আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট

মামলা স্থগিত চেয়ে খালেদার আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রথম পাতা
কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিচারাধীন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। একইসঙ্গে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার চালাতে বিশেষ জজ আদালতের দেওয়া আদেশও বাতিল চাওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন দায়ের করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। আবেদনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রকে বিবাদী করা হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানিতে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ চালানোর আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান। ওই দিন শুনানিতে খালেদা জিয়া অনুপস্থিত ছিলেন। এর আগে মামলাটির বিচারকাজ পরিচালনার জন্য ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোডের পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরেই আদালত বসানো হয়। এ ব্যাপারে আগের দিন ৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঢাকা মহানগরের বকশিবাজার এলাকার সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ও সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসংলগ্ন মাঠে অস্থায়ী ভবনে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এ বিচারাধীন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের টাকা আত্মসাৎ সংক্রান্ত বিশেষ মামলাটি পরিচালিত হচ্ছে। মামলাটির বিচারকাজ চলার সময় এলাকাটি জনাকীর্ণ থাকে, বিধায় নিরাপত্তাজনিত কারণে মামলাটির বিচারকাজ করার জন্য সরকার ঢাকা মহানগরের নাজিম উদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষটি অস্থায়ী আদালত হিসেবে ঘোষণা করল। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জামিন দিয়েছিলেন আদালত। ৭ আগস্ট মামলাটির যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য দিন নির্ধারিত ছিল। তবে খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় তাকে আদালতে হাজির করেনি কারা কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় তার জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে জামিনের আদেশ বহাল রাখেন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অপর আসামিরা হলেন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা-ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং অবিভক্ত ডিসিসির সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। তদন্ত শেষে খালেদা জিয়াসহ ৯ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদ- দেন আদালত। রায়ের পর থেকে খালেদা জিয়া নাজিম উদ্দিন রোডের পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন।