আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৯-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

ইকোট্যুরিজমের ওপর জোর দিতে হবে

সুন্দরবনের প্রাণবৈচিত্র্য

| সম্পাদকীয়
বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে সব ধরনের পর্যটন নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কাজ শুরু করেছে বন বিভাগ। এ ব্যাপারে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নির্দেশনা আনতে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তারা। আশা করা যায়, আগামী পর্যটক মৌসুমের আগেই এ সম্পর্কিত নির্দেশনা আসবে। আলোকিত বাংলাদেশে প্রকাশ, মূলত পর্যটন অপারেটর ও ট্রাভেলস-ট্যুরস কোম্পানিগুলোর আইনবিরোধী কার্যকলাপের কারণেই সুন্দরবনের অভ্যন্তরে বন্যপ্রাণী প্রজনন মৌসুমে পর্যটক প্রবেশ রোধের চিন্তা করছে বন বিভাগ। সুন্দরবনের প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষার্থে এ প্রস্তাবনা নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। বিশ্বের একমাত্র ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট নয়নাভিরাম সুন্দরবন। সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বাংলাদেশ অংশে রয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা ও মায়া হরিণ, বিলুপ্তপ্রায় ইরাবতীসহ বিভিন্ন প্রজাতির ডলফিন, লোনা পানির কুমির, বন্য শূকর, উদবিড়ালসহ ৩৭৫ প্রজাতির প্রাণী। সুন্দরবনে ২০০৪, ২০০৭, ২০১১ ও ২০১৫ সালের জরিপে দেখা গেছে, রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও হরিণসহ বন্যপ্রাণীর আধিক্য এলাকাগুলোতেই পর্যটকরা ভ্রমণে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। জুন থেকে আগস্টÑ এ ৩ মাস সুন্দরবনের টাইগার ও হরিণসহ বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুম। পর্যটকদের কারণে স্বাভাবিকভাবেই বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ ও প্রজননে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে, এতে প্রাণীগুলোর বংশবিস্তারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তনসহ মানুষ-সৃষ্ট নানা কারণে সুন্দরবনের প্রাণিকুল সংকটের মধ্যে রয়েছে। এরই মধ্যে সুন্দরবন থেকে বিলুপ্ত হয়েছে দুই প্রজাতির হরিণ, দুই প্রজাতির গ-ার, এক প্রজাতির মিঠা পানির কুমির ও এক প্রজাতির বন্য মহিষ। সংগত কারণেই বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ ও বংশবিস্তারের লক্ষ্যে বন বিভাগের সদর দপ্তরে পাঠানো এ প্রস্তাবটি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ। বিশ্বের একমাত্র ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট হওয়ায় সুন্দরবনে প্রতি বছরই অসংখ্য পর্যটকের সমাবেশ ঘটে। বলা যায়, এ বনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পর্যটক কার্যক্রম দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাই প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীর প্রজননকে অবাধ রাখার পাশাপাশি এখানকার পর্যটন যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে। এক্ষেত্রে ইকোটুরিজম বা পরিবেশবান্ধব পর্যটনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিতে হবে। পাশাপাশি সুন্দরবন ঘিরে সব ধরনের বিপজ্জনক স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সুন্দরবনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব বনাঞ্চলের বন্যপ্রাণী প্রজনন বাধামুক্ত ও নির্বিঘœ রাখতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ও যথার্থ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেÑ এটাই প্রত্যাশা। হ