আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৯-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

ভোলায় আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

আলোকিত ডেস্ক
| সুসংবাদ প্রতিদিন
ভোলায় চলতি মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ বছর ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৪৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৫ হেক্টর জমি। এর মধ্যে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০ হেক্টর, স্থানীয় জাত ৪০ হাজার ৬৯৫ হেক্টর ও হাইব্রিড ৩০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। নির্ধারিত জমি থেকে ৪ লাখ ২২ হাজার ৮৬৪ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছে কৃষি বিভাগ। এছাড়া গেল বছর চাল উৎপাদন হয়েছিল ৪ লাখ ৯৩ হাজার ১০০ টন। খামারবাড়ি সূত্র জানায়, নির্ধারিত জমিতে আমন চাষের জন্য ১৫ হাজার ২১৯ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে উফশীর বীজতলা ৮ হাজার ৫৯০ ও স্থানীয় বীজতলা ৬ হাজার ৬২৯ হেক্টর জমি। আর আমন আবাদের জমির মধ্যে সদর উপজেলায় ২৫ হাজার ৫৪০ হেক্টর, দৌলতখানে ১৬ হাজার ৫৪৫, ১৮ হাজার হেক্টর হয়েছে বোরহানউদ্দিনে, তজুমুদ্দিনে ১২ হাজার ৮৫০, ২৩ হাজার ৫০০ লালমোহনে, চরফ্যাশনে ৭০ হাজার ৩৩০ ও মনপুরায় ১২ হাজার ৩১০ হেক্টর জমি রয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মৃত্যুঞ্জয় তালুকদার বাসসকে বলেন, জেলায় প্রকৃতিগতভাবেই একটু দেরিতে আমনের চাষ করা হয়। জুলাইয়ের শেষদিকে আমনের চারা রোপণ কার্যক্রম শুরু হয়ে আগস্টের শেষ পর্যন্ত চলে। আর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ফসল ঘরে তুলবেন কৃষক। আর জেলায় ৫০০ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। একইসঙ্গে আমনের পুরো জমিই পার্চিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। ফলে পোকামাকড়ের আক্রমণ এ বছর অনেকটাই কম। সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের বাঘমারা এলাকার কৃষক ঝিলন চৌকিদার, সেলিম মাতাব্বর ও হারুন হওলাদার বলেন, ভোলায় প্রতি বছরই আমন ধানের আবাদ ভালো হয়। তাই তারা প্রত্যেকে ২ একর করে জমিতে আমনের চারা রোপণ করছেন। এরই মধ্যে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়ে বর্তমানে ধানগাছ কুশি স্তরে রয়েছে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা সব ধরনের পরামর্শমূলক সেবা দিচ্ছেন বলেও জানান তারা। কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, জেলায় আমনের মধ্যে সাধারণত বিআর-১১, ২২, ২৩, ব্রি ধান-৩০, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪৪, ৪৬, ৫১, ৫২, ব্রি ধান ৭, ৬২ চাষ করা হয়। স্থানীয় জাতের মধ্যে রাজাশাইল, কাজলশাইল, মধুমালতি, কালাগোড়া, কালিজিরা ইত্যাদির চাষ বেশি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বীজতলা তৈরি, পরিমিত সার প্রয়োগ, রোগবালাই দমনে কীটনাশক ব্যবহার, সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কৃষককে পরামর্শমূলক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জেলায় আমনের বাম্পার ফলন হবে বলে জানান তিনি। সূত্র : বাসস