আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বাংলাদেশ-ভারত ফাইনাল আজ

এবার শিরোপা চান মাশরাফি

স্পোর্টস রিপোর্টার
| প্রথম পাতা
ওয়ানডেতে মুখোমুখি মোট ৩৫ বাংলাদেশ ৫, ভারত ২৮ পরিত্যক্ত ২ এশিয়া কাপে মুখোমুখি মোট ১১ বাংলাদেশ ১, ভারত ১০ টানা দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত। এশিয়ায় বর্তমানে সেরা দুই ক্রিকেট শক্তি নিজেদের যোগ্যতা দিয়েই এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের আসরে শিরোপা নির্ধারণীতে নাম লিখিয়েছে। এ নিয়ে তৃতীয়বার এ টুর্নামেন্টের ফাইনালে নাম লেখাল বাংলাদেশ। ২০১২ সালে প্রথমবার ফাইনালে উঠে পাকিস্তানের কাছে হেরে যান টাইগাররা। ২০১৬ সালে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠে ভারতের কাছে স্বপ্নভঙ্গ হয়। তবে গেল দুইবারের চেয়েও খর্ব শক্তির কিন্তু উজ্জীবিত দল নিয়ে এবার শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে প্রথম এশিয়া কাপ শিরোপা জিততে চায় বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের গেল আসরের ফাইনালে ভারতের কাছে ৮ উইকেটে হেরেছিলেন টাইগাররা। দুই বছর পর আবারও ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ। তবে এবার আর শিরোপা জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না মাশরাফি। প্রতিশোধের আগুনে ভারতকে পুড়িয়ে এশিয়া শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরতে চান তিনি। দুবাইয়ে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৫টায় শুরু হবে ম্যাচটি। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিপক্ষে লড়াই বাংলাদেশ সমর্থকদের জন্য স্বপ্নভঙ্গের অপর নাম। কখনও এশিয়া কাপ ফাইনালে, কখনও বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অথবা সাধারণ একটি ম্যাচ হলেও আকামচুম্বি প্রত্যাশা ম্যাচ শেষে মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে। চলতি আসরেও সুপার ফোরের ম্যাচে সেই চিত্র দেখা গেছে। তবে সেই পর্ব কাটিয়ে টানা দুই ম্যাচে সাহসিকতার সঙ্গে জিতে ফাইনালে উঠেছেন মাশরাফিরা। হারার আগেই না হারার মানসিকতা নিয়ে শুক্রবার এশিয়া কাপের ফাইনালে মাশরাফির দল নতুন ইতিহাস লিখতে পারে কিনা, সেটাই দেখার। এশিয়া কাপের ফাইনাল দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। তবে এ ম্যাচে দলের সেরা দুই ক্রিকেটার তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান নেই। দুজনই ইনজুরির কারণে দেশে ফিরেছেন। দুই সেরা তারকাকে হারানোর পরও আত্মবিশ্বাস ভেঙে পড়েনি বাংলাদেশের। নেতৃত্বের অনন্য উদাহরণ হয়ে ভঙুর দলটিকে টনেছেন মাশরাফি। সতীর্থদের সময়ে সময়ে উজ্জীবিত করছেন সাহস জোগানো কথা দিয়ে। মাশরাফির সাহস পেয়ে প্রথমবারের মতো আফগানিস্তানের বিপক্ষে ক্লোজড ম্যাচেও জয় ছিনিয়ে এনেছে বাংলাদেশ। আর পাকিস্তানের বিপক্ষে মাশরাফির দারুণ অধিনায়কত্ব স্বল্প পুঁজি নিয়েও জয় এনে দিয়েছে দলটিকে। সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে হেরে প্রবল চাপে পড়া বাংলাদেশ ফাইনালে পা দিয়ে সেই চাপ কাটিয়ে উঠেছে। এবার প্রথমবারের মতো ভারত বাধা টপকে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরার পালা। ফাইনালের প্রতিপক্ষ ভারত পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই প্রতিপক্ষ নিয়ে ছেলেখেলা করেছে। বিশেভাবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে পাত্তাই দেয়নি টিম ইন্ডিয়া। গ্রুপ পর্বে ৮ উইকেটে ও সুপার ফোরে পাকিস্তানকে ৯ উইকেটে হারায় ভারত। ভারতের প্রধান শক্তি ব্যাটিং লাইন-আপ। কিন্তু এবার বোলিংও হচ্ছে বেশ। তাই প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করতে খুব বেশি সমস্যায় পড়তে হয়নি ভারতকে। অবশ্য সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিততে পারেনি তারা। ম্যাচটি অমীমাংসিতভাবেই শেষ হয়, যা ফাইনালের আগে ভারতের মনোবলে কিছুটা হলেও ধাক্কা দেবে। তবুও পুরো আসরে এখন পর্যন্ত ভারতের পারফরম্যান্স দুর্দান্ত, যেটা ভালো জানেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি। তবে নিজ দলের প্রতিও যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস তার। বিশেষ করে ব্যাটিং লাইনে মুশফিক-মাহমুদউল্লাহদের ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা ও বোলিংয়ে মোস্তাফিজুর ও মিরাজের জ্বলে উঠা মাশরাফিকে নতুন ইতিহাসের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। তবুও ম্যাচের আগে সতর্ক থাকছেন অধিনায়ক। ভারতকে শক্তিশালী দল বলে অ্যাখায়িত করে মাশরাফি বলেন, ‘আমরা জানি ভারত অনেক বেশি শক্তিশালী দল। আমাদের তামিম নেই। ফাইনালে সাকিবকেও পাব না। এটা আমাদের জন্য সত্যিই বড় ধাক্কা। তারপরও আমি আশা করব, ফাইনাল ম্যাচে ছেলেরা তাদের সেরা পারফরম্যান্সই প্রদর্শন করবে। আমাদের এখন এটাই শক্তি। দলগতভাবে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সঙ্গে আমরা দারুণ খেলেছি। এ খেলাটা দেখাতে পারলে ভারতের সঙ্গেও ভালো কিছু সম্ভব।’ শিরোপা লড়াইয়ে সেরা পারফরম্যান্স করতে মুখিয়ে আছে ভারতও। এমনই ইঙ্গিত দিলেন ভারতের মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান দিশে কার্তিক, ‘আমার সেরা ফর্মে রয়েছি। শিরোপা জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স অব্যাহত রাখলে শিরোপা জয় অসম্ভব কিছু নয়।’ এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত ১১ বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। এর মধ্যে ১০ বারই জিতেছে টিম ইন্ডিয়া। একবার জিতেছে বাংলাদেশ। ২০১২ সালের আসরে ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়েছিলেন টাইগাররা। এছাড়া ওয়ানডে ফরম্যাটে এখন পর্যন্ত ৩৪ মুখোমুখিতে ২৮টিতে জয় পেয়েছে ভারত। বাংলাদেশের জয় পাঁচটিতে।