আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৯-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

জবি ক্যাম্পাসে টোকাই হকার ভিক্ষুকের উৎপাত

জাহিদুল ইসলাম
| নগর মহানগর
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাড়ে সাত একরের ছোট ক্যাম্পাসে অন্তহীন সমস্যার সঙ্গে যোগ হয়েছে টোকাই, হকার আর ভিক্ষুকের উৎপাত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বর, কলা অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ, শহীদ মিনার, কাঁঠালতলা, ক্যান্টিন, টিএসসি কিংবা ক্লাসরুম প্রতিটি জায়গায় এখন দেখা মেলে টোকাই, হকার আর ভিক্ষুকের। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ব্যাগ, মানিব্যাগ, মোবাইল কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র চুরির ঘটনাও ঘটেছে। আবার ক্যান্টিনে খাওয়ার সময় অনেকে ভিক্ষুকের মুখোমুখি হচ্ছে। এছাড়া আছে বাদামওয়ালা, চা-সিগারেট বিক্রেতা আর বিভিন্ন হোটেলের ফ্রি অফার, কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপনসহ নানা উৎপাত। ক্যাম্পাসের প্রতিটি স্থানেই তাদের বিচরণ। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে টিএসসিতে। টিএসসিতে দাঁড়িয়ে একটু চা খেতে গেলেই কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে গেলেই তারা এসে হাজির। কেউ দাবি করে টাকা আবার কেউ করে খাবার। এদের কিছু বললে উল্টো তেড়ে আসে শিক্ষার্থীদের দিকে। সরেজমিন দেখা যায়, জবি টিএসসি খোলা জায়গায় হওয়ায় সেখানে অবাধে ভিক্ষুক, হকার আর টোকাই প্রবেশ করে নানা অজুহাতে টাকা দাবি করছে। একজনকে টাকা দিলে আরেকজন এসে হাত পাতে। ফলে শিক্ষার্থীদের অনেকেই বিষয়টিতে বিরক্ত প্রকাশ করেন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যান্টিনে খাওয়ার সময় মোবাইল হারানো সাংবাদিকতা বিভাগের চয়ন বলেন, ক্যান্টিনে খাওয়ার সময় বধির ক্রিয়া সংগঠনের নামে এক ব্যক্তি চাঁদা তুলতে আসে। পরে সেই ব্যক্তি আমার মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বিভা বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে ক্যান্টিনে খেতে বসলেই তারা এসে হাত পাতে। তখন অনেকটা বাধ্য হয়েই তাদের কিছু না কিছু দিতে হয়। বেশ কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্লাসে ঢুকে নানা অজুহাতে টাকা তোলার ঘটনা। নতুন ভবনের পঞ্চম ফ্লোরে কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আল মামুন বলেন, ক্লাসে স্যার না থাকলে হুটহাট করেই অনেকে ঢুকে বিভিন্ন উছিলায় টাকা দাবি করে। তখন নিতান্ত বাধ্য হয়েই কিছু না কিছু সাহায্য দিতে হয়। এছাড়া ক্লাসে শিক্ষক থাকা অবস্থায় বিভিন্ন কোচিংয়ের লিফলেট কিংবা বিজ্ঞাপন নিয়ে ক্লাসে ঢোকার ঘটনাও ঘটছে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ইমরান বলেন, বলতে গেলে নিজ ক্যাম্পাসেই হকার ভিক্ষুক আর টোকাইদের কাছে আমরা অরক্ষিত হয়ে পড়েছি। টিএসসিতে টোকাই, হকার আর ভিক্ষুকদের ব্যাপারে জানতে চাইলে জবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেল বলেন, টিএসসিতে টোকাইয়ের অধিকাংশই ছিনতাইকারী। কয়েকদিন আগেও এদের কয়েকজনকে পুলিশে দিয়েছি। ছাত্রলীগের প্রতিটি কর্মী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর উচিত এদের দেখার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে কিংবা প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে টোকাই হকার আর ভিক্ষুকদের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল বলেন, আমরা গেটে বলে দিয়েছি যাতে ক্যাম্পাসে বহিরাগত হকার, টোকাই, ভিক্ষুক কেউ না ঢোকে। এরপরেও যদি ক্যাম্পাসে ঢোকে তবে তাদের পুলিশে দেওয়ার জন্য বলে দিয়েছি।