আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

ভারতের সুপ্রিমকোর্টের রায়

পরকীয়া ফৌজদারি অপরাধ নয়

কলকাতা প্রতিনিধি
| খবর
ভারতের সুপ্রিমকোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে জানিয়েছেন, পরকীয়া আর ফৌজদারি অপরাধ নয়। সেই সঙ্গে পরকীয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধও নয়। বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এ রায়ের মাধ্যমে দেড়শ’ বছরের পুরানো একটি আইন বাতিল করেছেন ভারতের সুপ্রিমকোর্ট। ভারতের সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র তার রায়ে বলেন, ভারতে ১৫৮ বছরের পুরানো এ আইনের কোনো দরকার নেই। এটা অসাংবিধানিক। এ আইন স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর। এ আইনে নারীদের স্বাতন্ত্র্য খর্ব করে। তিনি বলেন, স্ত্রী কখনও স্বামীর সম্পত্তি হতে পারেন না। কোনো ব্যক্তি যদি কোনো বিবাহিত নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন, তবে সেটা কোনো অপরাধ নয়। এ রায়ের মাধ্যমে ভারতীয় দ-বিধির ৪৯৭ ধারাকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে অভিহিত করা হলো। এতদিন ভারতীয় দ-বিধির এ ধারা অনুযায়ী পরকীয়া ছিল অপরাধ। ভারতের সুপ্রিমকোর্টের বেঞ্চ জানায়, ‘পরকীয়া শব্দটিকে আগে যেভাবে দেখা হতো, এখন আমরা নিশ্চয়ই সেভাবে দেখিনা। অন্যদিকে, পরিবার, সমাজÑ এগুলোকেও রক্ষা করা প্রয়োজন। তাই সবদিকে সামঞ্জস্য রেখে দেড়শ’ বছরের বেশি পুরানো এ আইনের ধারাটার বদল হওয়া প্রয়োজন।’ বিচারপতি দীপক মিশ্র বলেন, ‘কোনো আইন, যা ব্যক্তিগত মর্যাদাকে ক্ষুণœ করে তা রাখার কোনো অর্থ নেই। আমাদের সমাজে নারী-পুরুষের সমান অধিকার। নারীদের কোনোভাবেই অসম্মান করা যাবে না। তাদের বিরুদ্ধে অসম্মানজনক মন্তব্য করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’ ভারতে ১৮৬০ সালে তৈরি হওয়া ৪৯৭ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি কোনো নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করলে এবং ওই নারীর স্বামীর অনুমতি না থাকলে অভিযুক্তের ৫ বছর পর্যন্ত জেল এবং জরিমানা কিংবা উভয় দ-ই হতে পারে। সম্প্রতি পুরানো এ আইনকে চ্যালেঞ্জ করে বেশ কয়েকটি আবেদন করা হয় ভারতের সুপ্রিমকোর্টে। এর আগে আদালতে মামলাকারীরা দাবি করেন, এ আইনে নারীদের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার নিরিখে ওই আইন বাতিল করা হোক। আইনের ওই ধারার অবলুপ্তি চেয়ে আবেদনকারী জানান, ভারতের ঔপনিবেশিক শাসনকালে পুরুষরা নারীদের সম্পত্তি হিসেবে মনে করতেন। এ আইন অবিলম্বে বাতিল করা হোক।