আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৯-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

ধর্ষণের অভিযোগে আটকের পর হাজতে আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
| শেষ পাতা
ধর্ষণের অভিযোগে আটককৃত মো. কাউসার নামে এক যুবক রাজধানীর রূপনগর থানা হাজতে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার ভোর রাতে এ ঘটনা ঘটে। তার আগে বৃহস্পতিবার রাতে রূপনগর এলাকায় বিবাহিত এক নারী গার্মেন্ট কর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ কাউসারকে আটক করেছিল। ‘ধর্ষণের শিকার’ ওই নারীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। রূপনগর থানার ওসি শেখ মো. শাহ আলম জানান, কাউসার রূপনগরের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার রাতে কাউসার প্রতিবেশি এক বিবাহিতা নারীর বাসায় যায়। ওই নারী স্থানীয় একটি গার্মেন্টে চাকরি করেন। সেই বাসায় কাউসার কৌশলে ওই নারীকে কোমল পানীয়র সঙ্গে নেশাজাতীয় কোনো কিছু খাওয়ায়। কিছুক্ষণ পরে ওই নারী অচেতন হয়ে গেলে কাউসার তাকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা টের পেয়ে আশপাশে লোকজন কাউসারকে আটক করে পুলিশের নিয়ন্ত্রণাধীন জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ এ ফোন করেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউসারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে রাত সোয়া ১টার দিকে ওই গার্মেন্টকর্মী ধর্ষণের অভিযোগে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় কাউসারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওসি আরও জানান, এরপর কাউসারকে থানার হাজতখানায় আটকে রাখা হয়। ভোরের দিকে সে হাজতের ভেতরে রডের সঙ্গে নিজের পরনের শার্ট দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে থাকে। পরে থানায় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা টের পেয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অধিকাংশ থানা হাজত সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হলেও রূপনগর থানা হাজতের সেই ব্যবস্থাটি কিছুদিন ধরে নষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছেন রূপনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম রাব্বানী। তিনি জানান, কাউসার স্থানীয় একটি শাড়ি কাপড়ে নকশা তৈরির কারখানায় কাজ করত। তার গ্রামের বাড়ি বা বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।