আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৯-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ

বিদেশিরা এসে ছড়াল উত্তাপ

স্পোর্টস রিপোর্টার
| খেলা

দুই ম্যাচের একটিতে জিতলেই কিন্তু সেমিফাইনাল নিশ্চিত বাংলাদেশেরÑ টুর্নামেন্টে শক্তিশালী দল থাকলেও আপাতত শেষ চারে চোখ জেমির দুয়ারে পঞ্চম বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ; অপেক্ষা বাঁশি বাজার।

সাজসাজ রব সিলেট স্টেডিয়াম ঘিরে, শহরের বিভিন্ন স্থানে বানানো হয়েছে তোরণ, এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনুশীলন করে গতকাল বিকালে সিলেট চলে গেছে স্বাগতিক লাল-সবুজ দল। রাতে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে সিলেট গেছে লাওস। আজ আসবে ফিলিস্তিন, ফিলিপাইন ও তাজিকিস্তান; আসবেন ম্যাচ কমিশনার, রেফারি-সহকারী রেফারিরাও। আগামীকাল আসবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নেপাল। দলগুলো পা রাখলেই পুণ্যভূমিতে শুরু হবে আন্তর্জাতিক ফুটবল উৎসব। টিকিট নিয়ে বেশ সাড়া পড়েছে, বিক্রিও শুরু হয়েছে এরই মধ্যে। তিন বছর আগে গ্যালারি টিকিটের মূল্য ২০ টাকা থাকলেও এবার ৫০ টাকা, এরপরও আগ্রহের কমতি নেই। স্টেডিয়াম চত্বরে প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে। তবে ফ্লাডলাইটে খেলা আয়োজন নিয়ে শঙ্কা থাকলেও কেটে গেছে। ৪০০ বাতির ৩০০টি দীর্ঘদিন নষ্ট ছিল। দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন বাতি প্রতিস্থাপন কাজ চলছে। বাতির কেটে যাওয়া শুধু স্টেডিয়ামের ভেতর মাটির নিচ দিয়ে নেওয়া হয়েছে। সিলেট ডিএফএ সভাপতি ও বাফুফে সদস্য মাহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম জানান, ‘দেড় কোটি টাকায় নতুন বাতি বসানো হচ্ছে। শুধুও সংস্কার করা হয়েছে। ম্যাচের সময় পূর্ণ আলো পাওয়া যাবে।’ এবারই প্রথম তিন ভেন্যুতে হবে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ। এর আগে ১৯৯৬ ও ১৯৯৯ সালে ঢাকায়, ২০১৫ সালে ঢাকা ও সিলেট এবং ২০১৬ সালে যশোর ও ঢাকা হয়েছিল গ্রুপ পর্ব। প্রস্তুত কক্সবাজার স্টেডিয়ামÑ যেখানে ৯ ও ১০ অক্টোবর হবে দুটি সেমিফাইনাল। মাঠের পরিচর্যা চলছে; গ্যালারি, ড্রেসিংরুম নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ থাকলেও ম্যাচের আগে সব ঠিক হয়ে যাবেÑ জানান বাফুফে সদস্য বিজন বড়–য়া। তার কথা, ‘জাতির জনকের নামে টুর্নামেন্ট। বিদেশি দল খেলতে আসবে। সফল আয়োজনে আমাদের সামর্থ্যরে সর্বোচ্চটা দিতে প্রস্তুত আমরা।’ ২৯ আগস্ট বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে দর্শক স্রোত দেখে বাফুফে আগ্রহী ছিল গ্রুপ পর্বের কিছু খেলা সিলেটের পাশাপাশি নীলফামারী আয়োজনের। মূলত পর্যটনের প্রতি বিদেশিদের আগ্রহ বাড়াতে নীলফামারীকে বাদ দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্রসৈকত পাড়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের দুই সেমিফাইনাল করা। আড়াই মাসের মধ্যে তৃতীয় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলতে যাচ্ছে জাতীয় দল, যা দেশের ফুটবল ইতিহাসে বিরল। এখানে তরুণ ফুটবলারদের ভালো অভিজ্ঞতা হবে মনে করছেন ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে। তবে সাফে দারুণ খেলেও শেষ পর্যন্ত গ্রুপ পর্ব বাধা পেরোতে পারেনি তার দল। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আরও কঠিন পরীক্ষা দেখছেন তিনি। দল নিয়ে তার প্রত্যাশা, যতটা সম্ভব ভালো খেলা। কেননা ঘরের মাঠে খেলা হলেও আসরে আন্ডারডগ স্বাগতিকরাই, বিশ্ব ফুটবলের র‌্যাঙ্কিং তো তা-ই বলে, ফিলিস্তিন ১০০, ফিলিপাইন ১১৪, তাজিকিস্তান ১২০, নেপাল ১৬০, লাওস ১৭৮, বাংলাদেশ ১৯৩তম। সোমবার লাওসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে লাল-সবুজ দলের বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ, ৫ অক্টোবর গ্রুপ পর্বের শেষ প্রতিপক্ষ ফিলিপাইন, ২৭ বছর আগে যাদের বিপক্ষে জিতেছিল ৮-০ গোলে! দুই ম্যাচের একটিতে জিতলেই কিন্তু সেমিফাইনাল নিশ্চিত বাংলাদেশেরÑ টুর্নামেন্টে শক্তিশালী দল থাকলেও আপাতত শেষ চারে চোখ জেমির। প্রথম ধাপ পেরোনোর পর অন্য চিন্তা। পঞ্চম আসরে ফেভারিট ফিলিস্তিন, তালিকায় আছে ফিলিপাইনও। দুটি দেশই ২০১৯ এশিয়ান কাপ খেলবে। ঝুঁকি এড়াতে তারা জাতীয় দল পাঠাবে কি না, সন্দেহ রয়েছে। ব্যত্যয় ঘটলে তাজিকিস্তান বা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নেপাল বাজিমাত করলে অবিশ্বাস্য কিছু হবে না। তাতে জম্পেশ একটা টুর্নামেন্ট দেখার প্রত্যাশা করতেই পারেন দর্শক।