আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বরিশালে মেয়র-সিইও বাগ্বিত-া

অশান্ত নগর ভবন

খান রফিক, বরিশাল
| শেষ পাতা
বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) মেয়র আহসান হাবিব কামাল বিদায়ের আগে অস্থায়ী কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি, অনুগত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি, জমি ইজারা প্রদানসহ ১৭টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়ায় নগর ভবন ফের অশান্ত হয়ে উঠেছে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মেয়র কামাল ২ অক্টোবর বর্তমান পরিষদের সাধারণ সভা ডেকেছেন। ওই সভার এজেন্ডার সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করায় সভা আহ্বানের চিঠিতে স্বাক্ষর করেননি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) দায়িত্বে থাকা বিসিসি সচিব ইসমাইল হোসেন। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার নগর ভবনে মেয়র ও সিইওর মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। এমনকি সিইওকে নগর ভবনে প্রবেশ করতে নিষেধ করে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজেরও হুমকি দেন মেয়র কামাল। বিসিসির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, নবনির্বাচিত মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে বিপাকে ফেলতে মেয়র কামাল সাধারণ সভার এজেন্ডায় নানা অযৌক্তিক বিষয় রেখেছেন। তারা বৃহস্পতিবার সিইওকে স্ট্যান্ড রিলিজ ও সভা ডাকার কর্মকা- করতে বাধা দিয়েছেন মেয়রকে। ২ অক্টোবর আহ্বান করা সাধারণ সভার সিইওর স্বাক্ষরবিহীন চিঠিতে দেখা গেছে, সভায় আলোচনার জন্য মোট ১৭টি এজেন্ডা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ বিসিসির দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকদের উৎসব ভাতা প্রদান প্রসঙ্গে আলোচনা, ৫৪ নিরাপত্তা প্রহরীর মজুরি বৃদ্ধি, দৈনিক মজুরিভিত্তিক চালকদের বেতন বৃদ্ধি, বৈদ্যুতিক শাখায় নিয়োজিত দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকদের ঝুঁকি ভাতা প্রদান, দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকদের মজুরি সমম্বয় করা, ওয়ার্ড কার্যালয়ে নিয়োজিত অফিস সহকারী কাম ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের পদের নাম সংশোধন ও তাদের পদমর্যাদা নির্ধারণ, ওয়ার্ড কার্যালয়ে কর্মরত অফিস সহায়কদের চাকরির ভবিষ্যৎ নিশ্চিতকরণ, সাবেক সিইওর অবৈধভাবে রেস্ট হাউজে বসবাস, কাউনিয়ায় বিসিসির জমি একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাকে লিজ প্রদান প্রসঙ্গ এবং বিভিন্ন সড়কের নামকরণ। এ প্রসঙ্গে মেয়র আহসান হাবিব কামাল বলেন, আমার পরিষদের শেষ সভা হবে ২ অক্টোবর। ওই সভায় অস্থায়ী কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি ও সাবেক সিইওর অবৈধভাবে রেস্ট হাউজ ব্যবহারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে আলোচনা হবে। সভা আহ্বানের চিঠিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করায় সিইওর সঙ্গে বৃহস্পতিবার নগর ভবনে আমার বাকবিত-া হয়েছে। মেয়র বলেন, সিইও ১৪ আগস্ট খুলনা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে বদলি হয়েছেন। এতদিন এ খবর গোপন রেখেছেন। যেহেতু তিনি এখন আর নগর ভবনের কেউ নন এজন্য তাকে অফিসে যেতে নিষেধ করেছি। বিদায়ের আগ মুহূর্তে বেতন বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে মেয়র বলেন, মার্চে কর্মচারীদের আন্দোলনের সময় তিনি বেতন বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এতে ব্যয় বাড়বে সামান্য। নগর ভবনের কর কর্মকর্তা কাজী মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মেয়র বিদায়ের আগে ঢালাওভাবে তার স্বজনদের কর কমাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় সিইওকে কক্ষে ডেকে জোর করে অযৌক্তিক এজেন্ডার সভায় স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা করেন মেয়র কামাল। এমনকি বিকাল সোয়া ৩টায় সিইওর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে তাকে অফিসে আসতেও নিষেধ করেছেন। আমরা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মেয়রের এ ধরনের কর্মকা-ে বাধা দিয়েছি। তিনি বলেন, নবনির্বাচিত মেয়র সাদিকের ওপর ব্যয়ের বোঝা চাপাতে বর্তমান মেয়র কামাল এমন সভার চেষ্টা করছেন। একই ধরনের কথা জানান নগর ভবনের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিছুজ্জামান। এসব প্রসঙ্গে বিসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত সিইও ইসমাইল হোসেন বলেন, মেয়র সাধারণ সভা ডাকার জন্য নোটিশ প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু তাতে তিনি স্বাক্ষর করেননি। তাকে অফিসে আসতে নিষেধ করা ও তর্কবিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছেন না। বিসিসির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, সাধারণ সভায় কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পদোন্নতি দেওয়ার চেষ্টা করছেন মেয়র। এরই মধ্যে আরফাত মনির উপসহকারী প্রকৌশলী পদ থেকে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতির জন্য আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে বিসিসির প্যানেল মেয়র মোশারফ আলী খান বাদশা বলেন, মেয়র কামাল নিয়মিত বেতন দিতে না পারায় এখনও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বকেয়া রয়েছে। তিনি এ সমস্যার সমাধান না করে নতুন করে বেতন বৃদ্ধি করতে পারেন না। এতে নগর ভবনের ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। বেতন বৃদ্ধি করতে হলে নবনির্বাচিত মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর সঙ্গে আলোচনা করে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।