আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

আ.লীগের ঘাঁটিতে নীরবে সংগঠিত হচ্ছে বিএনপি

আসাদ রহমান, নড়াইল
| শেষ পাতা
নড়াইলে নির্বাচনি আসন দুটি। এর মধ্যে নড়াইল সদরের একাংশ ও কালিয়া উপজেলা নিয়ে নড়াইল-১ আসন। এ আসনে রয়েছে সদরের ৫টি ইউনিয়ন, কালিয়ার ১৪টি ইউনিয়ন এবং কালিয়া পৌরসভা। আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত নড়াইল-১ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আগাম হাওয়া বইতে শুরু করেছে। তফসিল ঘোষণা করা না হলেও মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রত্যাশীরা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনে যাচ্ছেন, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কুশলবিনিময় করছেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করছেন। পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন টানিয়ে এলাকাবাসীকে বিভিন্ন উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছেন। শহরের অলিগলি থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত চলছে প্রচার-প্রচারণা। এ আসনে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের এক ডজনের বেশি নেতা দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। বর্তমানে এ আসনের এমপি আওয়ামী লীগের কবিরুল হক মুক্তি। আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ চায় আসনটি ধরে রাখতে। এ আসনে ১৪ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জাসদ মনোনয়ন পেতে কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নির্বাচনি এলাকায় তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। তাদের ব্যানার বা পোস্টারও চোখে পড়ছে না। জানা গেছে, প্রকাশ্যে না হলেও বিএনপি ভেতরে ভেতরে দলকে সংগঠিত করছে। আসনটিতে আওয়ামী লীগের মধ্যে দলীয় কোন্দল থাকলেও বরাবরই আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। আসনে মোট ভোটার সংখা ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১০ হাজার ৯৭৫ এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ১২ হাজার ৪৬১ জন। ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম সংসদ নির্বাচনে বর্তমান এমপি কবিরুল হক মুক্তির পিতা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আওয়ামী লীগ নেতা এখলাস বিশ্বাস বিজয়ী হন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এ আসনে প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ থেকে দুইবার নির্বাচিত এমপি এবং নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিএনপিতে যোগদানকারী ধীরেন্দ্রনাথ সাহা। ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে কবিরুল হক মুক্তি জয়লাভ করেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কবিরুল হক মুক্তি জয়ী হন। নড়াইল আওয়ামী লীগের অন্যতম ঘাঁটি বলে বিবেচিত হলেও এখানে দলীয় কোন্দল বেশ পুরানো। এ আসনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে ৩৬ জন দলীয় মনোনয়ন কিনেছিলেন। এবারের নির্বাচনে বর্তমান এমপি কবিরুল হক মুক্তি, সংরক্ষিত মহিলা আসনের দুইবারের এমপি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেয়ে নড়াইলের পুত্রবধূ অ্যাডভোকেট ফজিলাতুন নেছা বাপ্পি, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোল্যা ইমদাদুল হক, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. আবদুল মান্নান এবং কমান্ডার ওমর আলী নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন। নড়াইলে বিএনপির কর্মকা- প্রায় স্থবির হয়ে আছে। এখানে বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত অধিকাংশ কর্মসূচিও পালিত হয় না। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসন থেকে জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, খুলনা মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহারুজ্জামান মর্তুজা, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. শফিকুল হায়দার পারভেজ এবং যশোর চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি সাজ্জাদুর রহমান সুজা মনোনয়নের জন্য কেন্দ্রে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন বলে জানা গেছে। জাসদ (আম্বিয়া-প্রধান) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শরীফ নূরুল আম্বিয়া এ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী। ওয়ার্কার্স পার্টিরও এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড বিমল বিশ্বাস নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেন; যদিও তিনি তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন। কালিয়া উপজেলা জাসদের সভাপতি আকতার হোসেন রাঙ্গাও মনোনয়ন প্রত্যাশী। এমপি কবিরুল হক মুক্তি জানান, এবারও তিনি দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। তিনি বলেন, আমার সময়ে চাপাইল ঘাটে রঘুনাথপুর ও মধুমতি ব্রিজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বারইপাড়া সেতুর টেন্ডার হয়েছে। নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা করা, ৯০ ভাগ মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় আনা, অধিকাংশ রাস্তা পাকাকরণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করেছি। এ আসনে আমার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী আছে বলে আমি মনে করি না। ফজিলাতুন নেছা বাপ্পি এমপি বলেন, আমি এখানকার ভোটার, আমি নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। নারীকে মূলধারায় না আনলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।