আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

গণহত্যার স্বীকৃতি দেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

আলোকিত ডেস্ক
| শেষ পাতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ঘটা গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি নিয়ে আজ ঢাকায় শুরু হচ্ছে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন। দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা দেশের মোট ২৬ জন গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিক যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও গণহত্যার বিষয়টি নিয়ে কেন বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ? গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্টের সভাপতি ড. মুনতাসীর মামুন বলছেন, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের বিষয়টিকে যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে গণহত্যা এবং মানুষের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে ততটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। স্বাধীনতার পর আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের বিবেচনায় এ বিষয় নিয়ে খুব একটা উচ্চবাচ্য হয়নি। কারণ সে সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিষয়ে কোনো দেশ কী ভূমিকা পালন করেছিল, তাহলে সেই বিষয়টা সামনে চলে আসত। ফলে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষ যে আত্মত্যাগ করেছিল সেই প্রসঙ্গটিও আড়ালে পড়ে যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, ইতিহাসের এ ভারসাম্যহীনতা দূর করার স্বার্থেই গণহত্যার বিষয়টির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রয়োজন। ওইসব গণহত্যার জন্য যারা দায়ী তাদের বিচারের স্বার্থেও এ স্বীকৃতির প্রয়োজন রয়েছে। খবর বিবিসির গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরের প্রধান নির্বাহী কাজল আবদুল্লাহ বলেন, ‘১৯৭১ সালের গণহত্যা ও নির্যাতনের বিষয়টি বিশ্বদরবারে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে সচেতনতা তৈরির জন্য আর এক ধরনের চাপ বজায় রাখার জন্য। তাছাড়া বিষয়টিকে স্বীকৃতি না দেওয়ার জন্য এবং বিচারের দাবি না তোলার ফলে বিশ্বের কোনো না কোনো দেশে গণহত্যার ঘটনা ঘটছে। এর সর্বশেষ উদাহরণ হচ্ছে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চালানো গণহত্যা। প্রসঙ্গটিকে যদি বিশ্বদরবারে তাজা রাখা যেত, তাহলে এ ধরনের ঘটনা হয়তো এড়ানো যেত।’ তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের গণহত্যার স্বীকৃতি দাবি নিয়ে তাদের আন্দোলনের নেতারা যখন বিশ্বের নানা দেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, সেই দেশগুলো তখন জানিয়েছে যে, দীর্ঘদিন পরে হলেও তারা এ ব্যাপারে বাংলাদেশের সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের অপেক্ষা করে আছে। তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযানে অন্তত ৫০ হাজার বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারান। এরপর থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধের ৯ মাসে প্রায় ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়। যদিও পাকিস্তান বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এ ব্যাপক হত্যা ও নির্যাতনের বিষয়টিকে সামনে এনে সরকার গেল বছর থেকে ২৫ মার্চকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গণহত্যা দিবস পালন করে আসছে।