আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

শেখ হাসিনার ৭২তম জন্মদিন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রথম পাতা

পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠায় উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ষ পিআইডি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭২তম জন্মদিন আজ। তিনি বাবা বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে দৃঢ়তা ও সাহসিকতার সঙ্গে দল ও দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এক অনন্য উচ্চতায়। নেতৃত্ব গুণের কারণে তিনি এখন শুধু দক্ষিণ এশিয়া বা এশিয়া নয়, বিশ্ব নেতাদের কাতারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোলমডেল। বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে অনুকরণীয়। শেখ হাসিনা বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তার জন্মদিনটি উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করবে আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘নবীনদের দৃষ্টিতে শেখ হাসিনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। তার জন্মদিন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অসহায়, গরিব ও দুঃখী মানুষের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে বিস্তারিত কর্মসূচি। বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, সকাল ১০টায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহার ও সকাল ৯টায় খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (সিএবি) ওয়াইএমসি এ চ্যাপেল, ২৯ সেনপাড়া, পর্বতা, মিরপুর-১০ এ এবং সকাল ১১টায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। একই দিন সকাল ১০টায় ঢাকাসহ সারা দেশে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আনন্দ র‌্যালি ও শোভাযাত্রা বের করা হবে। জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পর্যায়েও এ কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়াও সকাল ১০টায় ধানমন্ডি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির উদ্যোগে গরিবদের মধ্যে রিকশা-ভ্যান বিতরণ করা হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের এ দিনে গোপালগঞ্জের মধুমতি নদী বিধৌত টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রবক্তা স্বপ্নদর্শী এ নেত্রী ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণের পর থেকে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দলকে সুসংগঠিত করেন এবং ১৯৯৬ সালে প্রথম, ২০০৮ সালে দ্বিতীয় এবং ২০১৪ সালে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনে জয়লাভ করে দলকে দেশের নেতৃত্বের আসনে বসাতে সক্ষম হন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোলমডেলে পরিণত হয়েছে। স্থায়ী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, খাদ্যে স্বনির্ভরতা, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, বাণিজ্য, আইসিটি এবং এসএমই খাতে এসেছে ব্যাপক সাফল্য। এছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার, পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদন করার মধ্য দিয়ে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতিসহ জাতীয় জীবনের বহুক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি। মিয়ানমারের সামরিক জান্তার নির্যানের শিকার ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবতার নেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দাদা শেখ লুৎফর রহমান ও দাদি সাহেরা খাতুনের অতি আদরের নাতনি শেখ হাসিনার শৈশব-কৈশোর কেটেছে মধুমতি নদীর তীরবর্তী গ্রাম টুঙ্গিপাড়ায়। বঙ্গবন্ধুর আগ্রহে ১৯৬৮ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিয়ে হয়। অবরুদ্ধ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই শেখ হাসিনা গৃহবন্দি অবস্থায় তার প্রথম সন্তান ‘জয়’ এর মা হন। ১৯৭২ সালের ৯ ডিসেম্বর কন্যাসন্তান পুতুলের জন্ম হয়। শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা এবং শেখ রাসেলসহ তারা পাঁচ ভাই-বোন। বর্তমানে শেখ হাসিনা ও রেহানা ছাড়া কেউই জীবিত নেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে বঙ্গবন্ধু এবং মা ফজিলাতুন নেছাসহ সবাই ঘাতকদের হাতে নিহত হন। ১৯৮১ সালের ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ওই বছরেরই ১৭ মে দীর্ঘ ছয় বছর প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এরপর থেকে নিরলস পরিশ্রম করে দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে এবং সে বছরের ২৩ জুন দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে বিশাল বিজয় অর্জন করে। এ বিজয়ের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।