আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সচিবালয়ের কার্যক্রম নিয়ে বাড়ছে মতপার্থক্য

ইসির কর্মকা- জানাতে সিইসি ও সচিবকে ৪ কমিশনারের নোট

আরিফুল ইসলাম
| প্রথম পাতা
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধিকাংশ কর্মকা-ের বিষয়ে চার নির্বাচন কমিশনারকে জানানো হয় না। এ কারণে তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা এবং ইসির সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের কাছে নোট দিয়েছেন। ২০ সেপ্টেম্বর ইসির সচিব এবং প্রধান নির্বাচন কশিনারকে এ চিঠি দেন ওই চার কমিশনার। জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য বাড়ছেই। এর আগে ইভিএম নিয়ে একজন নির্বাচন কমিশনার ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেন। এবার ইসি সচিবালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে নোট দিলেন চার কমিশনার। কমিশনারদের নোটে বলা হয়, সংবিধানের ১১৮ (৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ইসি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন। স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে ইসি সচিবালয় আইন-২০০৯ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিতকল্পে নির্বাচন কমিশন কার্যপ্রণালী বিধিমালা-২০১০ প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে আইনি ও বিধির যথাযথ বাস্তবায়নে ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়। এক্ষেত্রে আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী ইসি সচিবালয় কমিশনের প্রয়োজনীয় সব সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে এবং ইসি কর্তৃক এর ওপর আরোপিত অন্য সব দায়িত্ব সম্পাদন করবে। আইনের ৫ ধারায় সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং সচিব সচিবালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হবেন বলে উল্লেখ করা হলেও ইসি সচিবালয়ের নিয়ন্ত্রণ একক কোনো ব্যক্তির কাছে ন্যস্ত করা হয়নি। আইনের ১৪ (১) ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সচিবালয়ের দায়িত্ব সম্পাদনের জন্য সচিব প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কাছে দায়ী থাকবেন। আইনের ১৪ (২) ধরায় সচিবালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বাচন কমিশনের সার্বিক নিয়ন্ত্রণে সচিবের কাছে দায়ী থাকবেন বলে উল্লেখ থাকলেও একক নিয়ন্ত্রণে সচিবালয়ের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে কমিশনের নিয়ন্ত্রণ তো দূরের কথা, কমিশনের সদস্য অন্য কমিশনারদের অবহিত করা হয় না। নোটে আরও বলা হয়, আইনের ১৬ ধারায় সচিবালয়ের জন্য অনুমোদিত বাজেটে নির্ধারিত খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় অনুমোদনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনই চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ হবে বলে বিধান থাকা সত্ত্বেও বিষয়গুলো কখনোই কমিশনের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়নি। নির্বাচন কমিশন কার্যপ্রণালী বিধিমালার ৩ বিধির উপবিধি ৫-এ কমিশনের কাছে উপস্থাপিত বিষয়গুলো নিষ্পত্তির উল্লেখ করা হয়েছে। যে পদ্ধতিতেই নিষ্পত্তি করা হোক না কেন, বিধির ৪(৪) উপবিধি মতে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে বিষয়াদি নিষ্পত্তি করার বিধান থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে লঙ্ঘিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। বিধি-২ এর উপবিধি ৫-এ নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত বিষয়াদির তফসিল দেওয়া হয়েছে। তফসিল অনুযায়ী সেসব বিষয় অনেক ক্ষেত্রেই কমিশনের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হয় না। যেমন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট জনবলের প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত কার্যক্রম, সেমিনার, কর্মশালা ইত্যাদি। নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, আমরা চার কশিমনার নোট দিয়েছি গেল সপ্তাহে। ইসি সচিবালয়ের অনেক বিষয়ে আমাদের জানানো হয় না। হয়তো কাগজ পাঠানো হয়, কিন্তু সময়মতো পাওয়া যায় না। ইসির যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে যেন আমাদের অবহিত করা হয়, এজন্য নোট দিয়েছি আমরা। নোট দেওয়ার পর এখন ইসির কর্মক-ের বিষয়ে জানানো হচ্ছে কি নাÑ এমন প্রশ্নে রফিকুল ইসলাম বলেন, এখন নোট দেওয়ার পর জানানো হচ্ছে আমাদের। আশা করি, তেমন সমস্যা হবে না। আমরা আগেও অনেক বিষয়ে জানতে চেয়েছি। এদিকে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন বলেন, চার কমিশনার একটি নোট দিয়েছেন। সেখানে তারা বলেছেন, নির্বাচন কার্যক্রম সম্পর্কে যেন তাদের জানানো হয়। জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই মতপার্থক্যের শুরু। সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিধান যুক্তের বিরোধিতা করেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে তিনি কমিশন সভা বর্জন করেন। এ বিষয়ে অন্য তিন কমিশনার সিইসির সঙ্গে একমত পোষণ করে আরপিও সংশোধনের সুপারিশ অনুমোদন করেন। এদিকে ২২ সেপ্টেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। এ বিষয়েও চার কমিশনারের মতামত নেওয়া হয়নি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও সিইসি ও সচিব ছিলেন। চার কমিশনারের কেউকে দেখা যায়নি। এ প্রশক্ষিণ বিষয়ে তাদের মতামত গ্রহণ এবং আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে জানা গেছে।