আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৯-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

হাতের নাগালে রুপালি ইলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
| শেষ পাতা
রাজধানীর মাছের বাজারে শুধু ইলিশ আর ইলিশ। এ যেন বাজার নয় শুধু রুপালি ইলিশের মেলা। বাজারে যেন চলছে ‘ইলিশ উৎসব’। এমনকি বাজার ছাড়িয়ে পাড়া-মহল্লায়ও ফেরি করে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন অলিগলির মোড়েও ইলিশের ঢালি সাজিয়ে বিক্রেতাদের বসে থাকতে দেখা গেছে। আর ভরা মৌসুম হওয়ায় কম দামেই মিলছে বাঙালির সবচেয়ে পছন্দের এ মাছ। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, ইলিশের দাম বছরের অন্য সময়ের তুলনায় বেশ কম। এমনকি গত সপ্তাহের চেয়ে এ মাছের দাম কমেছে ২০ শতাংশের মতো। প্রতিটি প্রায় ১ কেজি ওজনের ইলিশও মিলছে হাজার টাকায়। মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক দিন ধরেই দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের নদী ও সাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ, যা ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে। দামও বছরের অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় কম হওয়ায় ক্রেতারাও ভিড় করছেন ইলিশের দোকানগুলোতে। এতে ক্রেতার সঙ্গে খুশি বিক্রেতারাও। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে ইলিশের এ আধিক্য থাকবে বড়জোর সপ্তাহ। কেননা, আগামী সপ্তাহ থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। কেননা, মা ইলিশের প্রজনন মৌসুম আশ্বিন মাসের পূর্ণিমার আগে ও পরে মোট এক মাস। এ সময়ের মধ্যেই মা ইলিশ নদীতে এসে ডিম দেয়। ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা হলে পরের বছর ইলিশের সংখ্যা কমে যায়। এজন্য মা-ইলিশ সংরক্ষণ ও ইলিশের প্রজনন নির্বিঘœ করতে আগামী ৭ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন প্রজননক্ষেত্রের সাত হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ এবং ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময়ে উপকূলীয় এলাকাসহ দেশের বেশিরভাগ নদীতেই মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। পূর্ব তেজকুনিপাড়া বাজারের মাছ বিক্রেতা আরিফ বলেন, কয়েকদিন ধরে ইলিশ বিক্রি বেশ জমজমাট। অনেকেই একসঙ্গে ১০ থেকে ২০ কেজিÑ এমনকি তার বেশিও কিনছেন। আবার দাম কম হওয়ায় ক্রেতারা অন্য মাছ ছেড়ে ইলিশের দিকেই ঝুঁকছেন। ক্রেতাদের চাহিদা ও মাছের সরবরাহ বেশি থাকার কারণে বিক্রেতারও অন্য মাছ বাদ দিয়ে ইলিশ বিক্রি করছেন। যাদের সামর্থ্য কম তারাও একটু বেশি দাম দিয়ে মাঝারি আকারের ইলিশ কিনে বাড়ি ফিরছেন। অনেকেই বেশি বেশি ইলিশ কিনে ফ্রিজে রাখছেন। তিনি বলেন, বাজারে এখন এক কেজির কাছাকাছি ওজনের ইলিশের হালি বিক্রি হচ্ছে ২৪০০-২৬০০ টাকায়, যা ১০ দিন আগেও ছিল ৩ হাজার টাকার উপরে। সব আকারের ইলিশের দামই কমেছে। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের হালি বিক্রি হচ্ছে ২২০০-২৩০০ টাকায়, কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮০০ টাকা; ৫০০-৬০০ গ্রামের ইলিশের কেজি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ৩৫০-৪০০ গ্রাম ওজনে ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। শুধু মাছই নয়, ইলিশের ডিমের চাহিদাও প্রচুর। কোনো কোনো ক্রেতা ডিম ছাড়া ইলিশ পছন্দ করছেন, আবার ডিমের ইলিশও কিনছেন অনেকে। মাছ কিনতে আসা মাহমুদ বলেন, তার পরিবারের সবাই ইলিশের মাছের পাশাপাশি ডিম বেশ পছন্দ করেন। বিশেষ করে, ইলিশের ডিমের ভুনা সবার পছন্দ। তাই বেছে বেছে ডিমওয়ালা ইলিশ কিনেছেন। ডিম ছাড়া ইলিশের চেয়ে ডিমওয়ালা মাছের দামও একটু কম। ইলিশ ছাড়া অন্য মাছের মধ্যে প্রতিকেজি রুই ২২০ থেকে ৩০০ টাকা, কাতল ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, মৃগেল ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এদিকে সবজির বাজারে প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকার শিমের দাম কমে ৮০ টাকায় নেমেছে। এছাড়া গাজর ৯০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, পটল, কাকরোল ও করলা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, ঢেঁড়শ ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, উচ্ছে (ছোট করলা) ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মুলা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, আলু ২২ থেকে ২৩ টাকা বিক্রি হয়েছে। মুদি পণ্য রয়েছে আগের মতোই। বাজারে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, আদা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, দেশি রসুন ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, দেশি ও ছোট দানার মসুর ডাল ৯০ থেকে ১০০ টাকা, বড় দানার মসুর ডাল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, বোতলজাত তেল প্রতি লিটার ১০৫ থেকে ১০৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে।