আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

শঙ্কার শনিবার

দুই পক্ষই অনড়

দীপক দেব
| প্রথম পাতা
কাল কী হবে রাজধানীতে? একই দিনে দেশের প্রতিদ্বন্দ্বী ও বৃহত্তম দুই রাজনৈতিক শক্তির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জনমনে এ প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। কর্মসূচি পালনের বিষয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ও রাজপথের প্রধান বিরোধী শক্তি বিএনপিÑ দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় আছে। কেবল কর্মসূচি পালনই নয়, এর মধ্য দিয়ে বড় ধরনের শোডাউনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে উভয় পক্ষ। এর আগে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে জনসভা করার ঘোষণা দেয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। গেল সোমবার ১৪ দল এ কর্মসূচি ঘোষণা করে। সূত্র জানায়, প্রথমে ২৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি জনসভা করার ঘোষণা দিলেও পরে দুই দিন পিছিয়ে দলটি ২৯ সেপ্টেম্বর এ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। পুলিশের অনুরোধে জনসভার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছেÑ এমন তথ্য দিয়ে বিএনপি নেতারা ২৯ সেপ্টেম্বর জনসভা করার সব প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানান। তারা আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যকে উসকানিমূলক বলেও মন্তব্য করেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, তাদের কর্মসূচি তারা আগে ঘোষণা করেছিলেন। তাদের কর্মসূচির দিনে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। তাদের অভিযোগ, বিএনপি জোর করে ২৯ তারিখ সভা করতে চাচ্ছে। এর পরিণাম ভালো হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন আওয়ামী লীগ নেতারা। ১৪ দলের একাধিক নেতা বলেন, এখানে আমরা কোনো পাল্টা কর্মসূচি দিইনি। বিএনপিই আমাদের কর্মসূচি ঘোষণার পর পাল্টা কর্মসূচি দিয়েছে। যেখানে ক্ষমতাসীনরা সব সময় পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে থাকে, সেখানে বিএনপি বিরোধী শক্তি হয়ে পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার উদ্দেশ্য কী? তারা এর মধ্য দিয়ে একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেÑ এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। পায়ে পাড়া দিয়ে দেশে একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কিন্তু তাতে সফল হবে না। ১৪ দলের নেতাকর্মীরা যে কোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকবে। ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিএনপি পায়ে পা লাগিয়ে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে। বিএনপি যেন তাদের ২৯ সেপ্টেম্বরের (কাল) সমাবেশ পেছায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন আগামী নির্বাচন পরিচালনা করবে। ডিসি, এসপিসহ সব প্রশাসন নির্বাচন কমিশনারের অধীনে কাজ করবে। আমাদের কথায় প্রশাসন চলবে না। শেখ হাসিনার কথায় প্রশাসন চলবে না। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। বিএনপির উদ্দেশে তিনি জানান, ২০১৪ সালে খালি মাঠে গোল দিতে হয়েছে তাদের। কিন্তু এবারের নির্বাচনে তারা খেলে গোল দিতে চান। তিনি বলেন, নৈরাজ্য সৃষ্টি করবেন না, ফাউল খেলবেন না। তাহলে নির্বাচনের মাঠে আপনাদের লাল কার্ড দেখানো হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এবং তাদের দোসররা নাশকতা ও সহিংসতার ছক আঁটছে। সহিংসতার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। এটাই আমাদের মেসেজ, ইনফরমেশন। তারা যেভাবে হাঁকডাক, হুমকি-ধমকি শুরু করেছে, সেভাবে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পাঁয়তারা হচ্ছে বলে আমরা মনে করছি। তিনি বলেন, বিএনপির সভাটা কবে হবে? এটা তো এখনও ঠিক হয়নি। বিএনপি জোর করে ২৯ তারিখ সভা করবে? কেন এই জেদাজেদি? অনুমোদন ছাড়া আপনি সভা করবেন? এত লাফালাফি কেন? এত লাফালাফির পরিণাম শুভ হবে না। হুমকি-ধমকি দিয়ে আন্দোলন করবেন, আমরা ঘরে বসে ডুগডুগি বাজাব, তা হবে না। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আন্দোলনের নামে সভা-সমাবেশে যদি নৈরাজ্য, নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আমরা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করব। আর সহিংসতা ও নাশকতার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যথাযথ জবাব দেবে। আমরা সবদিক থেকে প্রস্তুত আছি। কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোটের নাগরিক সমাবেশ সম্পর্কে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৪ দল পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে, নিজেরা বসেছে। এখন তারা মহানগর নাট্যমঞ্চে আরও একটু বড় পরিসরে নেতাকর্মীদের সমাবেশ করবে। এটা বিএনপির সঙ্গে কোনো পাল্টাপাল্টি নয়। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে কোনো উদ্বেগ নেই, তবে সতর্কতা আছে। আমরা সতর্ক আছি। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর ১৪ দলের সমন্বয়ক শাহে আলম মুরাদ বলেন, ২৯ সেপ্টেম্বর কর্মিসভাকে ঘিরে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ওই দিন সকাল থেকেই আমাদের নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবে। মিছিল নিয়ে কর্মিসভায় অংশ নেবে। এদিকে ২৯ সেপ্টেম্বরের জনসভার অনুমতি পেতে বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপিতে যান বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানীসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি প্রতিনিধি দল ডিএমপিতে যান। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ২৯ সেপ্টেম্বর সমাবেশের জন্য আমরা সব প্রস্তুতি নিচ্ছি। গেল বুধবার মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে যৌথ সভায় এ বিষয়ে সব প্রস্তুতির কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় একটা জনসভা হয়, সেটা অনুসরণ করেছি। প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছি, গণপূর্ত কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তার দলের পূর্বঘোষিত সমাবেশকে ঘিরে আওয়ামী লীগ নেতাদের দেওয়া বক্তব্য সংঘাত সৃষ্টি করার ইঙ্গিতবাহক, উসকানিমূলকÑ এমন দাবি করে রিজভী বলেন, বিএনপি নেতাকর্মী ও জনগণকে আহ্বান জানিয়েছি জনসভায় আসার জন্য। জনগণ সেখানে যাবে, বক্তব্য শুনবে, চলে আসবে। এটা একটা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। কিন্তু তাদের (আওয়ামী লীগ) বক্তব্যই হচ্ছে সংঘাত সৃষ্টি করার ইঙ্গিতবাহক। এটা টোটাল উসকানিমূলক কথা। তারা এসব বক্তব্য দেবেন কেন? তিনি বলেন, এসব বক্তব্য থেকে সরে আসুন। বিরোধী দলের সভা-সমাবেশ করার অধিকার আছে, অবশ্যই জনসভা হবে।