আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৯-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

নকলায় বাম্পার ফলন

জিঙ্কসমৃদ্ধ ব্রি ধান-৬২ এ কৃষকের আশার আলো

মোশারফ হোসেন, নকলা
| দেশ

দিন দিন জনসংখ্যা বাড়ছে, ফলে কমছে কৃষিজমির পরিমাণ। তাই বর্তমান সরকারের একান্ত লক্ষ্য- একই জমিতে বারবার বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করা। এ লক্ষ্যে পৌঁছে সফলতা অর্জনের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কৃষি বিভাগ। রোপা আমন চাষে জিঙ্কসমৃদ্ধ ব্রি ধান-৬২ জাতে কৃষক আশার আলো দেখছেন। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট বিভিন্ন আধুনিক টেকনোলজির মাধ্যমে প্রতিনিয়ত স্বল্পজীবনীকালসম্পন্ন ফসলের বিভিন্ন জাত উদ্ভাবন করে যাচ্ছে। তার অংশ হিসেবে এসব উদ্ভাবনের মধ্যে ব্রি ধান-৬২ জাতের ধানটি অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি জাত। এ ধানের গুরুত্ব ও চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। কৃষকের কাছে হয়ে উঠছে অধিক জনপ্রিয়। চলতি মৌসুমে রোপা আমন চাষে ব্রি ধান-৬২ জাতের ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। হেক্টরপ্রতি এ ধানের ফলন হচ্ছে ৩ টন থেকে ৩.২৩ টন। আর এ জাতের জীবনকাল ১০০ দিন থেকে ১০৫ দিন। ফলে অল্প সময়ে অধিক ফলন পাওয়ার আশায় কৃষক এ ধান চাষে ঝুঁকছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আসাদ উল্লাহ জানান, চলতি মৌসুমে শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। কৃষকের মাঝে বীজ, সার ও সাইনবোর্ড সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এরই মধ্যে ব্রি ধান-৬২ কর্তন শুরু হয়েছে। এ জাতের ধানে অল্প সময় ও শ্রমে অতিরিক্ত ফসল পাওয়া যাচ্ছে।  এতে সেচ ও বালাইনাশক অপেক্ষাকৃত কম লাগে, তাই ব্রি ধান-৬২ জাতের গুরুত্ব ও চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। তাছাড়া ভালো ফলন হওয়ায় কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা বেশ খুশি। তারা বলেন, ফলন একটু কম হলেও স্বল্পকালীন আবাদ হওয়ায় একই জমিতে অন্য আবাদ করা যায়। তাই কৃষক লাভবান হবেন এটাই স্বাভাবিক বলে জানান অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল আজম খান। তিনি আরও জানান, এ জাতের ধান (ব্রি ধান-৬২) জিঙ্কসমৃদ্ধ হওয়ায় শিশুদের মেধা বিকাশে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সম্প্রতি জামালপুর সদর উপজেলার কৃষক মিজানুর রহমানের চাষ করা ব্রি ধান-৬২ জাতের মাঠের প্রথম নমুনা শস্য কর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই নমুনা শস্য কর্তন ও মাঠ দিবসের মাধ্যমে উপরিউক্ত তথ্যগুলো নিশ্চিত হওয়া গেছে। ওই নমুনা শস্য কর্তন দিবসে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আসাদ উল্লাহ, উপপরিচালক ড. রেজাউল ইসলাম, জামালপুর খামারবাড়ির উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আমিনুল ইসলাম, জামালপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শাখাওয়াত ইকরামসহ অন্য কৃষি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ওই মাঠ দিবসের বক্তব্যের তথ্যে জানা গেছে, এ ধান স্বল্পকালীন আবাদ হওয়ায় ধান কাটার পর একই জমিতে শীতকালীন শাকসবজি চাষ করা যায়। ফলে ব্রি ধান-৬২ জাতের রোপা আমনের চাষ বাড়াতে পারলে কৃষক অধিক লাভবান হবেন বলে মনে করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।