপি আমানুর রহমান খান রানার ঘনিষ্ঠ কর্মী আনিছুর রহমান রাজা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে তিন দফায় মোট ১৫ দিন রিমান্ড শেষে ওই বছরের ২৭ আগস্ট টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদত হোসেনের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। অপর আসামি মোহাম্মদ আলী গ্রেপ্তার হন একই বছরের ২৪ আগস্ট। তিনি ১০ দিনের রিমান্ড শেষে ৫ সেপ্টেম্বর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নাজমুন নাহারের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। উভয় আসামির জবানবন্দিতে ফারুক আহমেদ হত্যাকা-ে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার ছোট ভাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করলে এ হত্যাকা-ের সঙ্গে খান পরিবারের চার ভাইয়ের জড়িত থাকার কথা প্রকাশ পায়। এ হত্যাকা-ের পরিকল্পনার সঙ্গে রানার অপর ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি ও টাঙ্গাইল জেলা বণিক সমিতির সভাপতি জাহিদুর রহমান খান কাকন যুক্ত বলে মোহাম্মদ আলী তার জবানবন্দিতে জানিয়েছেন।